দেবাশিস দেব।।সম্পর্ক, প্রেম, পরকীয়া এবং বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে আবারও সরব হলেন লেখিকা । সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পরকীয়াকে অপরাধ হিসেবে দেখার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সততা ও আত্মনির্ভরতার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন।
ফেসবুক পোস্টে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, সমাজে পরকীয়ার বিরুদ্ধে যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা যায়, তার পেছনে মূলত পরনির্ভরতা, পরাশ্রয়ী মনোভাব এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব কাজ করে। তাঁর মতে, প্রেমকে “আপনকীয়া” বা “পরকীয়া”র মতো কোনো বিশেষণে বেঁধে ফেলা যায় না। প্রেমের অনুভূতি স্বতঃস্ফূর্ত এবং তা কখন, কার প্রতি জন্ম নেবে, তা আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
লেখিকার বক্তব্য, একজন মানুষের জীবনে সঙ্গী বা সঙ্গিনী থাকলেও অন্য কারও প্রতি ভালো লাগা বা ভালোবাসা জন্ম নিতে পারে। তবে তিনি এ ক্ষেত্রে সততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, যদি কারও জীবনে নতুন করে প্রেম আসে, তাহলে বর্তমান সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে তা স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। এরপর পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন সম্পর্কের সঙ্গে জীবনযাপন শুরু করাই অধিকতর সৎ ও গ্রহণযোগ্য পথ।
তসলিমা নাসরিন আরও বলেন, মানুষ কোনো পেঙ্গুইন পাখি নয় যে সারাজীবন একজন মানুষের প্রতিই ভালোবাসা অনুভব করবে এবং একজনের সঙ্গেই সংসার করবে। মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও সম্পর্কের বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল এবং পরিবর্তনশীল। সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে সামাজিক নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয় বলেও তিনি মনে করেন।
পোস্টে তিনি পুরুষের বহুবিবাহ প্রথারও কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, বহুবিবাহ একটি অশোভন ও অগ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা, যা আধুনিক সমাজে টিকে থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি রাখে না। তিনি দাবি করেন, সমাজের নানা অসংগতি ও বৈষম্যের কারণেই এমন প্রথা এখনও কিছু ক্ষেত্রে টিকে আছে।
বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন লেখিকা। তাঁর মতে, সমাজ এখনও বিচ্ছেদকে নেতিবাচক চোখে দেখে, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই বিচ্ছেদ একটি স্বাস্থ্যকর ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত হতে পারে। বিশেষ করে যখন কোনো সম্পর্কে ভালোবাসা, সম্মান বা মানসিক সুস্থতা অনুপস্থিত থাকে, তখন শুধুমাত্র সামাজিক চাপে বা লোকলজ্জার ভয়ে একসঙ্গে বসবাস করা আরও ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।
সন্তানের স্বার্থে বিচ্ছেদ না করার যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, সেটিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন তিনি। তসলিমা নাসরিনের মতে, ভালোবাসাহীন ও বিষাক্ত পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা সন্তানের জন্য অধিক ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি মনে করেন, ক্রমাগত দ্বন্দ্ব, অশান্তি ও অসন্তোষের মধ্যে বড় হওয়ার চেয়ে আলাদা কিন্তু সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা সন্তানের মানসিক বিকাশের জন্য বেশি উপকারী।
সম্পর্কের বিকল্প কাঠামো নিয়েও মন্তব্য করেছেন লেখিকা। তাঁর মতে, যদি কোনো দম্পতি পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ওপেন রিলেশনশিপে থাকতে চান এবং সংসার বজায় রেখেই উভয়েই অন্য সম্পর্কে জড়ানোর স্বাধীনতা মেনে নেন, তাহলে সেটিও তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ ধরনের সম্পর্ককে সমাজের পক্ষ থেকে অযথা নৈতিকতার মাপকাঠিতে বিচার করা উচিত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টের শেষাংশে তসলিমা নাসরিন দাবি করেন, অধিকাংশ মানুষই বাস্তবে চান না যে তাঁদের সঙ্গী অন্য কারও সঙ্গে প্রেম বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়াক। কিন্তু তবুও অনেকে নানা সামাজিক, অর্থনৈতিক বা মানসিক কারণে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেন এবং সেই পরিস্থিতি নিয়ে আজীবন কষ্ট পেতে থাকেন। তাঁর মতে, আত্মনির্ভর, স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ প্রয়োজন হলে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সাহস দেখাতে পারেন। সমাজে এমন মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, ততই ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মানসিক সুস্থতার পরিবেশ শক্তিশালী হবে।
তসলিমা নাসরিনের এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ তাঁর মতামতকে ব্যক্তি স্বাধীনতার পক্ষে সাহসী অবস্থান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিবাহ ও পারিবারিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করছেন। তবে সম্পর্ক, প্রেম, বিবাহবিচ্ছেদ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে জনপরিসরে তর্ক-বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।
রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।
রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।
স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর উদয়পুরের মাতা বাড়িতে কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।
আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।
মধ্যপ্রদেশের মাউগঞ্জ জেলার NEET পরীক্ষার্থী আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদীর আ*/ত্মহ*/ত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিযোগ, NEET UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পরই তিনি আত্মঘাতী হন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আকাঙ্ক্ষার বাবা-মা তাঁর চিকিৎসা ও পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ঋণ পর্যন্ত নিয়েছিলেন। মেয়ের স্বপ্ন পূরণের আশায় পরিবারের সবকিছুই ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিলেন তাঁরা। ঘটনাকে ঘিরে আবারও প্রশ্নের মুখে দেশের পরীক্ষাব্যবস্থা। বারবার বিভিন্ন রাজ্য ও জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসছে, যা পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও আস্থাকে প্রভাবিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী না হলে এই ধরনের ঘটনা রোধ করা কঠিন। ‘এক্সাম মাফিয়া’দের দৌরাত্ম্য নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে তদন্তের দাবি উঠেছে, পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
“আন্তর্জাতিক সীমানার ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সব বে-আইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে।”কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত এলাকার ব্যাঙ্কগুলিতে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ওই এলাকায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুলির দিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তঃসীমা চোরা চালান নিয়ন্ত্রণ এবং ভুয়ো নথিপত্র শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন অমিত শাহ।এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার বিভিন্ন জেলায় সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি নিয়ে জটিলতা ছিল। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নবান্ন জেলা প্রশাসন গুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যাতে সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত জমি চিহ্নিত করে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। গত সপ্তাহে নবান্ন সভাঘরে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-এর হাতে মোট ১৪২.৭৯ একর জমি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জমি মূলত ব্যবহার করা হবে বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণ এবং সীমান্তের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য।এর ফলে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে বিএসএফ আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে হাঁটছে আরও এক রাজ্য। সোমবার অসম সরকার রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে বিধানসভায় অধ্যাদেশ আনল। বিয়ে থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার- সমস্ত ক্ষেত্রেই সকলের জন্য একই নিয়ম চালু করা হবে।সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সপক্ষে বলা হলেও, স্বাধীনতার পর থেকেই ধর্মের ভিত্তিতে নানা আইন রয়েছে। সেই আইন পরিবর্তন করেই সকলের জন্য অভিন্ন আইন চালু করা হচ্ছে।মঙ্গলবার এই বিল নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষমতায় এলেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হবে।অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে কী কী বিধান থাকবে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে গত ১৩ মে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন যে বিয়ের ন্যূনতম বয়স, পারিবারিক সম্পত্তিতে মহিলাদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। বহুগামিতা সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করা হবে। লিভ ইন সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। বিয়েও ডিভোর্সে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, আদিবাসীদের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতিতেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু হবে না।