অপরাধ

বাইপাস রোডের সাধনা হোটেলে পুলিশের হানা, বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উদ্ধার, আটক মালিক অজিত দাস

প্রভাবশালীর হোটেলে পুলিশের হানা, বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উদ্ধার, আটক মালিক অজিত দাস আগরতলার পূর্ব থানার অন্তর্গত রবীন্দ্রনগর সংলগ্ন বাইপাস সড়কের পাশে অবস্থিত সাধনা হোটেলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উদ্ধার এবং হোটেলের মালিক অজিত দাসকে আটক করার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানের পর এলাকাজুড়ে অবৈধ মদের কারবার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাধনা হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দেশি ও বিদেশি মদের ব্যবসা চলছিল বলে অভিযোগ ছিল। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ সেখানে আসতেন এবং মদ কেনাবেচা ও মদ্যপানের আসর বসত বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বাইপাস সড়ক সংলগ্ন হওয়ায় হোটেলটিতে সহজেই বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াত ছিল এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের মালিক অজিত দাস স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এলাকায় বিভিন্ন মহলে তার যোগাযোগ থাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্রের খবর, সম্প্রতি সাধনা হোটেলে অবৈধ মদের ব্যবসা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের কাছে পৌঁছায়। রবিবার বিষয়টি পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক এবং সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায়ের নজরে আসে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায়ের নির্দেশে পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ এবং টিএসআর বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। রবিবার দুপুরে পুলিশ বাহিনী হঠাৎ করেই সাধনা হোটেলে পৌঁছে চারদিক ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হোটেলে থাকা অনেকেই সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। অভিযানকারী দল হোটেলের প্রতিটি কক্ষ, গুদামঘর এবং অন্যান্য অংশে তল্লাশি চালায়। দীর্ঘক্ষণ অনুসন্ধানের পর হোটেলের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ এবং কয়েকটি বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মদের পরিমাণ সম্পর্কে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে সূত্রের দাবি, পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তল্লাশির এক পর্যায়ে হোটেলের একটি কোণে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় মালিক অজিত দাসকে আটক করা হয়। পরে তাকে পূর্ব আগরতলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, সে বিষয়েও তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ মদ ব্যবসার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শুধু সাধনা হোটেল নয়, ভবিষ্যতে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখে আইন প্রয়োগে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। এদিকে এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে অবৈধ মদের কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড সামাজিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পূর্ব আগরতলা থানা সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং হোটেল মালিক অজিত দাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

Admin মে ৩১, ২০২৬ 0
ইন্সপেক্টর রানা চ্যাটার্জী
পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার পরিচয়ে আলোচনায় পশ্চিম থানার ওসি রানা চ্যাটার্জী

আগরতলা পশ্চিম থানার বর্তমান ওসি রানা চ্যাটার্জী দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরা পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, তদন্ত পরিচালনার দক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিচিত একটি নাম। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর পূর্ব থানা, এয়ারপোর্ট থানা, মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ি, বিশালগড় থানা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটি কর্মস্থলেই অপরাধ দমন ও তদন্তমূলক কাজে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চুরি, সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ, প্রতারণা এবং বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার তদন্তে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে সহকর্মীদের একাংশ মনে করেন। রানা চ্যাটার্জীর কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের মুম্বাই ইউনিটে তাঁর দায়িত্ব পালন। সেখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন তদন্তমূলক কাজে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন। তদন্তের ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, ঘটনাপ্রবাহের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন বলে জানা যায়। বর্তমানে পশ্চিম থানার দায়িত্বে থাকাকালীন চুরি, মাদক পাচার এবং বিভিন্ন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মামলায় দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ একটি সমষ্টিগত প্রক্রিয়া এবং এর পেছনে পুরো পুলিশ দলের অবদান থাকে, তবুও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা আলোচনায় এসেছে। সহকর্মী ও বিভিন্ন মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জটিল পরিস্থিতিতেও তিনি সাধারণত শান্ত ও সংযত থেকে কাজ করার চেষ্টা করেন। তদন্ত চলাকালীন চাপ বা প্রতিকূলতা থাকলেও প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো অনুসরণ করে এগোনোর প্রবণতা তাঁর মধ্যে দেখা যায়। এ কারণেই বিভিন্ন ধরনের মামলার অনুসন্ধানে তাঁকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পেশাগত ক্ষেত্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেন বলে অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান ও সহযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে সাংবাদিক মহলের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে, আইন প্রয়োগ, তদন্ত পরিচালনা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রানা চ্যাটার্জী বর্তমানে নিজের কাজের মাধ্যমে একটি পেশাদার ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় তুলে ধরছেন। তাঁর বর্তমান কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন অবশ্য সময় ও কাজের ধারাবাহিকতার ওপরই নির্ভর করবে।

Admin মে ৩১, ২০২৬ 0
প্রেম, ডি এম ম্যারেজ, তারপর নীরবতা: নতুন আইনে কী করতে পারেন প্রতারিত স্ত্রী?

ভালোবাসার সম্পর্ক। দীর্ঘদিনের কথা, প্রতিশ্রুতি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তারপর পরিবারের আপত্তি এড়িয়ে বা নিজেদের সিদ্ধান্তে ডি এম ম্যারেজ কিংবা কোর্ট ম্যারেজ। কিন্তু সম্পর্কের দু’বছর পার হতে না হতেই বদলে গেল সবকিছু। যে মানুষটি একদিন সারাক্ষণ খোঁজ নিতেন, তিনিই এখন ফোন ধরছেন না। মেসেজের উত্তর নেই। ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী বুঝতে পারছেন, স্বামী তাকে এড়িয়ে চলছেন এবং সম্পর্ক ভেঙে দিতে চাইছেন। বর্তমান সময়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে হওয়ার পর নানা কারণে অনেক দাম্পত্যে ভাঙন দেখা যাচ্ছে। তবে আইন বলছে, বৈধভাবে বিয়ে হয়ে গেলে সম্পর্কের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া এত সহজ নয়। ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর হওয়ার পরও স্ত্রীদের সুরক্ষায় একাধিক আইনি ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র ফোন না ধরা বা যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া নিজে থেকে অপরাধ না হলেও, এর সঙ্গে যদি মানসিক নির্যাতন, প্রতারণা, আর্থিক অবহেলা বা স্ত্রীকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করার বিষয় জড়িত থাকে, তাহলে স্ত্রী আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। এই ধরনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় গার্হস্থ্য হিংসা আইনের বিধান। সাধারণ মানুষের ধারণা, গার্হস্থ্য হিংসা মানেই মারধর। কিন্তু আইনে মানসিক নির্যাতন, অপমান, অবহেলা, সম্পর্ক থেকে হঠাৎ দূরে সরে যাওয়া বা স্ত্রীকে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলে রাখাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে স্ত্রী আদালতে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলতে পারেন। এছাড়াও ভরণপোষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী স্ত্রীকে ছেড়ে আলাদা থাকলেও, আইনি বিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীর আর্থিক দায়িত্ব পুরোপুরি এড়াতে পারেন না। আদালতের মাধ্যমে স্ত্রী মাসিক খোরপোষ দাবি করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে, বিয়ের আগেই স্বামীর অন্য সম্পর্ক ছিল অথবা প্রতারণার উদ্দেশ্যে বিয়ে করা হয়েছে। যদি এমন প্রমাণ সামনে আসে, তাহলে প্রতারণার অভিযোগও দায়ের করা সম্ভব। আবার প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় অন্যত্র বিয়ে করলে সেটিও গুরুতর আইনি সমস্যার কারণ হতে পারে। আইনজীবীদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রথমেই প্রমাণ সংগ্রহ জরুরি। ম্যারেজ সার্টিফিকেট, ফোনের মেসেজ, কল রেকর্ড, একসঙ্গে থাকার নথি বা সামাজিক স্বীকৃতির প্রমাণ ভবিষ্যতে মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সমাজ বদলাচ্ছে, সম্পর্কের ধরনও বদলাচ্ছে। কিন্তু আইনের চোখে বিয়ে শুধুমাত্র আবেগের সম্পর্ক নয়, এটি একটি আইনি ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও। তাই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কষ্ট যতই ব্যক্তিগত হোক, প্রতারিত বা পরিত্যক্ত স্ত্রীদের জন্য আইনের দরজা এখনও খোলা রয়েছে।

Admin মে ২৪, ২০২৬ 0
“ডিগ্রির কালোবাজারে কোটি টাকার সাম্রাজ্য! প্রভাবের ছায়ায় বেঁচে যাচ্ছে কারা?”

“ডিগ্রির দোকান, স্বপ্নের কবর!”—ত্রিপুরায় ফের উঠছে ভুয়া শিক্ষা ব্যবসার অভিযোগ। আর সেই অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে আসছে জয়ন্ত নামের এক ব্যক্তির নাম, যিনি নাকি বছরের পর বছর ধরে শিক্ষা ব্যবসার আড়ালে জাল সার্টিফিকেট ও ভুয়া ডিগ্রির কারবার চালিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অভিযোগ, রাজ্যের এক প্রভাবশালী পুলিশ আধিকারিকের ভাই হওয়ার সুবাদে বারবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেছেন তিনি। সূত্রের দাবি, টেট পরীক্ষার জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে মোটা টাকার বিনিময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দিত জয়ন্ত। এই সার্টিফিকেটের একটি বড় অংশ রাজ্যের বাইরের চক্রের মাধ্যমে তৈরি হত বলেও অভিযোগ। পরে রাজ্য সরকারের বিভাগীয় স্ক্রুটিনিতে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর নথি ধরা পড়তেই সামনে আসে পুরো চক্রের আভাস। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—তারপর? তদন্ত কি শেষ পর্যন্ত প্রভাবের দেয়ালে আটকে গেল? অভিযোগ আরও গুরুতর। কৃষ্ণনগর এলাকার এক তথাকথিত “বিদ্যা ব্যবসায়ী”-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে দীর্ঘদিন ধরে কালো টাকার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন জয়ন্ত। ভুয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে যুবক-যুবতীদের চাকরির স্বপ্ন দেখানো, পরে জাল সার্টিফিকেট ধরিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়া—এ যেন এক নতুন ধরনের প্রতারণার শিল্প! সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এভাবে কত ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে? গরিব পরিবারের সন্তানরা শেষ সম্বল বিক্রি করে ডিগ্রি কিনে আজ প্রতারিত—তার দায় কে নেবে? শুধু কি কয়েকজন “ছোট মাছ” ধরা পড়লেই দায় শেষ? নাকি প্রভাবশালী যোগাযোগ থাকলেই সব অপরাধ ধুয়ে-মুছে যায়? রাজ্যে যখন স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের বড় বড় দাবি করা হয়, তখন শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে এমন “ডিগ্রি সিন্ডিকেট” চলতে পারে কীভাবে—তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সাধারণ মানুষের কটাক্ষ, “ত্রিপুরায় এখন কি পড়াশোনা নয়, ডিগ্রিও বাজারে বিক্রি হয়?”

Admin মে ২২, ২০২৬ 0
শিলচরে প্রতারণার অভিযোগে বাড়ি সিল-মোহর, বাড়ী মালিক সত্যজিৎ শর্মা পলাতক

শিলচরের দাস কলোনির এক বাড়ির মালিক সত্যজিৎ শর্মার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে শিলচর  আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেলে ওই বাড়িটি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে সিল-মোহর করে তালাবদ্ধ করা হয়েছে। বায়নাকারী স্বপন ঘোষ অভিযোগ করেন ২০১৭–২০১৮ সালে অসুস্থতার অজুহাতে কয়েক দফায় নগদ গ্রহণ করে জমির আনুমানিক মূল্যের প্রায় তিন শতাংশ দাবি করেছিলেন; একই পদ্ধতিতে অন্যদের কাছেও অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুই বছরের বিচারপ্রক্রিয়ার পর আদালত নির্দেশ দিয়েছে সম্পত্তি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের হেফাজতে থাকবে। সত্যজিৎ বর্তমানে পলাতক; আদালত ও তদন্তকারী সংস্থা মালিকানা নির্ধারণে তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

Admin মে ২০, ২০২৬ 0
যারা কোটি কোটি টাকার মাদক কারবারি তারা এখনো অধরা !

রাজধানীর বুকে প্রকাশ্যে চলছিল মাদকসেবনের আসর। সেটেলমেন্ট অফিসের উল্টোদিকে দিনের আলোতেই নেশার ইনজেকশন পুশ, ব্রাউন সুগার সেবন— যেন কোনও ভয়ই নেই কারও। অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ব থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয় যুবককে আটক করেছে। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম শফিক রহমান, যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ড্রাগস বিক্রির অভিযোগ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই ব্রাউন সুগারের কৌটা উদ্ধার হয়েছে। কেউ পকেটে, কেউ টুপির নিচে, আবার কেউ রিকশার সিটের ভেতরে লুকিয়ে রেখেছিল মাদক। পূর্ব থানার সাব-ইন্সপেক্টর নারায়ণ দেব জানান, “এখানে নিয়মিত ড্রাগস সেল হতো বলে খবর ছিল। মোট ১৮০টি হেরোইনের কৌটা উদ্ধার হয়েছে। ধৃতরা সবাই রিকশাচালক। নিজেরা নেশা করে, আবার বিক্রিও করে।” স্থানীয়দের বক্তব্য আরও বিস্ফোরক। অভিযোগ, এলাকায় বহুদিন ধরেই প্রকাশ্যে মাদকের কারবার চলছে। আশপাশের কয়েকটি হোটেলে গোপনে ব্রাউন সুগার বিক্রি হয়, রুম বুক করে চলে নেশার আসর। প্রশ্ন উঠছে— এতকিছু পুলিশের অজানা ছিল? যদি খবর আগেই থাকে, তাহলে মূল চক্র এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে কেন? বাসিন্দাদের দাবি, এর আগেও একই এলাকায় একাধিকবার যুবকদের মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই ধরা পড়ছে শুধু খুচরো কারবারি আর নেশাগ্রস্ত যুবকরা। যারা কোটি টাকার এই মাদকচক্র চালায়, সেই মাস্টারমাইন্ডরা থেকে যাচ্ছে নিরাপদে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছেই। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে যদি এভাবে প্রকাশ্যে মাদকের ব্যবসা চলে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠবেই। পুলিশ কি শুধুই নিচুতলার বাহকদের ধরেই দায় সারছে? নাকি আসল মাথাদের ধরতে কোথাও অদৃশ্য চাপ কাজ করছে? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে শহরজুড়ে।

Admin মে ২০, ২০২৬ 0
জিবি হাসপাতালের ‘গোপন কক্ষ’-এ ধর্ষণের অভিযোগ: দেড় বছর পর মুখ খুললেন নির্যাতিতা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠল একাধিক প্রশ্ন

রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র জিবি হাসপাতালকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন এক নির্যাতিতা মহিলা। দেড় বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন দফতরের দ্বারস্থ হওয়ার পর অবশেষে তিনি গণমাধ্যমের সামনে এসে অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের বায়োমেডিক্যাল বিভাগের টেকনিশিয়ান শতরাজ কর্মকার তাকে ব্ল্যাকমেল করে ধর্ষণ করেছে এবং পরে পুলিশ প্রশাসনের একাংশ অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে। নির্যাতিতার বক্তব্য অনুযায়ী, শতরাজ কর্মকারের কাছে তার একটি ব্যক্তিগত নগ্ন ভিডিও ছিল। সেই ভিডিও দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিক চাপে রাখা হচ্ছিল। অবশেষে ভিডিওটি ডিলিট করানোর উদ্দেশ্যে তিনি জিবি হাসপাতালের ভেতরে শতরাজের কাছে যান। অভিযোগ, সেখানে তাকে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। মহিলার দাবি, ঘটনার প্রতিবাদ করতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শতরাজ কর্মকার নাকি দুইজন সিকিউরিটি গার্ডকে ডেকে এনে তাকে মারধর করায় এবং আটকে রাখে। শুধু তাই নয়, ঘটনাকে উল্টে দেওয়ার জন্য তাকে “চোর” আখ্যা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। নির্যাতিতার অভিযোগ, রাতুল দে নামের এক ব্যক্তি তাকে প্রকাশ্যে চোর বলে অপমান করেন। অসহায় অবস্থায় তিনি ১০০ এবং ১০৯১ নম্বরে ফোন করেন। তার দাবি, ১০০ নম্বরে ফোন করার পর দ্রুত সাড়া মেলে এবং জিবি আউটপোস্টের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এএসআই রসরাজ দেবনাথ তাকে উদ্ধার করে জিবি আউটপোস্টে নিয়ে যান। পরে তিনি পূর্ব মহিলা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় আরেক লড়াই। নির্যাতিতার অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানালেও তা প্রথমদিকে রেজিস্টার করা হচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে তিনি এসপি অফিসে যান। এরপর থেকেই পূর্ব মহিলা থানার তৎকালীন ওসি শকুন্তলা দেববর্মা ও দীপা দাস চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তার কথায়, “আমাকে বলা হয় আমার বিরুদ্ধেই চুরির মামলা দেওয়া হবে।” ঘটনার তদন্ত নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতা। তিনি বলেন, আদালতে মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হলেও যারা তাকে মারধর ও আটকে রেখেছিল, তদন্তে তাদের নাম বাদ পড়ে যায়। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অভিযোগ, ঘটনার দিন থেকে তার মোবাইল ফোন থানার হেফাজতে থাকলেও আজ পর্যন্ত তা ফেরত দেওয়া হয়নি। নির্যাতিতা আরও দাবি করেন, এতদিন তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেননি শুধুমাত্র পুলিশের চাপে। তার অভিযোগ, পূর্ব মহিলা থানার পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছিল মিডিয়ার কাছে গেলে তিনি কোনও বিচার পাবেন না। এমনকি ঘটনার দু’দিন পর এসপি-র সঙ্গে দেখা করার পর তার বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ এসেছে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর। নির্যাতিতার দাবি, এরপর থেকেই নিরুপা দে নামে এক মহিলা পুলিশ আধিকারিক তার সঙ্গে “খুব বাজে ব্যবহার” করতে শুরু করেন। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। প্রথমত, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরও কেন দ্রুত এফআইআর রেজিস্টার করা হয়নি? দ্বিতীয়ত, নির্যাতিতার অভিযোগ অনুযায়ী মারধর ও বেআইনিভাবে আটকে রাখার ঘটনায় জড়িতদের নাম কেন তদন্তে বাদ পড়ল? তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোন থানার হেফাজতে রেখে দেওয়ার কারণ কী? এছাড়া, একজন নির্যাতিতা যদি বারবার দাবি করেন যে তাকে “মিমাংসা” করার চাপ দেওয়া হয়েছে এবং উল্টে ভয় দেখানো হয়েছে, তাহলে তা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তোলে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের প্রথম দায়িত্ব হল অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করা। কিন্তু এখানে অভিযোগ উঠছে, নির্যাতিতাকেই উল্টে অভিযুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে। যদি অভিযোগগুলি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি ধর্ষণের মামলা নয়, বরং প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনিক গাফিলতির এক ভয়ংকর উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। দেড় বছর পর নির্যাতিতার প্রকাশ্য বিস্ফোরক অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। এখন প্রশ্ন একটাই — আদৌ কি নিরপেক্ষ তদন্ত হবে, নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনাও চাপা পড়ে যাবে?

Admin মে ২০, ২০২৬ 0
পৃথিবীর সবথেকে ভয়াবহ রেপ কেস আজমের রেপ কেসের(250 এর বেশি নাবালিকা ধর্ষিত )অবশেষে ফয়সালা শোনালেন বিচারক।

পৃথিবীর সবথেকে ভয়াবহ রেপ কেস আজমের রেপ কেসের(250 এর বেশি নাবালিকা ধর্ষিত )অবশেষে ফয়সালা  শোনালেন বিচারক।              আজমের রেপ কেস পৃথিবীর সবথেকে জঘন্যতম ঘটনা বলে মনে করি। নতুন প্রজন্মই শুধু নয় , বয়স্ক লোকেদের অনেকেই হয়তো এই ঘটনা সম্পর্কে জানে না। কারণ তখন মিডিয়া অতোটা সক্রিয় ছিল না।            সাল 1992 ,, আজমেরের বিখ্যাত সরকারি কলেজের( সোফিয়া গার্লস কলেজ) এবং আশপাশের স্কুলের প্রায় 250 এর বেশি ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগত ব্লাকমেইল করে রেপ করতে থাকে তৎকালীন আজমের জেলা কংগ্রেসের যুব সভাপতি ফারুক চিস্তি এবং তার সহযোগীরা মিলে। এই মেয়েদের সবার বয়স 11 থেকে 20 বছরের মধ্যে। উল্লেখ্য এই ধর্ষকরা সবাই আজমের শরীফের খাজা মঈনুদ্দিন চিস্তির পরিবারের লোকজন এবং যতদূর মনে পড়ে এদের মধ্যে ফারুক চিস্তি আজমের শরীফের তৎকালীন খাদেম ছিল। কেস ফাইল হওয়ার পর দীর্ঘদিন এরা লুকিয়ে থাকে। কেউ বিদেশে পালায় তো কেউ বোরখার মধ্যে লুকিয়ে ঘুরে বেড়ায়। মোট 12 জনের নামে কেস ফাইল হয়। অবশেষে 2003 সালে কয়েকজন বুরখার মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় ধরা পড়ে। মনমোহন সরকারের আমলে 2005 এ এরা জামিনে ছাড়া পায় এবং সাক্ষী মেয়েদের ভয় দেখাতে থাকে। এখনও বেশ কয়েকজন পলাতক। অবশেষে আদালত ছয়জনের নামে আজীবন কারাবাসের সাজা শোনালো।           মূল ঘটনা ::--                        সাল 1992 , আজমের জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি ফারুক চিস্তি আজমের কলেজের এক হিন্দু পড়ুয়া ছাত্রীর সাথে প্রথমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং কিছুদিন পর মেয়েটিকে তাদের আধুনিক ফার্ম হাউজ দেখানোর জন্য ফার্ম হাউজে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ফারুকের সহযোগীরা ক্যামেরা নিয়ে অবস্থান করছিল। মেয়েটি ফার্ম হাউজে পৌঁছলেই ফারুক এবং তার বন্ধুরা মিলে ধর্ষণ করে এবং মেয়েটির উলঙ্গ অপ্রীতিকর ছবি তুলে নেয়। এরপর থেকেই শুরু হয় সিরিয়াল রেপের সিলসিলা। মেয়েটিকে তার ছবি দেখিয়ে ব্লাকমেইল শুরু হয় এবং ছবি বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রতিদিন তাকে রেপ করতে থাকে। কিন্তু এতে তারা সন্তুষ্ট হয়নি, ওকে ভয় দেখিয়ে ওকে দিয়ে অন্যান্য মেয়েদের ফার্ম হাউজ দেখাতে আনতে বলা হয়। মেয়েটি বাধ্য হয়ে এই কাজ করে। এরফলে অন্যান্য মেয়েরাও রেপ হতে থাকে এবং যথাযথ ভাবে তাদের ফটো তুলে তাদেরকেও একই ভাবে ব্ল্যাকমেইল করে তাদের মাধ্যমে অন্যান্য মেয়েদের আনিয়ে রেপ করা হয়। ধর্ষকদের পছন্দের ছোটো ছোটো স্কুলের বাচ্চা মেয়েদের পর্যন্ত এভাবেই রেপ হতে থাকে। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতো না। কারণ ধর্ষকরা সবাই প্রভাবশালী আজমের দরগাহর এবং কংগ্রেসী নেতা। যতদুর জানা যায় কিছু মেয়ে এই ঘটনার পর আত্মহত্যা করে। সাহস করে কয়েকজন মেয়ে বাড়িতে জানালেও সবাই লোকলজ্জার ভয় এবং প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কেস লড়তে সাহস পায়নি। অবশেষে তৎকালীন DYSP ‍হরিপ্রসাদ শর্মা ( সম্ভবত তার নিকট আত্মীয়ের কোনো মেয়ে এই কেসে জড়িয়ে পড়েছিল) কয়েকজন মেয়েকে দিয়ে এফআইআর দর্জ করায় এবং হরিপ্রসাদ শর্মা নিজে এই কেস হ্যান্ডেল করতে থাকেন। তারপর দীর্ঘ 32 বছর পেরিয়ে গেছে,,, অনেক মেয়েই সুইসাইড করেছে,, অনেকেই চেপে গেছে। তবুও অবশেষে হিন্দু সংগঠনের হস্তক্ষেপে প্রমাণ সহ প্রায় 100 জন মেয়ে এগিয়ে এসে সাক্ষী দেয়। দীর্ঘ 32 বছর পর আদালত ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে 5.5 লাখ টাকা জরিমানা করে। এই ছয় জনের নাম -- নফীস চিস্তি, নসীম চিস্তি, সলীম চিস্তি, ইকবাল ভাটী, সোহেল গনী চিস্তি, সৈয়দ আমীর হোসেন। অন্যান্য বেশ কয়েকজন অপরাধী এর আগেই মারা গেছে এবং কয়েকজন বিদেশে পলাতক।   

Admin মে ১৭, ২০২৬ 0
“পাঁচ কোটির প্রতারণা! অভিযুক্তের স্বামী পুলিশ কনস্টেবল, তদন্তে উঠছে প্রশ্ন”

রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।

Admin মে ১৬, ২০২৬ 0
রাহুলের মা ও স্ত্রী
পুলিশি তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেন রাহুলের স্ত্রী এবং মা

ধর্মনগরের শাসক দলীয় যুব মোর্চার প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি তথা স্থানীয় কাউন্সিলর রাহুল কিশোর রায়ের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে রাহুলের মা ও স্ত্রী পুলিশের তদন্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার এতদিন পরেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি এবং তদন্ত সঠিক পথে এগোচ্ছে না। পরিবারের দাবি, রাহুলের মৃত্যুর পেছনে একাধিক ব্যক্তির যোগসাজশ থাকতে পারে। তারা বলেন, যেদিন রাহুল মারা যান, সেদিন দুপুরে এবং পরে রাতে তাদের বাড়িতে দু’দফা হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা বাড়িতে এসে রাহুলকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে এবং পরিবারকে ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় রাহুলের বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিবারের বক্তব্য, পুরো পরিস্থিতি মানসিকভাবে ভেঙে দেয় রাহুলকে। সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুলের মা দাবি করেন, যারা বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল তারা সবাই শাসক দলের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি অভিযুক্তদের অনেককেই রাহুল নিজেই শাসক দলে যোগদান করিয়েছিলেন বলে তিনি জানান। ফলে এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাব থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন পরিবারের সদস্যরা। এদিন রাহুলের স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ রাহুলের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং সেটি চালুও করেছে। তবে মোবাইলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, কল রেকর্ড বা অন্যান্য প্রমাণ সুরক্ষিত আছে কিনা তা নিয়ে তাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। পরিবারের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চান। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাহুল কিশোর রায়ের পরিবারের সদস্যরা।

Admin মে ১৬, ২০২৬ 0
মার্ক দেববর্মা
৩৬ লক্ষ টাকা ঘোটালা কাণ্ডে ধৃত ব্যাঙ্কের সহকারী ম্যানেজার, জোরদার জেরা পুলিশের

৩৬ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগে ধৃত ভারতীয় ব্যাঙ্কের গোরক্ষা বস্তি শাখার সহকারী ম্যানেজারকে জোরদার জেরা চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযোগ, ব্যাঙ্কের আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তাঁর নাম সামনে আসে। প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর আগের ঘটনা এটি। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা ব্যাঙ্কের নথিপত্র ও লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে।

Admin মে ১৩, ২০২৬ 0
TSR কর্মী স্বামী ও সন্তানকে ফেলে যুবকের সঙ্গে উধাও গৃহবধূ, এক মাসেও খোঁজ নেই॥

ত্রিপুরার ধলাই জেলায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। অভিযোগ, TSR-এ কর্মরত স্বামী ও সন্তানকে রেখে এক যুবকের হাত ধরে বাড়ি ছেড়েছেন ওই মহিলা। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায়ই একটি বীমা সংস্থার কাজের অজুহাতে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতেন মহিলা। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে পরিবারের সন্দেহ বাড়তে থাকে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই যুবকের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক চলছিল তার। হঠাৎ একদিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান ওই গৃহবধূ। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু প্রায় এক মাস কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত মহিলার কোনও সন্ধান মেলেনি বলে দাবি পরিবারের। এদিকে স্ত্রী ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম মানসিক ভেঙে পড়েছেন TSR কর্মী স্বামী। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ এখনও পর্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি। ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও মহিলার সন্ধান দাবিতে ক্ষোভ বাড়ছে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে।

Admin মে ৯, ২০২৬ 0
বিয়ের আসরে মর্মান্তিক মৃত্যু নববধূর ll শোকে পাথর মৃতার পরিবার ll

ফের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে l বিয়ের মন্ডপে মালা বদলের পর মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু হয় নববধূ আয়েশা দেববর্মার। ঘটনা রবিবার রাতে। এদিন রাতে চড়িলাম ব্লকের রামনগর ভিলেজের পাগলী বাড়ি এলাকার টি এস আর এ কর্মরত বুদ্ধ দেববর্মা তার একমাত্র ছেলে সন্তান খাপাং দেববর্মাকে বিয়ে করানোর জন্য বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিলেন প্রায় 100 জন আত্মীয়-স্বজন এবং বর যাত্রী নিয়ে। মেয়ের বাড়ি চেলিখলা এলাকায়। একদিকে বরযাত্রীরা খাওয়া খাদ্য করছে অপরদিকে বিয়ে চলছে। বিয়ের মন্ডপে মালা বদলের পর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নববধূ। সঙ্গে সঙ্গে তাকে আগরতলা জিবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। সোমবার দুপুরে রামনগর পাগলী বাড়িতে বৌভাত অনুষ্ঠান হওয়ার কথা l গোটা গ্রাম নিমন্ত্রিত। এরই মধ্যে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা l গোটা গ্রাম সুখে পাথর l

Admin মে ৫, ২০২৬ 0
আইজলে লোন কেলেঙ্কারির পরিমাণ ১৪৬-৬৭ কোটি,স্ত্রী-শ্যালকের নামে-বেনামী সম্পত্তি শিলচর- গুয়াহাটিতেও

আইজলে ভূতুড়ে ক্রেতা দিয়ে গাড়ি কেনার লোন কেলেঙ্কারিতে বিশেষ আদালতে প্রসিকিউশন কম্পলেন (পিসি) জমা করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের গুয়াহাটি জোন। আগেই গুয়াহাটি শিলচর নগাঁও বালিপারা এবং  তেজপুরে অভিযুক্তদের ৩২ কোটির সম্পত্তি অ্যাটাচড্ করা হয়েছিল। পিসি জমা করে ইডি জানিয়েছে যে কেলেঙ্কারির পরিমাণ হচ্ছে ১৪৬-৬৭ কোটি টাকা। মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা ফাইনান্স লিমিটেডের তৎকালীন এরিয়া বিজনেস ম্যানেজার জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা কিভাবে এত বড় কেলেঙ্কারি সংঘটিত করেছে তার পুরো চিত্র পিসিতে তুলে ধরেছে ইডি।        এতে আইজলের মেসার্স সিকে কার্স,মেসার্স রাফাল নিশান,মেসার্স এইদিউ মোটরর্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং মেসার্স ন্যাশনেল বিজনেস এন্টারপ্রাইজ নামের চার ডিলারকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আইজলের এইচ লালথাংকিমা, এডেনতারা এবং জাকির সহযোগী প্রলয় দাসও অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন। অর্থ হড়প করতে জাকির একা ৬০০ টি এবং তার সহযোগী প্রলয় দাস ১২০০ টি ভূয়ো অ্যাকাউন্ট সৃষ্টি করেছিলেন বলে জবানবন্দি দিয়েছেন। সবকটি অ্যাকাউন্টের প্যানকার্ড,আধার কার্ড,ভোটার আইডি কার্ড ভূয়ো ছিল বলে ভাষ্য ইডি-র।

Admin মে ২, ২০২৬ 0
খয়েরপুরে মাদকের সাম্রাজ্য: প্রশাসনের নীরবতা, ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ

ত্রিপুরার খয়েরপুর বিধানসভা কেন্দ্র আজ এক ভয়ংকর বাস্তবতার মুখোমুখি—পুরো এলাকা কার্যত মাদক কারবারিদের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে এখানে গড়ে উঠেছে এক সুসংগঠিত মাদক চক্র, যা দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। খয়েরপুরের তুলা কোনা ফুড পার্ক—যা একসময় শিল্পোন্নয়নের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল—আজ তা মাদক মজুতের ‘নিরাপদ গুদামঘর’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ। ব্রাউন সুগার, ইয়াবা, গাঁজা, কোকেন, এসকাপ—প্রায় সব ধরনের মাদকদ্রব্যই এখানে অবাধে মজুত রাখা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ফুড পার্কে পুলিশের উপস্থিতি কার্যত নেই বললেই চলে। ফলে কারবারিরা নির্ভয়ে তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, ফুড পার্কের পেছনের বড় গেটটি—যা একসময় তালাবদ্ধ ছিল—২০১৮ সালের পর থেকে ডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। অথচ এত বড় ঘটনা ঘটলেও আজ পর্যন্ত কোনও মামলা রুজু হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, কার স্বার্থে এই নীরবতা? কেন প্রশাসন চোখ বন্ধ করে রয়েছে? এই অঞ্চলে অতীতেও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে। প্রাক্তন এসডিপিও পিয়া মাধুরী মজুমদারের সময় কয়েক হাজার কেজি গাঁজা উদ্ধার হলেও, আশ্চর্যজনকভাবে কোনও বড় গ্রেফতারির খবর সামনে আসেনি। বরং অভিযোগ, সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি বর্তমানে বাইপাস সড়কের ব্যবসাকে কাজে লাগিয়ে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, মাদক চক্র কতটা গভীরে প্রোথিত এবং কতটা শক্তিশালী। খয়েরপুর বাইপাস এখন মাদক কারবারের ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের কথায়, “যারা রাত জেগে বাইপাসে থাকে, তারাই কোটিপতি হয়”—এই কথাটিই নাকি এখানে প্রচলিত বাস্তবতা। সন্ধ্যা নামলেই এই সড়ক কার্যত কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এমনকি দিনের বেলাতেও তারা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে রাখে বলে অভিযোগ। রাজ্যের বাইরে থেকে আগরতলায় আসা মাদক প্রথমে এই বাইপাস সংলগ্ন গুদামগুলিতে মজুত করা হয়। এরপর সেগুলি একাংশ দেশে ছড়িয়ে পড়ে, আবার কিছু অংশ বাংলাদেশে পাচার করা হয়। খয়েরপুর থেকে আমতলী থানা এলাকা পর্যন্ত এই পাচার চক্র অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করছে বলে অভিযোগ। ফলে গোটা এলাকাই একটি ‘ট্রানজিট করিডোর’-এ পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে খয়েরপুরের বিধায়ক Ratan Chakraborty নিজেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন যে, বাইপাসকে ঘিরে মাদক কারবার বাড়ছে এবং কিছু এলাকায় নাকা চেকিং জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ও পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও তুলেছিলেন। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী Manik Saha-র দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও, বাস্তবে তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের মতে, “সর্ষের মধ্যেই ভূত” রয়েছে—অর্থাৎ প্রশাসনের ভেতরেই কোথাও না কোথাও গলদ রয়েছে। না হলে এত বড় আকারে মাদক কারবার চললেও কেন বড় কোনও অভিযান বা মাস্টারমাইন্ডদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না? এই প্রশ্ন এখন জনমানসে ঘুরপাক খাচ্ছে। বণিক্য চৌমুহনী থেকে শুরু করে চন্দ্রপুর, ধূপছড়া, তুলা কোনা, দেবরাম ঠাকুরপাড়া, পুরাতন আগরতলা—প্রায় সর্বত্রই মাদকের প্রভাব বিস্তার করেছে। একসময়ের শান্ত এলাকা আজ অপরাধের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুবসমাজ। নেশার কবলে পড়ে বহু তরুণ তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে, পরিবারগুলি ভেঙে পড়ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ একাধিকবার আওয়াজ তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার কাছে আবেদন জানিয়ে তারা মাদকমুক্ত খয়েরপুর গড়ার দাবি তুলেছে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি তো দূরের কথা, বরং আরও অবনতি ঘটছে বলে অভিযোগ। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, যারা এই মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করছে, তারাই নানাভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছে। ফলে আতঙ্কের পরিবেশে কেউই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে—এই পরিস্থিতির শেষ কোথায়? প্রশাসন কি এখনও জেগে উঠবে, নাকি খয়েরপুর পুরোপুরি মাদক সাম্রাজ্যে পরিণত হবে? এখনই যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামী প্রজন্মকে বাঁচানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে—এমনটাই আশঙ্কা সচেতন মহলের।

Admin মে ২, ২০২৬ 0
প্রাণবল্লভ দাস
প্রাণবল্লভ দাসের বিরুদ্ধে শক্ত ধারা প্রয়োগ করেছে সোনামুড়া থানা

দক্ষিণ ত্রিপুরার সোনামুড়া এলাকায় নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের অভিযোগকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় কুখ্যাত অভিযুক্ত প্রাণ বল্লভ দাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে সোনামুড়া থানার পুলিশ। থানার ওসি তাপস দাসের নেতৃত্বে দায়ের হওয়া মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩-এর ৬৪(২)(f)(m), ১০৩(১), ৬১(২)(a), ৩(৫) ধারা এবং পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নাবালিকার উপর ধর্ষণ, জঘন্য যৌন নির্যাতন, খুন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই কারণে BNS-এর ৩(৫) ধারায় একাধিক ব্যক্তির যৌথ অংশগ্রহণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের দিকটি বিবেচনায় রেখে ৬১(২)(a) ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মামলায় সব অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের জন্য অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। বিশেষ করে নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন ও খুনের মতো অপরাধে আজীবন কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারাও এই মামলাকে আরও সংবেদনশীল ও গুরুতর করে তুলেছে। এদিকে, পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে আদালতে শক্তিশালী চার্জশিট পেশ করার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোনামুড়া সহ আশেপাশের এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, এমন জঘন্য অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

Admin মে ২, ২০২৬ 0
অভিযুক্ত প্রাণবল্লড দাস এবং তার স্ত্রী
চন্দনমুড়ায় নাবালিকা ধ র্ষ ণ-খু ন: দাদুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

সোনা মুড়া থানার চন্দনমুড়া এলাকায় নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অভিযুক্ত দাদুর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। জানা গেছে, মৃত নাবালিকার মা আগে থেকেই মারা গিয়েছিলেন এবং তার বাবা জীবিকার তাগিদে রাজ্যের বাইরে কাজ করতেন। এই একাকিত্বের সুযোগ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নৃশংসভাবে তাকে খুন করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক ধারণা। এই ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে Case No-2026/SNM/036, U/S-64(2)(f)(m)/103(1)/61(2)(a)/3(5) of BNS Act-2023 এবং U/S-06 of POCSO Act-2012 অনুযায়ী। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে। এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশু সুরক্ষা ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতে, দ্রুত বিচার ও দোষীর কঠোর শাস্তিই এই ধরনের জঘন্য অপরাধ রোধে সবচেয়ে বড় বার্তা হতে পারে।

Admin মে ২, ২০২৬ 0
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ, শ্রীনগর থানার জালে যুবক

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক নি*/র্যা*তনের অভিযোগ, শ্রীনগর থানার জালে যুবক আগরতলা-র শ্রীনগর থানা এলাকায় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে আসছিল অভিযুক্ত। কিন্তু যখনই মেয়েটির তরফে বিয়ের কথা তোলা হচ্ছিল পশ কেটেযা চ্ছিল যুবক। জানা গেছে, প্রায় ১০ বছরের সম্পর্কের পর এই অভিযোগ সামনে আসে। অভিযুক্ত অঙ্কিত বর্মনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। জানা গেছে অভিযুক্তের মোবাইলে মেয়েটির বেশ কিছু ছবি রয়েছে যেগুলি সে বরাবর সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেছে মেয়েটিকে তার সম্পর্কের বিশ্বাস যোগ্যতা দেওয়ার জন্য। তাকে শনিবার আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।  

Admin মে ২, ২০২৬ 0
বিশালগড়ে পুলিশের বড় সাফল্য: গুলি কাণ্ডে তিনটি পিস্তল উদ্ধার, গ্রেফতার রণবীরের সহযোগী

বিশালগড় থানা এলাকার মুড়াবাড়িতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। গুলি কাণ্ডের তদন্তে উদ্ধার হয়েছে মোট তিনটি পিস্তল এবং গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত রণবীরের সহযোগী পরিমল দাস নামে এক যুবককে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিশালগড় থানার পুলিশ মুড়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের শুরুতেই গ্রেফতার করা হয় পরিমল দাসকে। তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করার পর পুলিশ মুড়াবাড়ির সুখলাল সাহার টিলা সংলগ্ন একটি রাবার বাগানের পরিত্যক্ত স্থানে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি পিস্তল। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। এরপর পুরো এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়। তদন্তের অগ্রগতিতে পরিমলের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত রণবীরকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ আবারও গভীর রাতে অভিযান চালায়। বিশালগড় সেন্ট্রাল জেলের পেছনের জঙ্গলে একটি পরিত্যক্ত মাটির ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আরও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এদিকে, রণবীরকে ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন থাকলেও জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা জানিয়েছেন, রণবীর মানসিক ভারসাম্যহীন নন। মেডিকেল পরীক্ষায় তা প্রমাণিত হয়েছে এবং তদন্তে সে পুলিশকে সহযোগিতা করছে। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল অস্ত্রের উৎস এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুরো ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এলাকায়।

Admin মে ১, ২০২৬ 0
বুল্টি সূত্রধর
বাথরুমে এক গৃহবধুর মর্মান্তিক মৃত্যু ll মা হারাল দুই সন্তান ll

ফের মর্মান্তিক দূর্ঘটনা l বাথরুমে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হল ! মৃতা বুল্টি সূত্রধরের মায়ের অভিযোগ তাকে খুন করা হয়েছে!! বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় আগরতলা বড়জলা এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দেয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক এদিন জানালেন গৃহবধূ বুল্টি সূত্রধরকে যখন আগরতলা জি বি হাসপাতালে আনা হয় তখন তাকে পরীক্ষা করে দেখেন গৃহবধূ মৃত। তাকে পোস্ট মর্টেম এর জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর পরই মৃত্যুর আসল কারন সম্পর্কে জানা যাবে। তিনি জানিয়েছেন মৃতার স্বামীর মতে তিনি তাকে বাথরুমে পড়ে থাকতে দেখেছেন। এদিকে মৃতার মায়ের অভিযোগ তার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে । এদিন তিনি হাসপাতালে এ ব্যাপারে আত্ম চিৎকার করছিলেন। যদিও মৃতার স্বামী জানান তিনি যখন তার স্ত্রীকে বাথরুম থেকে উদ্ধার করতে যান তখন তার হাতে বাথরুমের দরজায় বিদ্যুতের ছোবল লাগে। এর পর তিনি বিদ্যুতের লাইন অফ করেন। এদিকে দেখা যায় বৃহস্পতিবার যখন গৃহবধূকে হাসপাতালে আনা হয় এই সময় তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গায়ের চামড়া ঝলসানো অবস্থায় ছিল। যদিও তা ময়না তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে l

Admin মে ১, ২০২৬ 0
কাছাড়ে ট্রেডিং প্রতারণা কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত জয়দীপ দত্ত গ্রেফতার, শ্রীভূমির সঙ্গে যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ

কাছাড় জেলায় বহুদিন ধরে চলা বহুচর্চিত ট্রেডিং প্রতারণা কাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। এই মামলার মূল অভিযুক্ত জয়দীপ দত্তকে অবশেষে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে কাছাড় পুলিশ। অভিযোগ, তিনি একটি সুপরিকল্পিত চক্রের মাধ্যমে বহু বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ইতিমধ্যেই তাকে Silchar Police Station Case No. 390/26-এর সঙ্গে যুক্ত মামলায় আদালতে পেশ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে এবং খুব শীঘ্রই আরও গ্রেফতার হতে পারে। এদিকে, তদন্ত চলাকালীন উঠে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের দাবি, শ্রীভূমি জেলাতেও একই ধরনের একটি ট্রেডিং প্রতারণার ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে আগরতলার একটি গোষ্ঠীর নাম জড়িয়ে পড়েছে। সেই ঘটনাতেও একাধিক মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। দুই জেলার এই প্রতারণা চক্রগুলির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক মুনাফার প্রলোভন দেখানো কোনও বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ লগ্নি করার আগে যথাযথ যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হতে হয়।

Admin এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
Popular post
একটি অনুষ্ঠানের জন্য বলিউডের সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল কত টাকা নেন জানুন

স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।

আগরতলায় দেহ ব্যবসা ও মাদকের বিস্তার: নীরব দর্শক কি প্রশাসন?

রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।

“পাঁচ কোটির প্রতারণা! অভিযুক্তের স্বামী পুলিশ কনস্টেবল, তদন্তে উঠছে প্রশ্ন”

রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।

স্বামীর নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা ও মানহানির অভিযোগ—ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ গৃহবধূ সুস্মিতা

স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর  উদয়পুরের মাতা বাড়িতে  কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার  বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার  বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। ‌ রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার  সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।

সাইকেলের ঘণ্টা থেমে গেল: ‘পচা আচার’-এর জয়ন্ত রায় আর নেই

আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।

Top week

রাজনীতি

ত্রিপুরার রাজনীতিতে এখনও ফ্যাক্টর সুবল, তবে কোন দিকে যাচ্ছে তাঁর পথচলা?

Admin মে ৩০, ২০২৬ 0