ক্ষমতা হারিয়ে বিপকে বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় l শনিবার দুপুরে কালীঘাট থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বের হয়ে সোনারপুরের দিকে এগিয়ে যেতেই সঙ্গে-সঙ্গে পরপর ছোড়া হল ডিম। শেষমেশ হেলমেট পরে নামেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপরই পরপর ডিম ছোড়া হয় তাঁকে উদ্দেশ্য করে। অভিষেক বলেন, “মানুষ দেখুন…আমি হাইকোর্টে যাব। পুলিশের কোনও নিরাপত্তা নেই। এখানে ইট পাটকেল ডিম। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রাহ্মণ সন্তান… আমি কি বাংলাদেশি?”আজ থেকে নিগৃহীত দলের কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন বলে ঠিক করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতই সোনারপুরে এসেছেন মৃত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। তারপরই হেনস্থার শিকার হন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় কামালগাজি যখন সিগন্যালে দাঁড়ায় সেই সময় কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা ছুটে যান। তাঁর গাড়ির কাচ লক্ষ্য করে প্রথমে দেখানো হয় কালো পতাকা। পরে শুরু হয় ‘চোর-চোর’ স্লোগান। মহিলা-পুরুষদের একাংশ ছুটে যান।এরপর সোনারপুরে যে কর্মীর বাড়িতে অভিষেক যাবেন সেই রাস্তায় একদল মহিলা ও পুরুষ রাস্তার দু’ধারে জমায়েত করতে শুরু করেন। শোনা যায় তাঁরা নিজেরা আলোচনা করছিলেন ‘ডিম তৈরি রাখ’এরপর গাড়ি থেকে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বাইকে করে ওই কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। হেলমেট পরেন তিনি। জনতার ভিড়ের জন্য আটকে দেওয়া হয় বাইক।তারপর শুরু হয় ডিম ছোড়া। পরপর ডিম ছোড়া হতে থাকে তাঁকে উদ্দেশ্য করে। পাশ থেকে শোনা যায়, ‘মার…মার’ l এর সঙ্গে পিছন থেকে মারধর করা হয়। ছিঁড়ে দেওয়া হয় অভিষেকের জামা। তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা আগলে রাখার চেষ্টা করেন তাঁকে। চিৎকার করে-করে কেউ বা কারা অভিষেককে উদ্দেশ্য করে এই বাংলাদেশি…এই বাংলাদেশি বলতে শুরু করেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় l পাশাপাশি দলও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে l
বিনা চিকিৎসায় এক গর্ভবতী মহিলার মৃত্যুতে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় আইজিএম হাসপাতালে! ফের প্রশ্নের মুখে এই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা? মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার আই জি এম হাসপাতালে নিয়ে আসলেও ছিল না কোন সিনিয়র ডাক্তার l ঈদের ছুটি তাই নাকি ডাক্তার নেই!! জুনিয়রদের দিয়ে রোগী দেখা হচ্ছে এমনটাই অভিযোগ পরিবারের লোকজনদের। চিকিৎসায় গাফিলতিতে মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে তারা। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পশ্চিম মহিলা থানার পুলিশ। মৃত গৃহবধূর নাম বিভা দেবনাথ (৩৪)স্বামী পঙ্কজ দেবনাথ বাড়ি আমতলী এলাকায়। এই ঘটনায় হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মৃতার পরিবার l
“আন্তর্জাতিক সীমানার ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সব বে-আইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে।”কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত এলাকার ব্যাঙ্কগুলিতে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ওই এলাকায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুলির দিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তঃসীমা চোরা চালান নিয়ন্ত্রণ এবং ভুয়ো নথিপত্র শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন অমিত শাহ।এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার বিভিন্ন জেলায় সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি নিয়ে জটিলতা ছিল। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নবান্ন জেলা প্রশাসন গুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যাতে সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত জমি চিহ্নিত করে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। গত সপ্তাহে নবান্ন সভাঘরে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-এর হাতে মোট ১৪২.৭৯ একর জমি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জমি মূলত ব্যবহার করা হবে বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণ এবং সীমান্তের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য।এর ফলে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে বিএসএফ আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে সাড়া জাগানো ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র কার্যকলাপে সিবিআই তদন্ত চেয়ে মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের মন্তব্য নিয়ে ‘ব্যবসা’ করার গুরুতর অভিযোগ তুলে সোমবার একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। পাশাপাশি, দেশজুড়ে ভুয়ো ডিগ্রিধারী আইনজীবীদের দৌরাত্ম্য রুখতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মামলাকারী আইনজীবী। তিনি তাঁর আবেদনে কেন্দ্রীয় সরকার, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক, বার কাউন্সিল এবং সিবিআই-কে পক্ষ করেছেন। গত শনিবার এক আইনজীবী এই ইস্যুটির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি আবেদনের জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন। সেদিন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-কে নিয়ে বিতর্কে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছিলেন “বিষয়টি এত আবেগ দিয়ে নেবেন না।” আর তার একদিনের মাথায় নেটপাড়ায় ঝড় তোলা ‘আরশোলা’ আন্দোলনে সিবিআই তদন্তের দাবিতে জল গড়াল সুপ্রিম কোর্টে। সিবিআই তদন্তের দাবি নিয়ে রাজা চৌধুরি নামে এক আইনজীবী আবেদনটি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভুয়ো আইনজীবী এবং জাল আইন ডিগ্রির রমরমা দেশের বিচার ব্যবস্থার মান নষ্ট করছে। তাই অবিলম্বে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করা হোক।
এবার থেকে সপ্তাহে দু’দিন মা ক্যান্টিনে পাওয়া যাবে মাছ-ভাত। মঙ্গলবার কল্যাণীতে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, মা ক্যান্টিন গুলিতে ৫ টাকাতেই পাওয়া যাবে এই পরিষেবা।রাজ্যে পালাবদলের পর ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার জানিয়েছিল, রাজ্যের কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। পালাবদলের কারণে কয়েকটি প্রকল্পের পরিষেবা কিছু সময়ের জন্য স্থগিত থাকলেও ফের চালু হবে সব প্রকল্প। সেই মত এবার মা ক্যান্টিন নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এবার থেকে সপ্তাহে দু’দিন মা ক্যান্টিনে মাছ-ভাত খাওয়ানো হবে। কিন্তু দাম অপরিবর্তিত রাখবে সরকার। মাত্র ৫ টাকাতেই মাছ-ভাত খেতে পারবেন মানুষ। এদিন কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মা ক্যান্টিন নিয়ে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে মোট ৩৬৭টি মা ক্যান্টিন রয়েছে। সবকটিই চালু থাকবে। আপাতত এই ক্যান্টিনের সংখ্যা পরিবর্তন করা হবে না। তাঁর কথায়, “সপ্তাহে ২ দিন করে মাছ খাওয়াব। ৫ টাকাতেই খাওয়াব।প্রসঙ্গত, ”ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বিজেপি মাছ-মাংস বিরোধী বলে প্রচার শুরু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মানুষ আমিষ খেতে পারবেন না বলেও প্রচার করা হচ্ছিল। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতায় এসে তৃণমূলের এই দাবিকে ভুল প্রমাণ করেছে বিজেপি। বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের মাছ-ভাত খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে বর্তমান শাসকদল।
বলিউডে রণবীর সিংকে ‘ব্যান’ করল ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ। বিতর্কের সূত্রপাত শেষমুহূর্তে ‘ডন’-এর মত জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে। আসলে ‘ধুরন্ধর’ সাফল্যের পর ফারহান আখতারের মেগা বাজেট ‘ডন ৩’ ছবি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন রণবীর সিং l পরিচালক-প্রযোজককে নাকানি-চোবানি খাওয়ানোর জেরেই এবার হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কোণঠাসা হতে হল ‘ধুরন্ধর’ অভিনেতাকে। সোমবার সন্ধ্যায় বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে মাঠে নামতে হয় রণবীর সিংকে।এদিন ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE)-এর তরফে জানানো হয়, “আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সমগ্র সিনেশিল্প একটি বৃহৎ পরিবারের মতই কাজ করে। যেখানে বিভিন্ন কলাকুশলী ও বিভাগীয় কাজের সাথে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তি একটি সফল প্রজেক্টের রূপায়ণে সম্মিলিতভাবে অবদান রাখেন। ফেডারেশন সকল শিল্পী, কলাকুশলী, প্রযোজক, পরিচালক এবং প্রতিটি বিভাগের সদস্যদের এক অখণ্ড পরিবারের অংশ হিসেবে গণ্য করে। যারা পারস্পরিক বিশ্বাস, পেশাগত অঙ্গীকার, শ্রদ্ধা এবং যৌথ দায়িত্ববোধ সূত্রে আবদ্ধ। তাই কোনও প্রজেক্ট থেকে শেষমুহূর্তে বড় তারকাদের হঠাৎ করে সরে দাঁড়ানো সিনেশিল্প তথা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বাস্তুতন্ত্রের জন্য এক গুরুতর হুমকি।” সেই মর্মেই অগ্রিম পারিশ্রমিক নিয়েও ফারহান আখতার প্রযোজিত তথা পরিচালিত ‘ডন ৩’ থেকে সরে দাঁড়ানোয় রণবীর সিংকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে হাঁটছে আরও এক রাজ্য। সোমবার অসম সরকার রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে বিধানসভায় অধ্যাদেশ আনল। বিয়ে থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার- সমস্ত ক্ষেত্রেই সকলের জন্য একই নিয়ম চালু করা হবে।সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সপক্ষে বলা হলেও, স্বাধীনতার পর থেকেই ধর্মের ভিত্তিতে নানা আইন রয়েছে। সেই আইন পরিবর্তন করেই সকলের জন্য অভিন্ন আইন চালু করা হচ্ছে।মঙ্গলবার এই বিল নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষমতায় এলেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হবে।অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে কী কী বিধান থাকবে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে গত ১৩ মে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন যে বিয়ের ন্যূনতম বয়স, পারিবারিক সম্পত্তিতে মহিলাদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। বহুগামিতা সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করা হবে। লিভ ইন সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। বিয়েও ডিভোর্সে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, আদিবাসীদের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির নিয়মে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতিতেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু হবে না।
৯০ বছর পেরিয়েছে, হাঁটাচলার ক্ষমতা নেই আর। তবে পেট তো চালাতে হবে। পেনশন পান ঠিকই, কিন্তু তার জন্য ব্যাঙ্কে যেতে হবে নিজেকে। তাই ভরসা একমাত্র বউমা। পিঠে কাপড় দিয়ে বেধে শাশুড়িকে প্রতি মাসে ব্যাঙ্কে নিয়ে যান বউমা। তবে বাড়ি থেকে ব্যাঙ্কের দূরত্ব যে খুব একটা কম, তা নয়। নয় কিলোমিটার পায়ে হেঁটেই যেতে হয় ব্যাঙ্কে।প্রখর রোদে নবতিপর বৃদ্ধা শাশুড়িকে পিঠে বেঁধে জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে, পাথুরে রাস্তা ও নদী পেরিয়ে ওই মহিলা ব্যাঙ্কে পৌঁছন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তবে ছত্তীসগঢ়ের প্রত্যন্ত এলাকায় এটাই বাস্তব ছবি।এই ভিডিয়োটি ছত্তীসগঢ়ের সুরগুজা জেলার মৈনপট অঞ্চলের। জানা গিয়েছে, ওই মহিলার নাম সুখমানিয়া বাই। তিনি নিজের বৃদ্ধা শাশুড়িকে পিঠে বেঁধে নয় কিলোমিটার নিয়ে যান ব্যাঙ্কে, যাতে ওই বৃদ্ধা নিজের পেনশনটুকু পান। মাসের পর মাস ধরে তিনি এই কাজ করছেন। ব্যাঙ্কের কাছে অনুরোধ করেও কোনও লাভ হয়নি, কারণ পেনশন পাওয়ার জন্য গ্রাহককে ব্যাঙ্কে সশরীরে উপস্থিত থেকে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ভেরিফিকেশন করাতে হয়। নাহলে পেনশনের টাকা পাওয়া যায় না। ভিডিয়োতেও তিনি এই কথাই বলেছেন।ওই মহিলা আরও জানান যে এলাকায় কোনও পরিবহন ব্যবস্থা নেই। তাঁকে নদী ও জঙ্গল পেরিয়ে আসতে হয়। এত কষ্টের পর কত টাকা পেনশন পান? মাত্র ১৫০০ টাকা। কোনও কোনও মাসে আবার সেটাও পান না। একসঙ্গে দুই-তিন মাসের পেনশন দেওয়া হয় পরে।তিনি অভিযোগ করেন, আগে পেনশনের টাকা এলাকাতেই দিয়ে আসা হত। কিন্তু এখন আর সেই সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে এত দূর কষ্ট করে নিয়ে যেতে হয় প্রতি মাসে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে। জঙ্গল ঘেরা এই পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের জন্য পায়ে হাঁটা ছাড়া উপায় নেই।
ফের একবার প্রবল বৃষ্টির জেরে উত্তর সিকিম বিপর্যয়ের কবলে। ফুসছে প্রতিটি নদী ও ঝোরা। শনিবার বিকেলে বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিভিন্ন সড়ক। মেয়ং খোলা উথলে ওঠায় মঙ্গন-চুংথাং সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। উভয় দিকের সমস্ত যানবাহনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কতজন পর্যটক ঝড়বৃষ্টিতে আটকে পড়েছে সেটা জানা সম্ভব হয়নি। এরমধ্যেই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে তিস্তা। লাল সঙ্কেত জারি করা হয়েছে সিকিমে। যার জেরে কালিম্পংয়ের তিস্তা বাজারে জনমানসের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। জানা গিয়েছে, নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ এলাকায় পালাতে শুরু করেছে।এদিকে ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন মঙ্গনের জেলাশাসক অনন্ত জৈন এবং এসপি এলবি ছেত্রী। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। শীর্ষ দুই আধিকারিক জানিয়েছেন, রাস্তাটি যাতায়াতের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। তাই, চুংথাং এবং মঙ্গন উভয় দিক থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করার জন্য চেকপোস্ট গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জলস্তর নেমে গেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রায় ১০ দিন ধরে অচল পরিস্থিতি। মণিপুরে নষ্ট হচ্ছে পণ্যবাহী লরিতে থাকা সামগ্রী, খাদ্যের অভাবে চরম দুর্ভোগে চালকরা। অবশেষে বহু চালক গন্তব্যে না গিয়েই ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। মণিপুরে ৩ জন পাদ্রীর গুলিকাণ্ডে মৃত্যু এবং ৬ জন নাগা যুবকের অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সর্বাত্মক বন্ধ পালিত হচ্ছে। এর জেরে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজ্যের যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থা। বন্ধের কারণে জাতীয় সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে খাদ্য সামগ্রী, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, নির্মাণ সামগ্রী ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে আসা শতাধিক লরি দিনের পর দিন আটকে রয়েছে। বিশেষ করে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চালকরা। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে বহু চালক সরকারের কাছে নিরাপদ করিডর তৈরি ও দ্রুত পণ্য গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রায় ১০ দিন ধরে রাস্তায় আটকে থাকায় সঙ্গে থাকা খাদ্য মজুত শেষ হয়ে এসেছে। অনেক চালক মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। চালকদের আরও দাবি, লরিতে থাকা বহু কাঁচামাল ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি পণ্যও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির কোনো সমাধান না মেলায় আজ থেকে অনেক লরি মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে শুরু করেছে বলে খবর। এই অচলাবস্থার প্রভাব শুধু মণিপুরেই নয়, পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির ‘কটাক্ষমূলক’ মন্তব্যের প্রতিবাদে আত্মপ্রকাশ করা প্রতীকী রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি নিয়ে শোরগোল। মাত্র পাঁচ দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় পথ চলা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ইনস্টাগ্রামে অনুগামীর সংখ্যার নিরিখে পিছনে ফেলে দিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে। বৃহস্পতিবার খবর ছড়ায়, এক্স থেকে তাদের অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক্সে নতুন একটি অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলে কেজেপি। এখন প্রশ্ন উঠছে, ভোটের ময়দানে ‘আরশোলা’কে মেনে নেবে নির্বাচন কমিশন?আমেরিকার বোস্টন শহর জন্ম ককরোচের। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। খেলার ছলে সোশাল মিডিয়ায় দল তৈরি হলেও ভারতের একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই সিজেপি-র রাজ্য স্তরের শাখা ইউনিট গজিয়ে উঠেছে। তবে কিনা সবটাই সামাজিক মাধ্যমে। এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে ককরোচ জনতা পার্টি কি সত্যিই ভোটের ময়দানে নামবে? যদি নামে সেক্ষেত্রে তাদের প্রতীক কী হবে? নামানুসারে ‘আরশোলা’ বা ‘ককরোচ’?
শুক্রবার দেশের ১০টি রাজ্যের ২৪টি রাজ্যসভা আসনের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১লা জুন নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ৮ই জুন। ৯ই জুন মনোনয়নপত্র যাচাই করা হবে এবং ১১ই জুন পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ১৮ই জুন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। একইদিন বিকেল ৫টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে। সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ২০ জুনের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ব্যালট পেপারে পছন্দের ক্রম চিহ্নিত করতে শুধুমাত্র রিটার্নিং অফিসারের দেওয়া নির্দিষ্ট মানের বেগুনি রঙের স্কেচ পেন ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনও কলম ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না। কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ-সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে রাজ্যগুলিতে নির্বাচন হবে, সেগুলি হল অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং মিজোরাম। মেয়াদ শেষ হতে চলা উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দিগ্বিজয় সিং, এইচডি দেবগৌড়া এবং মল্লিকার্জুন খার্গ। এছাড়াও প্রয়াত শিবু সরেন-এর ঝাড়খণ্ডের আসনেও নির্বাচন হবে। তাঁর মৃত্যু পরবর্তী সময় থেকে আসনটি শূন্য ছিল। অন্য যাঁদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অযোধ্যা রামি রেড্ডি আল্লা, পিল্লি সুভাষচন্দ্র বোস, রামভাই হারজিভাই মোকারিয়া, জর্জ কুরিয়ান, মহারাজা সানাজাওবা লেইশেম্বা, নীরজ ডাঙ্গি, রাজেন্দ্র গেহলট, নাবাম রেবিয়া, ইরান্না কাদাদি এবং কে. ভানলালভেনা।
এক দেশ, এক নিবার্চন । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের প্রকল্প চালু হলে দেশজুড়ে একসঙ্গে লোকসভা, বিধানসভা এবং স্থানীয় পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন আয়োজন করা যাবে। ফলে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি, প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়বে এবং দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হারও প্রায় ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে দাবি করেছে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটি । গান্ধী নগর সফর কালীন এক দেশ, এক ভোট প্রসঙ্গে জানালেন ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটির চ্যায়ারম্যান। জেপিসি চেয়ারম্যান তথা লোকসভার সাংসদ পি পি চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটি প্রায় ১৮৬ দিন ধরে আলোচনা ও পর্যালোচনার পর রিপোর্ট তৈরি করে। পরে বিষয়টি জেপিসি-র কাছে পাঠানো হয়। সেই রিপোর্ট বলছে, একসঙ্গে তিন স্তরের নির্বাচন করা গেলে আর্থিক এবং প্রশাসনিকভাবে বিরাট মাত্রায় লাভবান হবে দেশ। চৌধুরী জানান, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রথমে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করা হবে। এরপর ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১২৯তম সংবিধানসংশোধনী বিল, ২০২৪ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল, ২০২৪ খতিয়ে দেখছে জেপিসি। সেই সূত্রেই কমিটির সদস্যরা তিন দিনের সফরে গুজরাটে এসেছেন। ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিলটি বর্তমানে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে। ওই কমিটি দেশের প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং বিশিষ্টদের মতামত নিচ্ছে। কমিটির মাথায় সাংসদ পি পি চৌধুরী। তবে তিনি আগেই জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের আগে এক দেশ-এক ভোট নীতি কার্যকর হওয়া সম্ভব নয়। আপাতত সেই ডেডলাইন নিয়েই এগোচ্ছে কেন্দ্রের কমিটি। উল্লেখ্য, এই জেপিসি-তে মোট ৩৯ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে লোকসভা থেকে ২৭ জন এবং রাজ্যসভা থেকে ১২ জন সাংসদ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ও বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে ছিল আর জি কর মামলার শুনানি। সিবিআই এতদিন ধরে কী তদন্ত করেছে, রিপোর্টেই কী লেখা হয়েছে, সেই সব বিষয় উঠে আসে এদিন মামলার শুনানিতে। তা নিয়ে গঠন করা হল l আরজি কর মামলায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।কিন্তু সরকারি হাসপাতালের ভিতরে সেই রাতে ঠিক কী হয়েছিল, সেই প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। ঠিক কোথায় ঘটেছিল অপরাধ? কেন পরিবারকে প্রথমে দেখতে দেওয়া হল না? এই সব নিয়ে ধোঁয়াশা অভয়া তথা তিলোত্তমার বাবা-মা চেয়েছিলেন, আবারও শুরু হোক তদন্ত। এবার সেই নির্দেশই দিল কলকাতা হাইকোর্ট।বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ও বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে ছিল মামলার শুনানি। সিবিআই এতদিন ধরে কী তদন্ত করেছে, রিপোর্টেই কী লেখা হয়েছে, সেই সব বিষয় উঠে আসে এদিন। আবার তদন্ত শুরু করা উচিৎ কি না, সেই বিষয় খতিয়ে দেখেন বিচারপতিরা।এই মামলার সামাজিক প্রভাব দেখেই ফের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিবিআই জয়েন্ট ডিরেক্টর (পূর্বাঞ্চল) সহ তিন আধিকারিককে নিয়ে সিবিআই সিট গঠন করা হল আদালতের নির্দেশে। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ফের তদন্ত শুরু করবে সিট। ঘটনার দিন রাতের ডিনার থেকে শুরু করে মৃতদেহ দাহ এবং প্রমান লোপাট সহ সব বিষয়ের তদন্ত হবে বলে জানা গেছে।
শ্রমিকদের জন্য বড় নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক। বিভিন্ন সংস্থার মালিক ও কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে যে, কোনও কর্মী যেন কমপক্ষে ৩০ মিনিটের বিশ্রাম বিরতি না নিয়ে একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ না করেন। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে আগের বিধিমালাকে আরও শক্তিশালী করেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। যেখানে কর্মঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট বিরতির কথা বলা ছিল। নতুন শ্রম আইন বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এবং কর্মচারীদের কল্যাণ সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই মন্ত্রণালয়ের এই সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ্যে এসেছে। শ্রম মন্ত্রক ভূ-গর্ভস্থ খনি শ্রমিকদের সম্পর্কিত নিয়মাবলিও স্পষ্ট করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, তাঁদের কাজের শিফট আট ঘণ্টার বেশি হওয়া উচিত নয়। খনি শিল্প সবচেয়ে বেশি শারীরিক পরিশ্রমের এবং ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। শ্রম সুরক্ষা বিধিমালা ঐতিহ্য গতভাবে ভূগর্ভস্থ শ্রমিকদের জন্য কাজের সময়কাল, ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্রামের বিরতির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে আসছে। পূর্ববর্তী শ্রম বিধিমালা এবং কারখানা-সংক্রান্ত আইনে কাজের শিফটের মধ্যে বিরতির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিশেষত ক্লান্তি, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং দীর্ঘক্ষণ একটানা কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানোর জন্য। সম্প্রতি প্রবর্তিত শ্রম আইনগুলিতে বিশ্রাম ও বিরতির কিছু বিশদ কাঠামোর সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই, যা পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তি ও বিধানগুলিতে বিদ্যমান ছিল।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে আরও এক সাফল্য পেল সিবিআই। মঙ্গলবার বিনয় রাই নামে আরও এক ব্যক্তি ধরা পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে। তাকে বারাণসী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবারই উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত রাজকুমার সিং ওরফে রাজ সিং-কে। প্রসঙ্গত, বঙ্গ বিধানসভার ফলাফল ঘোষণার ঠিক দু’দিন পর অর্থাৎ গত ৬ই মে রাতে খুন হতে হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথকে। ব্যস্ততম মধ্যম গ্রামের রাস্তায় এলোপাথাড়ি গুলি করে খুন করা হয় তাঁকে। দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয় চন্দ্রনাথের গাড়ির চালক। ঘটনার পরই রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করে। সিআইডির শীর্ষ আধিকারিককে মাথায় রেখে বিশেষ এই তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। সিটের আধিকারিকরাই উত্তরপ্রদেশ থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। বক্সার থেকেও আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা যায়, বক্সার থেকে ধৃত ব্যক্তি শার্প শুটার।
স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, রেলওয়ে স্টেশনের মত পাবলিক প্লেস থেকে পথ কুকুরদের সরিয়ে দিতে হবে। পথ কুকুর মামলায় আগের নির্দেশই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। পথকুকুর প্রেমী ও এনজিওগুলির দায়ের করা আবেদন খারিজ হল শীর্ষ আদালতে। প্রয়োজনে চরম রোগাক্রান্ত বা হিংস্র কুকুরদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ‘ইউথেনেসিয়া’ অথবা ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’র অনুমতি দেওয়া হয়েছে।২০২৫-এর নভেম্বরে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, স্কুল, কলেজ বা হাসপাতালের মত এলাকা থেকে পথ কুকুরদের টিকাকরণ বা বন্ধ্যাকরণের জন্য নিয়ে যাওয়ার পর, তাদের আর সেই পুরনো জায়গায় ফেরত পাঠানো যাবে না। সেই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য শীর্ষ আদালতে আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু তার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কুকুরের কামড়ের মত বিষয়কে অবহেলা করা যায় না। আগের নির্দেশের কোনও পরিবর্তন করা হবে না বলে মঙ্গলবার জানিয়ে দেন বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ।
বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা ঘটল। মহারাষ্ট্রের পালঘরে ট্রাক এবং টেম্পোর সংঘর্ষে মৃত্যু হল কমপক্ষে ১৩ জনের। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২৫ জন। গোটা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সকালে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে একটি টেম্পো বাপিগাঁও থেকে ধনিভারীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। তাঁরা প্রত্যেকেই একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। মুম্বই-আহমেদাবাদ জাতীয় সড়কের উপর সেটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, উলটো দিক থেকে একটি ট্রাক মুম্বইয়ের দিকে আসছিল। আচমকা সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টেম্পোটিতে সজোরে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গেই উলটে যায় টেম্পোটি। বিকট শব্দ শুনে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হাত লাগান উদ্ধারকাজে।খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে নিকবর্তী একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আপাতত সেখানেই তারা চিকিৎসাধীন। তবে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ঠিক কী কারণে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ
আবারও খবরের শিরোনামে বলিউডের বিতর্কিত পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ l তবে কোনও সিনেমার জন্য নয়, একেবারে আইনি মারপ্যাঁচে জড়িয়ে তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে নিয়ে এক চরম আপত্তিকর মন্তব্য করার মাসুল এবার হাতেনাতে গুনতে হচ্ছে তাঁকে। এই ঘটনার জেরে গুজরাটের সুরাট আদালত বলিউড পরিচালকের বিরুদ্ধে সরাসরি জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। সমন পাঠানোর পরেও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় আইনি চাপ আরও বাড়ল ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর’ খ্যাত এই পরিচালকের ওপর।ঘটনার সূত্রপাত গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে। মহারাষ্ট্রে মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলের জীবনীচিত্র ‘ফুলে’ ছবির ঝলক বা টিজার মুক্তির পর থেকেই বিতর্ক দানা বাঁধে। ‘অল ইন্ডিয়া ব্রাহ্মণ সমাজ’ সহ বেশ কিছু গোষ্ঠী ছবিটির তীব্র বিরোধিতা শুরু করে। সেই সময় প্রতিবাদীদের একহাত নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি লম্বা পোস্ট দিয়েছিলেন অনুরাগ।ঝামেলা বাড়ে সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সে। সেখানে এক নেটিজেনের কটাক্ষের জবাবে মেজাজ হারিয়ে অনুরাগ কাশ্যপ লিখে বসেন এক চরম বিতর্কিত মন্তব্য। তিনি লেখেন, “ব্রাহ্মণদের ওপর আমি প্রস্রাব করি। এতে কোনও সমস্যা আছে?” । ব্যাস! এই মন্তব্য দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে পরে অবশ্য তিনি ক্ষমা চেয়ে আরেকটি পোস্ট করেন এবং জানান যে রাগের মাথায় গোটা সম্প্রদায়কে আঘাত করে ফেলেছেন। কিন্তু জল ততক্ষণে অনেক দূর গড়িয়ে গিয়েছে।
সুপার এল নিনো l এর পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। মে মাস থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এল নিনোর প্রভাব পড়তে পারে। আর এর প্রভাবে বাড়বে তাপমাত্রা। তাপপ্রবাহ বইবে। বৃষ্টির পরিমাণ কমবে। এমনকী, খরাও দেখে দেবে বিভিন্ন জায়গায়। আবহাওয়া দফতর আগেই জানিয়ে দিয়েছে, বর্ষায় এবার বৃষ্টি সেভাবে হবে না। তার নেপথ্যে হল এই ‘সুপার এল নিনো’। তবে, শুধু খরা নয়, এল নিনোর প্রভাবে একাধিক এলাকায় বন্যা পর্যন্ত হতে পারে।পৃথিবীর আবহাওয়ার একটা বড় অংশ নির্ভর করে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার ওপর। মহাসাগরের জলের উপরিভাগ ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘লা নিনা’ বলা হয়। এর প্রভাবে অতিবৃষ্টি হতে পারে বা তীব্র শীত হতে পারে। আবার প্রশান্ত মহাসাগর যদি উষ্ণ হয়ে যায় তাহলে বলা হয় ‘এল নিনো’। এর প্রভাবে তাপপ্রবাহ বইবে। লু বইবে। খরা হবে। ভারতজুড়ে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব একরকম হয় না। কোথাও তাপপ্রবাহ বইবে কোথাও আবার বেশি বৃষ্টি। সেক্ষেত্রে কোন কোন জায়গায় খরা ও অতিবৃষ্টি হতে পারে l
বর্তমান যুগে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে বিছানায় যাওয়া পর্যন্ত সকলেই সোশাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভ। স্কুল-কলেজ থেকে অফিস, সামান্য ফাঁকা সময় পেলেও প্রায় প্রত্যেকে নজর রাখেন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টায়। বিভিন্ন ইস্যুতে কমেন্ট বক্সে তরজাও জমে ওঠে এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে। জেন জি অবশ্য বেশি পছন্দর করে ইনস্টা। আর তাদের কথা মাথায় রেখেই এবার এক দুর্দান্ত ফিচার নিয়ে এল মেটা। ভারত-সহ সারা বিশ্বের ইনস্টাগ্রাম ইউজাররা এবার ‘ইনস্ট্যান্টস’ ফিচারটি ব্যবহার করতে পারবেন l জানা গিয়েছে, ইনস্ট্যান্টস ফিচারটির সাহায্যে ইউজাররা রিয়েল-টাইম ছবি পাঠাতে পারবেন, যা দেখার পর বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যাবে। সংস্থার মতে, ভাবনাচিন্তা করে করা পোস্টের পরিবর্তে স্বতঃস্ফূর্ত শেয়ারিংয়ের উপরে বেশি গুরুত্ব দেয় আজকের জেন জি-র প্রতিনিধিরা। পাবলিক সোশাল মিডিয়া আপডেটের চেয়ে ব্যক্তিগত মেসেজিংকে ক্রমশ বেশি পছন্দ করতে শুরু করেছেন তাঁরা। সেদিকে খেয়াল রেখেই আনা হয়েছে এই ফিচার। ফিচারটির সাহায্যে দ্রুত ছবি তুলে তা সরাসরি মেসেজ করা যাবে। একবার ‘ভিউ’ হলেই ছবিটি মুছে যাবে। পাশাপাশি না দেখলেও তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা অদৃশ্য হয়ে যাবে। বিশ্বব্যাপী সোশাল মিডিয়ার ব্যবহার পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই মেটা ক্রমশ ব্যক্তিগত এবং অস্থায়ী শেয়ারিংয়ের উপরই বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেছে। অনেক তরুণ ইউজারই এখন স্থায়ী পাবলিক পোস্টের পরিবর্তে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ছবি ইনবক্সে পাঠান। অনেকেই শুধুমাত্র বন্ধুদের সঙ্গে আলাপচারিতা পছন্দ করেন। এই ফিচারটির মাধ্যমে স্ন্যাপচ্যাট এবং বি-রিয়েল-এর মত অ্যাপ গুলোকে সরাসরি প্রতিযোগিতায় ফেলে দিয়েছে ইনস্টাগ্রাম। এই দুটি অ্যাপই রিয়েল-টাইম শেয়ারিংয়ের জন্য জনপ্রিয় হয়েছিল।
স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।
রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।
রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।
স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর উদয়পুরের মাতা বাড়িতে কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।
আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।