বিশেষ প্রতিবেদন

শ্রেয়া ঘোষাল
লাইভ কনসার্ট বা স্টেজ শো'র জন্য ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন সংগীত শিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল শুধুমাত্র তার কণ্ঠস্বরের জন্যই নয়, তার পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং প্রতিভার জন্য আজ আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। ছোটবেলার একটি সাধারণ মেয়ে থেকে আজকের সুপারস্টার হয়ে ওঠার গল্পটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। প্রথমেই তার পারিশ্রমিকের কথা বলা যাক। বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, শ্রেয়া ঘোষাল একটি গান গাওয়ার জন্য প্রায় ২০–২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেন।  আর লাইভ কনসার্ট বা স্টেজ শো-এর ক্ষেত্রে তার পারিশ্রমিক সাধারণত ১৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে, যা অনুষ্ঠান, দেশ-বিদেশ, এবং আয়োজনের আকার অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।  বড় আন্তর্জাতিক কনসার্ট বা কর্পোরেট শো হলে এই অঙ্ক আরও বাড়ে। এছাড়া কনসার্টের সাথে ভ্রমণ, ব্যান্ড, টেকনিক্যাল টিম—সব মিলিয়ে মোট খরচ অনেক বেশি হয়। এবার তার সম্পত্তির দিকে নজর দিলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী শ্রেয়া ঘোষালের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২০০ থেকে ২৪০ কোটি টাকার মধ্যে। এই বিপুল সম্পদের মূল উৎস হলো গান, লাইভ কনসার্ট, ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট, রিয়েলিটি শো-তে বিচারকের ভূমিকা এবং রয়্যালটি ইনকাম। শ্রেয়া ঘোষালের সাফল্যের গল্প শুরু হয় খুব অল্প বয়সে। তিনি মাত্র ৪ বছর বয়সে সংগীত শেখা শুরু করেন। তার মা-ই ছিলেন প্রথম গুরু। পরে তিনি শাস্ত্রীয় সংগীতের উপর প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু তার জীবনের বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে জনপ্রিয় টিভি রিয়েলিটি শো “Sa Re Ga Ma” জেতার মাধ্যমে। এই শো-তেই তার প্রতিভা নজরে আসে বিখ্যাত পরিচালক Sanjay Leela Bhansali-এর। এরপর তিনি “Devdas” সিনেমায় গান গাওয়ার সুযোগ পান—যেখানে “Dola Re Dola” ও “Bairi Piya” গানগুলো তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। এই সিনেমার জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও জিতে নেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি বিশাল মাইলফলক। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালায়ালম সহ বিভিন্ন ভাষায় হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি। তার কণ্ঠে রোমান্টিক, ক্লাসিক্যাল, আধুনিক—সব ধরনের গান সমান জনপ্রিয় হয়েছে। তার কণ্ঠের স্বচ্ছতা এবং আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। শ্রেয়ার সাফল্যের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে— প্রথমত, তার কঠোর সাধনা ও নিয়মিত রেওয়াজ। দ্বিতীয়ত, তার ভাষাগত দক্ষতা—তিনি বহু ভাষায় সাবলীলভাবে গান গাইতে পারেন। তৃতীয়ত, তার নম্রতা ও পেশাদারিত্ব—যা তাকে সংগীত জগতে দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে তিনি শুধু একজন গায়িকা নন, বরং একটি ব্র্যান্ড। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার কনসার্ট হয়—আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য—সব জায়গায় তার বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, শ্রেয়া ঘোষালের জীবন এক অসাধারণ উদাহরণ—যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম এবং সুযোগ একসাথে মিলেই তৈরি করেছে এক বিশ্বমানের তারকা। তার গল্প প্রমাণ করে, সঠিক পথে অধ্যবসায় থাকলে ছোটবেলার স্বপ্ন একদিন বাস্তব হয়। তথ্যসূত্র, বিভিন্ন বিনোদন ম্যাগাজিন

Admin এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
কোটি টাকার সম্ভাবনার ছবিমুড়া আজ অনিশ্চয়তায়—প্রতিদিন লক্ষাধিক আয়ের পর্যটন কেন্দ্র ঘিরে বাড়ছে সংকট

ত্রিপুরার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র ছবিমুড়া (দেবতামুড়া) শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, এখন ক্রমশ একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও উঠে আসছে। মূলত এটি পরিচালনা করে থাকে Tripura Tourism Department (ত্রিপুরা পর্যটন দপ্তর) Tripura Tourism Development Corporation Ltd (TTDCL)ও স্থানীয় প্রশাসন (অমরপুর সাবডিভিশন, গোমতী জেলা প্রশাসন)।পাহাড় কেটে খোদাই করা দেবদেবীর বিশাল ভাস্কর্য, গোমতী নদীর বুক চিরে নৌকা ভ্রমণ—সব মিলিয়ে এই পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার অর্থনৈতিক চক্র। মাঠ পর্যায়ের তথ্য এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পিক সিজনে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৬০০ পর্যটক ছবিমুড়ায় আসেন। এই পর্যটকদের অধিকাংশই নৌকা ভ্রমণ করেন, যা এখানকার প্রধান আকর্ষণ এবং আয়ের বড় উৎস। একটি নৌকা ভাড়া সাধারণত ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। সেই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি নৌকা ট্রিপ হয়, যার মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয় শুধুমাত্র নৌকা পরিষেবা থেকেই। এর পাশাপাশি রয়েছে খাবারের দোকান, চা-স্টল, স্থানীয় হস্তশিল্প ও ছোট ব্যবসা। একজন পর্যটক গড়ে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করেন। সেই হিসাবে দৈনিক আরও প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা এই খাত থেকে ঘোরে। এছাড়া অমরপুর থেকে গাড়ি বা অটো ভাড়া, গাইড সার্ভিস এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতিদিনের মোট অর্থনৈতিক লেনদেন সহজেই ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকার মধ্যে পৌঁছে যায়। মাসিক হিসাবে এই অঙ্ক আরও বড় আকার ধারণ করে। পর্যটন মৌসুমে (বিশেষ করে অক্টোবর থেকে মার্চ) মাসে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোকাল অর্থনীতি ছবিমুড়াকে ঘিরে ঘোরে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বছরে এই অঙ্ক দাঁড়াতে পারে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকার কাছাকাছি, যা একটি প্রত্যন্ত এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নির্দেশ করে। এই বিপুল সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ত্রিপুরা সরকার ছবিমুড়ার উন্নয়নে বড়সড় বিনিয়োগ করেছে। প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প ইতিমধ্যেই হাতে নেওয়া হয়েছে, যা মূলত Asian Development Bank-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা হচ্ছে ইকো-ফ্রেন্ডলি লগ হাট, আধুনিক ক্যাফেটেরিয়া, উন্নত ওয়াকওয়ে, পর্যটকদের জন্য বিশ্রামাগার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নৌ পরিষেবার আধুনিকীকরণ। এর পাশাপাশি বৃহত্তর পর্যটন উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছবিমুড়া ও অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ১৩০ কোটি টাকার একটি মাস্টার প্ল্যানও গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ছবিমুড়াকে আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ট্যুরিজম হাবে পরিণত করা, যাতে দেশ-বিদেশের পর্যটক আকৃষ্ট হয় এবং রাজ্যের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতে আরও কিছু বড় প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত রিসোর্ট নির্মাণ, পর্যটকদের জন্য নাইট স্টে সুবিধা, সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন এবং ডিজিটাল বুকিং সিস্টেম চালু করা। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে পর্যটকের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরাসরি স্থানীয় অর্থনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলবে। তবে এই উজ্জ্বল সম্ভাবনার মাঝেই বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সাম্প্রতিক অস্থিরতা। অভিযোগ উঠেছে, এই পর্যটন কেন্দ্রটিকে ঘিরে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী। যার ফলে পর্যটন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি তো হবেই, পাশাপাশি কোটি টাকার বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে পর্যটকদের আস্থা নষ্ট হবে এবং ছবিমুড়ার মতো সম্ভাবনাময় কেন্দ্র ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে পারে। ফলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো এলাকার অর্থনীতি। সব মিলিয়ে, ছবিমুড়া এখন একদিকে যেমন কোটি টাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক, অন্যদিকে তেমনি অস্থিরতার কারণে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রকে তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনতে পারে।  

Admin এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
পরকীয়া নয় অপরাধ, প্রেমিক যুগলের উপর হামলায় কঠোর BNS আইন: জানুন আপনার অধিকার

পরকীয়া এখন আর ফৌজদারি অপরাধ নয়—Joseph Shine v. Union of India মামলায় Supreme Court of India স্পষ্ট করে দিয়েছে যে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে সম্পর্ক রাখা অপরাধ নয়। কিন্তু বাস্তবে এখনও “নৈতিকতার” দোহাই দিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকাদের মারধর, আটকে রাখা বা ছবি ভাইরাল করার ঘটনা ঘটছে। নতুন ফৌজদারি কাঠামো Bharatiya Nyaya Sanhita (BNS) এই ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের জন্য একাধিক বিধান রেখেছে। প্রথমত, শারীরিক আক্রমণ বা মারধরের ক্ষেত্রে BNS-এ “স্বেচ্ছায় আঘাত করা” সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কেউ যদি প্রেমিক যুগলকে শারীরিকভাবে আঘাত করে বা হামলা চালায়, তাহলে তা সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একইভাবে, ভয় দেখানো বা আক্রমণের চেষ্টা করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। দ্বিতীয়ত, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রেমিক-প্রেমিকাদের জোর করে কোথাও আটকে রাখা হয় বা ঘিরে ধরে অপদস্থ করা হয়। BNS-এ “wrongful restraint” ও “wrongful confinement”-এর বিধান অনুযায়ী, কারও চলাচলের স্বাধীনতা জোর করে সীমাবদ্ধ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এর জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায়। তৃতীয়ত, বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ভাইরাল করা। BNS এবং সংশ্লিষ্ট সাইবার আইনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণ বা প্রচার করা “voyeurism” ও “privacy violation”-এর আওতায় পড়ে এবং এর জন্য কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া মানহানির অভিযোগও আনা যায়, যদি ওই ছবি বা ভিডিওর কারণে সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। চতুর্থত, হুমকি বা ব্ল্যাকমেল করার ঘটনাও এই ধরনের পরিস্থিতিতে দেখা যায়। BNS-এ “criminal intimidation”-এর ধারা অনুযায়ী, কাউকে ভয় দেখিয়ে বা চাপ দিয়ে কোনো কিছু করতে বাধ্য করা আইনত দণ্ডনীয়। আইনের পাশাপাশি সংবিধানও প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তাকে স্বীকৃতি দেয়। Justice K.S. Puttaswamy v. Union of India মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছে যে “Right to Privacy” একটি মৌলিক অধিকার। ফলে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করা বা তাদের অপদস্থ করা সরাসরি এই অধিকারের লঙ্ঘন। এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রেমিক-প্রেমিকারা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন তা জানা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমেই নিকটস্থ থানায় গিয়ে FIR দায়ের করতে হবে। মারধরের ঘটনা ঘটলে অবিলম্বে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা ও মেডিক্যাল রিপোর্ট সংগ্রহ করা উচিত, যা প্রমাণ হিসেবে কাজে আসবে। যদি ছবি বা ভিডিও ভাইরাল করা হয়, তাহলে তার স্ক্রিনশট ও লিংক সংরক্ষণ করে সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। আইনি সহায়তার জন্য একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সঠিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা (injunction) নেওয়া যায়, যাতে তারা আর কোনোভাবে হয়রানি করতে না পারে। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন বা মহিলা কমিশনের কাছেও অভিযোগ জানানো যেতে পারে, যদি ঘটনায় লিঙ্গভিত্তিক হয়রানি জড়িত থাকে। সবশেষে বলা যায়, পরকীয়া বা প্রেম ব্যক্তিগত বিষয়—এটি কারও বিরুদ্ধে সহিংসতা বা অপমান করার লাইসেন্স নয়। BNS এবং সংবিধানের অধিকার ভুক্তভোগীদের পক্ষে রয়েছে। তাই আইনকে কাজে লাগিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই একমাত্র সঠিক পথ।

Admin এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
বিদেশে কনসার্টে কোটি টাকার গায়ক কুমার শানু: এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তা

 ভারতের কিংবদন্তি গায়ক কুমার শানু বিদেশে (আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা) লাইভ মিউজিক শো করার জন্য কত টাকা নেন—এটা নির্দিষ্টভাবে একক রেট নয়। তবে বিভিন্ন বুকিং এজেন্সি ও ইভেন্ট তথ্য অনুযায়ী একটি আনুমানিক ধারণা দেওয়া যায়। প্রথমত, ভারতে তাঁর একটি লাইভ শো বা কর্পোরেট ইভেন্টের ফি সাধারণত ₹২৫ লাখ থেকে ₹৫০ লাখ পর্যন্ত হয়ে থাকে।  এখন বিদেশে শো করলে এই ফি আরও বেড়ে যায়, কারণ সেখানে যুক্ত হয়— আন্তর্জাতিক ভ্রমণ (ফ্লাইট, ভিসা) পুরো ব্যান্ড ও টিমের খরচ স্টেজ, সাউন্ড, লজিস্টিকস প্রোমোশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এই কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা কানাডার মতো দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ লাইভ কনসার্টের জন্য কুমার শানুর মোট চার্জ সাধারণত ₹৫০ লাখ থেকে ₹১.৫ কোটি বা তারও বেশি পর্যন্ত হতে পারে (ইভেন্টের স্কেল অনুযায়ী)। এছাড়া টিকিটের দাম থেকেও তাঁর জনপ্রিয়তার ধারণা পাওয়া যায়। বিদেশে তাঁর কনসার্টের টিকিট সাধারণত $60 থেকে $500+ (₹৫,০০০–₹৪০,০০০+) পর্যন্ত বিক্রি হয়, বিশেষ ভিআইপি প্যাকেজে আরও বেশি হতে পারে।  কী কী বিষয় ফি নির্ধারণ করে? বিদেশে কুমার শানুর পারফরম্যান্স ফি নির্ভর করে— অনুষ্ঠানের ধরন (কনসার্ট, কর্পোরেট, প্রাইভেট শো) ভেন্যুর আকার (হাজার বনাম কয়েক হাজার দর্শক) শহর (লন্ডন, নিউইয়র্ক, টরন্টো ইত্যাদি) লাইভ ব্যান্ড ও সহশিল্পীর সংখ্যা পারফরম্যান্সের সময় (১–৩ ঘণ্টা) সংক্ষেপে কুমার শানু এখনও আন্তর্জাতিক মঞ্চে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন শিল্পী। তাঁর মতো নব্বইয়ের দশকের কিংবদন্তি গায়কের জন্য বিদেশে একটি লাইভ শো করতে আয়োজকদের বড় বাজেট ধরতেই হয়। সাধারণভাবে বলা যায়, ছোট ইভেন্টে কয়েক দশ লাখ থেকে শুরু করে বড় কনসার্টে কোটি টাকার বেশি পর্যন্ত তাঁর পারিশ্রমিক পৌঁছাতে পারে।

Admin এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
সহিংসতা নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর: “এভাবে চলতে দেওয়া হবে না”, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

ত্রিপুরায় নির্বাচন-উত্তর পরিস্থিতি ঘিরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। সোমবার রাতে আগরতলার ভগৎ সিং যুব আবাসের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এভাবে চলতে পারে না, চলতে দেওয়া হবে না।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আক্রান্তদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অভিজ্ঞতা, যেখানে তিনি “ভয়ংকর নির্যাতনের” চিত্র শুনে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন বলে জানান। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতের মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে আগামীকাল রাজ্য পুলিশের মহা-নির্দেশকসহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “কেউ যদি আইনভঙ্গ করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।” তবে তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্কও উসকে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তিপ্রা মথার দুষ্কৃতীরাই একাধিক সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যদিও এই অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেই উঠে এসেছে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের বাস্তব চিত্র। তিনি স্বীকার করেন, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে সময় লাগতে পারে এবং দলীয় সংগঠনের দুর্বলতাও খতিয়ে দেখা হবে। তবে বিরোধী মহলের প্রশ্ন, শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিশেষ করে ভোট গণনার আগেও এবং পরেও একাধিক স্থানে পুলিশ আধিকারিকদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীন কর্মরত পুলিশকর্মীরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। রাজ্যে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থাই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Admin এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
পরিচয়ের রাজনীতিতে বিপুল জয়: এডিসি নির্বাচনে আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ও জাতীয় দলের সংকট

ত্রিপুরা স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফল শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক গতিপথে এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। বহুদিন ধরেই লক্ষ করা যাচ্ছিল যে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে মূলধারার জাতীয় রাজনীতির প্রতি একধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। সেই জায়গায় ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে পরিচয়ভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনীতি, যার প্রতিফলন এবারের নির্বাচনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখা গেল। টিপ্রা মথা দলের অভূতপূর্ব সাফল্য—২৮টির মধ্যে ২৪টি আসনে জয়—প্রমাণ করে যে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখন নিজেদের স্বার্থ, সংস্কৃতি, ভূমির অধিকার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রশ্নে একত্রিত হয়েছে। এই জয়ের বিশেষ তাৎপর্য হলো, তারা কোনো বড় জাতীয় দলের সঙ্গে সরাসরি জোট ছাড়াই এই সাফল্য অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে আঞ্চলিক শক্তি এখন নিজেদের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে স্বাধীনভাবে রাজনীতির ময়দানে লড়াই করতে সক্ষম। গত পাঁচ বছরে জেলা পরিষদ পরিচালনায় দুর্নীতি, উন্নয়নমূলক কাজের স্থবিরতা এবং সম্পদের অপব্যবহারের মতো নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। তবুও এই বিপুল জয় অনেককে বিস্মিত করেছে। তবে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের কাছে শুধুমাত্র উন্নয়ন নয়, বরং নিজেদের পরিচয় রক্ষা এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নই এখন প্রধান হয়ে উঠেছে। এই আবেগঘন বিষয়গুলোই ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, বামপন্থী দল ও কংগ্রেসের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা এই সত্যটিকেই সামনে নিয়ে আসে যে তারা এখনও এই অঞ্চলে নিজেদের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে পারেনি। কিছু আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। তাদের সংগঠনগত দুর্বলতা এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারা এই ফলাফলের অন্যতম কারণ। ভারতীয় জনতা পার্টির ক্ষেত্রে এই নির্বাচন একটি বড় সতর্কবার্তা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন প্রকল্প এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া সত্ত্বেও দলটি প্রত্যাশিত ফল করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সংগঠনের দুর্বলতা, নেতৃত্বের মধ্যে মতভেদ এবং তৃণমূল স্তরে মানুষের সঙ্গে সংযোগের অভাব। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রাজনৈতিক মহলে এমন গুঞ্জন রয়েছে যে দলেরই একটি অংশ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে পরোক্ষভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে সাহায্য করেছে। এছাড়াও জেলা পরিষদের তহবিল ব্যবহারে অনিয়ম এবং রাজ্যের সম্পদ দীর্ঘমেয়াদি লিজে দেওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সাংবিধানিক প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। ষষ্ঠ তফসিল স্বায়ত্তশাসনের একটি কাঠামো প্রদান করলেও, তা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয় না। রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা অপরিহার্য। এই ভারসাম্য রক্ষায় ব্যর্থতা প্রশাসনিক অসন্তোষ সৃষ্টি করলেও, তা ভোটের ফলাফলে তেমন প্রভাব ফেলেনি—যা রাজনৈতিক বাস্তবতার এক জটিল দিককে তুলে ধরে। সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচন ত্রিপুরার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আঞ্চলিক শক্তির উত্থান, পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির প্রসার এবং জাতীয় দলগুলির সীমাবদ্ধতা—এই তিনটি উপাদান আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণ করবে। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টির জন্য এটি আত্মসমালোচনার সময়। যদি তারা আবারও আদিবাসী সমাজে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পেতে চায়, তবে নতুন কৌশল, শক্তিশালী সংগঠন এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ স্থাপন করাই হবে তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Admin এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
৮১ শতাংশ ভোটে এডিসি নির্বাচন: ত্রিপুরার রাজনীতিতে ত্রিমুখী লড়াই ও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (এডিসি) নির্বাচনকে ঘিরে আজ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ভোটদানের হার প্রায় ৮১ শতাংশ, যা নিঃসন্দেহে একটি উচ্চ অংশগ্রহণের ইঙ্গিত বহন করে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, জনজাতি অধ্যুষিত এই অঞ্চলে ভোটারদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও আগ্রহ যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল থেকে বহু এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও, দিনের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তি, ইভিএম নিয়ে বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে আসে। যদিও এই ঘটনাগুলি সামগ্রিক ভোট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করতে পারেনি, তবুও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ভোটদানের হার যেমন গণতন্ত্রের পক্ষে ইতিবাচক বার্তা দেয়, তেমনি বিচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট, এবারের নির্বাচন মূলত ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবর্তিত হয়েছে—বিজেপি, তিপ্রা মথা এবং বিরোধী জোটের মধ্যে। তিপ্রা মথা জনজাতি স্বার্থ ও ‘গ্রেটার টিপরাল্যান্ড’ দাবিকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করেছে, যা একটি বড় অংশের ভোটারদের প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, শাসক দল বিজেপি উন্নয়নমূলক প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থিতিশীল প্রশাসনের বার্তা দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালিয়েছে। ৮১ শতাংশ ভোটদানের হার রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে আগ্রহী ছিল এবং রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাদের আরও সক্রিয় করেছে। তবে কিছু এলাকায় ভীতি ও উত্তেজনার খবর পাওয়া যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, এই উচ্চ অংশগ্রহণের পেছনে কতটা স্বতঃস্ফূর্ততা এবং কতটা চাপ কাজ করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন ত্রিপুরার জনজাতি রাজনীতিতে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। তিপ্রা মথার উত্থান আঞ্চলিক রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে, যেখানে পরিচয় ও স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নটি আরও জোরালোভাবে উঠে আসছে। একইসঙ্গে বিজেপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও প্রশাসনিক প্রভাব বজায় রাখতে সচেষ্ট, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলবে। সব মিলিয়ে, এডিসি নির্বাচন শুধু একটি প্রশাসনিক সংস্থার প্রতিনিধি নির্বাচন নয়, বরং এটি ত্রিপুরার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। উচ্চ ভোটদানের হার গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা প্রকাশ করলেও, বিক্ষিপ্ত অশান্তি প্রমাণ করে যে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ফলাফল যাই হোক, এই নির্বাচন রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Admin এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
অবৈধ মাংস ব্যবসায় লাগাম টানতে কড়া Tripura High Court, মাসিক রিপোর্টে নজরদারি বাড়ল

রাস্তার পাশে অবৈধভাবে মাংস কাটা ও বিক্রি রোধে ফের কড়া অবস্থান নিল Tripura High Court। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আদালত এবার সরাসরি নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৯ সালে আইনজীবী Ankan Tilak Pal দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে ২০২২ সালে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল—লাইসেন্স ছাড়া মাংস বিক্রি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই এবং রাস্তার ধারে খোলা জায়গায় মাংস কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। তবে বাস্তবে সেই নির্দেশ পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, Agartala Municipal Corporation মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও তা ছিল সাময়িক ও অসংগঠিত। নিয়মিত তদারকির অভাব, লাইসেন্স যাচাইয়ে শিথিলতা এবং নির্দিষ্ট স্লটারহাউস ব্যবহারে কঠোরতা না থাকায় সমস্যা থেকেই গেছে। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রকাশ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস কাটা-বিক্রির ছবি দেখা যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এই পরিস্থিতিতেই ৯ এপ্রিল ২০২৬ মামলাটি পুনরায় ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে। বিচারপতি M. S. Ramachandra Rao ও বিচারপতি Biswajit Pal স্পষ্ট বার্তা দেন—শুধু নির্দেশ দিলেই চলবে না, তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে জেলা District Legal Services Authority-কে পৌর নিগমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রতি মাসে অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্দেশ প্রশাসনের উপর চাপ বাড়াবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সহায়ক হতে পারে। তবে কার্যকর ফল পেতে হলে Agartala Municipal Corporation-কে নিয়মিত অভিযান, কঠোর লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং সচেতনতা বাড়ানোর দিকে আরও জোর দিতে হবে। আগামী ১৬ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে। তার আগে প্রশাসনের বাস্তব পদক্ষেপই এখন আদালতের নজরে থাকবে।

Admin এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
দেবপ্রিয় দেব,জুডো খেলোয়াড় NSRCC
মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনটি জাতীয় আসরে দুর্দান্ত পারফরমেন্সে নজর কেড়েছে দেবপ্রিয়

ত্রিপুরার ক্রীড়া মানচিত্রে নীরবে নিজের নাম লিখে চলেছে ১৪ বছরের কিশোর দেবপ্রিয় দেব। আগরতলার যোগেন্দ্রনগরের নিশান পাড়ার বাসিন্দা, উমাকান্ত একাডেমি ইংলিশ মিডিয়ামের অষ্টম শ্রেণির এই ছাত্র ইতিমধ্যেই তিনটি জাতীয় স্তরের সাব-জুনিয়র জুডো প্রতিযোগিতায় রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে ক্রীড়ামহলে আশার আলো জ্বালিয়েছে। পিতা দেবাশিস দেব ও মাতা মীরা দাস দেবের সন্তান দেবপ্রিয় পড়াশোনার পাশাপাশি কঠোর অনুশীলনেই গড়ে তুলেছে নিজের স্বপ্নের ভিত। পশ্চিম জেলার এনএসআরসিসি জুডো শাখার প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়ের কোচ রাজ্যের স্বনামধন্য জুডোকা প্রদীপ সরকার একসময় প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া এনএসআরসিসির ছোট শাখাটিকে পুনর্জীবিত করেন। প্রদীপ সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা এবং  ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের সহায়তা জুডো সেকশনটি নতুন দিশা দেখায়। সেই নবজাগরণেরই উজ্জ্বল ফসল দেবপ্রিয়।  এবার আসা যাক দেবপ্রিয়ের সফলতার পর্বে।২০২৩-২৪ সালে প্রথমেই দুইটি  রাজ্যভিত্তিক স্কুল প্রতিযোগিতায় একটি স্বর্ণ এবং রূপ্য পদক অর্জন করে দেবপ্রিয়। অন্যদিকে রাজ্যভিত্তিক জুডো ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার প্রতিযোগিতায় দুটি  স্বর্ণপদক অর্জন করে সে। ২০২৪ সালের আগস্টে ত্রিপুরা সরকারের আয়োজিত স্টেট লেভেল স্কুল স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় ৫০ উর্ধ্ব কেজি বিভাগে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক জিতে নজর কেড়েছিল সে।  সেই সাফল্যের সূত্র ধরেই জাতীয় মঞ্চে ডাক। ২০২৪  সালের জানুয়ারিতে Sub Junior National Judo Championship-গুজরাটে অংশগ্রহণ করে সে।পরে ২০২৫ সালে মহারাষ্ট্রের Pune-তে ৬৬ কেজি ঊর্ধ্ব বিভাগে লড়াই করে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে দেবপ্রিয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে হায়দ্রাবাদে  অনুষ্ঠিত জাতীয় আসরেও অংশ নিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেয় সে। তিনটি জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত করেছে। শুধু জুডো নয়, দাবাতেও রয়েছে তার কৃতিত্ব ও পদক। খেলাধুলার পাশাপাশি বইপড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সমান আগ্রহী এই কিশোর প্রমাণ করে দিচ্ছে—শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে ত্রিপুরার মাটিতেও জাতীয় মানের খেলোয়াড় উঠে আসতে পারে। রাজ্য ক্রীড়ামহলের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে দেবপ্রিয় দেব আরও বড় সাফল্য এনে দেবে ত্রিপুরাকে।

Admin ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
AI ডিপফেক রুখতে কড়া কেন্দ্র: তিন ঘণ্টায় সরাতে হবে ভুয়ো কনটেন্ট

দেবাশিস দেব।।যন্ত্রমেধা তথা AI-এর দ্রুত বিস্তারে আসল-নকলের ফারাক ক্রমেই ঝাপসা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ডিপফেক ও কৃত্রিম কনটেন্টের অপব্যবহার রুখতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির উপর কড়া নির্দেশ জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত খসড়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, AI দিয়ে তৈরি সব ডিপফেক কনটেন্ট চিহ্নিত করে অবিলম্বে সরাতে হবে। সংশোধিত এই নিয়ম কার্যকর হবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, ডিপফেক ভিডিও, কৃত্রিম অডিও, বিকৃত দৃশ্যপট—সব ক্ষেত্রেই AI কনটেন্ট হিসেবে ‘লেবেল’ বা চিহ্নিতকরণ বার্তা থাকতে হবে। পাশাপাশি মেটাডেটা ও ইউনিক আইডেন্টিফায়ার যুক্ত রাখতে হবে, যাতে কনটেন্টের উৎস শনাক্ত করা যায়। একবার AI লেবেল বসানো হলে তা আর সরানো বা আড়াল করা যাবে না। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব-সহ সব বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে সরকার বা আদালতের নির্দেশ পেলে তিন ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত ডিপফেক কনটেন্ট সরাতে হবে। আগে এই সময়সীমা ছিল ৩৬ ঘণ্টা। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মগুলিকে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি চালু করে বেআইনি, যৌনতাপূর্ণ বা প্রতারণামূলক AI কনটেন্ট শনাক্ত ও তার প্রচার রুখতে হবে। এছাড়াও, প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার ব্যবহারকারীদের AI-এর অপব্যবহারের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘন হলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ছাড়াও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৪৫, POCSO আইনের ৩২ ধারা এবং এক্সপ্লোসিভ সাবস্ট্যান্সেস আইনের ২ নম্বর ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কেন্দ্র জানিয়েছে, কনটেন্ট তৈরি, আপলোড, শেয়ার বা পরিবর্তনের যে কোনও ধাপে নিয়মভঙ্গ ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে দ্রুত ও যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তি বা সংস্থা—AI কনটেন্ট প্রকাশে স্বচ্ছতা বাধ্যতামূলক, আর সেই ঘোষণার সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্বও থাকবে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির উপর। লেখক সাংবাদিক/ হেডলাইনস ত্রিপুরা ন্যাশনাল

Admin ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
এপস্টিন ফাইলস: ক্ষমতার অন্দরমহলে যৌ ন পা চা রে র ছায়া, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক

দেবাশিস দেব।।মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে প্রকাশ্যে আসা নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন নতুন করে বিশ্ব রাজনীতিতে ও ক্ষমতার অন্দরমহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই শিশু ও কিশোরীদের যৌন পাচার এবং শোষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এপস্টিনের সঙ্গে বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পর্কের তথ্য সামনে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নির্দেশে উন্মুক্ত হওয়া বিভিন্ন নথি—যা ‘এপস্টিন ফাইলস’ নামে পরিচিত—এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। জেফরি এপস্টিন ছিলেন একজন প্রভাবশালী ফাইন্যান্সিয়ার, যিনি ধনী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা করতেন। সেই সূত্রেই রাজনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও বিনোদন জগতের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা ছিল। তদন্ত নথিতে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে তিনি ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছেন, অভিজাত দ্বীপে পার্টির আয়োজন করেছেন এবং উচ্চপর্যায়ের অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এসব নথিতে নাম উঠে এসেছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং একাধিক আন্তর্জাতিক কর্পোরেট জগতের পরিচিত মুখের। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলছেন, নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা প্রমাণিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে কেবল সামাজিক যোগাযোগ, সাক্ষাৎ বা ভ্রমণের রেকর্ডই সামনে এসেছে। এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে অধিকাংশ প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি, কিংবা আদালতে তা প্রমাণিতও হয়নি। এপস্টিন নিজে ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, যা নিয়েও রহস্য ও বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। এপস্টিন কাণ্ডে সবচেয়ে বড় সাজা পেয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্লিস্লেইন ম্যাক্সওয়েল। যুক্তরাষ্ট্রের আদালত তাঁকে শিশু যৌন পাচার ও শোষণে সহায়তার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেন। তদন্তকারীদের মতে, ম্যাক্সওয়েলই এপস্টিনের জন্য নাবালিকাদের প্রলুব্ধ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—ক্ষমতা ও অর্থ কি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধকে আড়াল করে রাখতে পারে? মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এপস্টিন কাণ্ড দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে সামাজিক প্রভাব ও রাজনৈতিক যোগাযোগ তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তারা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি সব নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টিন ফাইলস শুধু একজন অপরাধীর কাহিনি নয়; এটি বিশ্বব্যবস্থায় ক্ষমতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার এক কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে আরও নথি প্রকাশ হলে এই কেলেঙ্কারির পরিধি কতদূর বিস্তৃত হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ব।

Admin ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
শিলচরে স্পা সেন্টার ও বিউটি পার্লারে পুলিশি অভিযান, তবে একই বিষয়ে ত্রিপুরা পুলিশ কেন চুপ প্রশ্ন!

দেহব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অবৈধভাবে পরিচালিত স্পা ও সেলুনগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পুলিশ। দুদিন আগে শিলচরের পল্টনবাজার, চান্দমারি, পানবাজার ও গীতানগর থানার পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের তরুণীদের অবৈধভাবে দেহব্যবসায় যুক্ত করে একটি র‍্যাকেট চালিয়ে আসছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্পা ও সেলুনের নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ পুলিশ দীর্ঘদিন ধরেই পেয়ে আসছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত পাঁচটি স্পা ও সেলুনের সন্ধান পাওয়া যায়। চারটি থানায় মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে পুলিশ ১০ জনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানায়, পানবাজারের ভার্গব হেয়ার বিউটি স্পা অ্যান্ড ইউনিসেক্স সেলুন থেকে মনোজ কুমার ঢাকুয়াসহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গীতানগরের মৌ স্পা হেয়ার অ্যান্ড বিউটি সেলুন থেকে অসীম শর্মাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার এবং দুইজনকে উদ্ধার করা হয়। পানবাজারের ব্লিচ স্পা ইউনিসেক্স সেলুন থেকে জ্ঞানেন্দ্র তালুকদারসহ দু'জনকে গ্রেপ্তার এবং তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। পানবাজারের দিব্যা বিউটি স্টুডিও থেকে একজনকে গ্রেফতার এবং তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। চান্দমারির কালার্চ হেয়ার অ্যান্ড বিউটি স্পা থেকে একজনকে গ্রেফতার এবং দুইজনকে উদ্ধার করা হয়।। পুলিশ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার এবং ১৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অধিকাংশ ভুক্তভোগী গ্রামের বাসিন্দা। বিশেষ করে গ্রামের তরুণীদের লক্ষ্য করে অভিযুক্তরা এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাত এবং ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি তরুণীদের দিয়ে দেহব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। আজ অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা হলে তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। গোটা ঘটনার তদন্ত বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। অসমের শিলচরে এবং অন্যান্য স্থানে এই সমস্ত কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিলেও ত্রিপুরার প্রেক্ষাপট কিন্তু সম্পন্ন অন্যরকম। আগরতলা শহরসহ আশপাশ এলাকা এবং বিভিন্ন মহকুমায় হোটেলে স্পা ম্যাসাজ সেন্টারের নামে দেহ ব্যবসা চলছে এবং লক্ষ্য করা যাচ্ছে এই সমস্ত ক্ষেত্রে রাজধানীর পুলিশ একেবারে নির্বিকার। ত্রিপুরার বিভিন্ন হোটেল এবং স্পা সেন্টার এখন এতটাই কুখ্যাত হয়ে উঠেছে যে বিভিন্ন রাজ্য থেকে এখানে দেহ ব্যবসার ঠিকানায় উঠে যাচ্ছে খদ্দেররা। আগরতলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কিছু স্পা সেন্টারে বাংলাদেশ থেকে অসম থেকে প্রতিনিয়ত কাস্টমাররা আসছে। পুলিশ এই সব ঠিকানা সম্পর্কে তথ্য জানলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। পুলিশের এক্ষেত্রে বড় ধরনের এক দুর্বলতা রয়েছে। তবে 'শিরোনামে ত্রিপুরা'র তরফে  প্রত্যেকটি সেন্টার এবং বিউটি পার্লার যেখানে দেহ ব্যবসা চলছে মাদকের ব্যবসায় চলছে তার নামসহ প্রমানসহ তুলা ধরা হবে। (চলবে)

Admin জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
সরকারি কার্যালয়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় উপস্থিতি: আইন কী বলছে?

দেবাশিস দেব।।সরকারি কার্যালয়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কর্মরত থাকা বা দায়িত্ব পালন করা একটি গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয় হিসেবে গণ্য হয়। ভারতীয় আইন ও সরকারি পরিষেবা বিধি অনুযায়ী, এমন আচরণ শুধুমাত্র চাকরির শর্ত ভঙ্গই নয়, জনস্বার্থের পরিপন্থী বলেও বিবেচিত হয়। এর বিরুদ্ধে কড়া আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। ভারতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য Central Civil Services (Conduct) Rules, 1964 এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য পরিষেবা বিধিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মচারী কর্মস্থলে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এই বিধি লঙ্ঘন করলে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে এবং শাস্তি হিসেবে সতর্কবার্তা, বেতন কাটা, পদাবনতি, সাময়িক বরখাস্ত বা গুরুতর ক্ষেত্রে চাকরি থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত করা যেতে পারে। আইনগত দিক থেকে, যদি কোনও কর্মচারী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন বা জনসাধারণের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, তবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর আওতায় অভিযোগ দায়ের হতে পারে। এছাড়াও, প্রকাশ্যে মাতাল অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আবগারি আইন ও দণ্ডবিধির ধারায় মামলা হতে পারে। ত্রিপুরা রাজ্যের ক্ষেত্রেও এই নিয়মগুলি কার্যকর। রাজ্য সরকারের Tripura Civil Services (Conduct) Rules অনুযায়ী, কর্মস্থলে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ধরা পড়লে তা “গুরুতর অসদাচরণ” হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রয়োজনে মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে অভিযোগ প্রমাণ করা হয় এবং বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কার্যালয়ে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এতে একদিকে যেমন সরকারি পরিষেবার মান রক্ষা হয়, তেমনি সাধারণ মানুষের আস্থাও বজায় থাকে।

Admin জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ 0
জনজাতি যুবতীদের টার্গেট করে এখন চলছে আন্তরাজ্য গাঁজা পাচার

মাদক পাচারের কৌশল ক্রমশ আরও ভয়ঙ্কর ও সূক্ষ্ম হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে এখন পাচারকারীরা সচেতনভাবেই মেয়েদের, বিশেষ করে সহজ-সরল জনজাতি যুবতীদের ব্যবহার করে তাদের বেআইনি ব্যবসা চাঙ্গা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ঘটনায় ধরা পড়ছে, কীভাবে পরিকল্পিতভাবে তরুণীদের সামনে রেখে পর্দার আড়াল থেকে গোটা মাদকচক্র পরিচালিত হচ্ছে। আগরতলা রেল স্টেশনে ৪৬ কেজি গাঁজাসহ চার যুবতী গ্রেফতারের ঘটনা ফের সেই আশঙ্কাকেই সত্য প্রমাণ করল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এই যুবতীরা কেউই মাদক কারবারের মূল মাথা নয়। বরং তাদের ব্যবহার করা হয়েছে বাহক হিসেবে। স্বল্প টাকার লোভ, সহজ কাজের প্রলোভন কিংবা নানা ধরনের মানসিক চাপে পড়ে অনেকেই ধীরে ধীরে এই অন্ধকার জগতে ঢুকে পড়ছে। একবার জড়িয়ে পড়লে বেরিয়ে আসার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এর ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বহু তরুণীর জীবন। পড়াশোনা, পরিবার, ভবিষ্যৎ—সবকিছু এক মুহূর্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে মাদকচক্রের ফাঁদে পড়ে। জনজাতি অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকার মেয়েরা এই চক্রের সহজ টার্গেটে পরিণত হচ্ছে বলে মনে করছেন সমাজকর্মীরা। সচেতনতার অভাব, আর্থিক দুর্বলতা এবং কাজের সুযোগের সংকটকে কাজে লাগিয়েই পাচারকারীরা তাদের জালে টেনে নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একদিকে যেমন উদ্ধার ও গ্রেফতারে তৎপরতা বাড়িয়েছে, তেমনি এই চক্রের মূল হোতাদের খোঁজে তদন্ত জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। শুধু বাহক ধরা পড়লেই সমস্যার সমাধান হবে না—এই পাচারের নেপথ্যে কারা রয়েছে, কোথা থেকে গাঁজা আসছে এবং কোথায় পাচার হচ্ছিল, তা উদ্ঘাটন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়টিকে অত্যন্ত সিরিয়াসভাবে নেওয়া জরুরি। কড়া আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং জনজাতি এলাকায় নিয়মিত কাউন্সেলিং ও নজরদারি। নইলে পাচারকারীদের এই নোংরা খেলায় আরও কত তরুণীর জীবন যে অন্ধকারে তলিয়ে যাবে, তার শেষ 

Admin জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ 0
এআই অপপ্রয়োগে বাড়ছে ব্ল্যাকমেইলিং, বিপন্ন সামাজিক নিরাপত্তা

দেবাশিস দেব।।ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার একদিকে যেমন আধুনিক জীবনকে সহজ করে তুলেছে, তেমনই এর অপপ্রয়োগ সমাজে ভয়াবহ সংকট তৈরি করছে। বিশেষ করে এআই-নির্ভর বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও (ডিপফেকে) তৈরি করে মহিলাদের ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনা দেশের একাধিক রাজ্যে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদ, মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব সহ বিভিন্ন রাজ্যে এমন একাধিক ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকা সাধারণ ছবি সংগ্রহ করে এআই-এর মাধ্যমে সেগুলোকে অশ্লীল বা আপত্তিকর ভিডিও-ছবিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। এরপর সেই ভুয়া কনটেন্ট ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় কিংবা মানসিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। হায়দ্রাবাদের একটি ঘটনায় এক কলেজছাত্রীর ছবি ব্যবহার করে এআই-তৈরি নগ্ন ছবি বানিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধে মামলা রুজু হয়। একইভাবে মহারাষ্ট্রে এক জনপ্রিয় নারী গেমিং ইনফ্লুয়েন্সারের নামে ডিপফেকে ভিডিও ছড়িয়ে সামাজিক বিভ্রান্তি ও মানহানির চেষ্টা করা হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে। শুধু ব্যক্তিগত স্তরে নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও এআই-এর অপব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভুয়া ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি কিংবা সামাজিক সংগঠনকে বদনাম করার ঘটনাও সামনে আসছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্য যাচাই করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি এখন এতটাই উন্নত যে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল ও নকল কনটেন্টের পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মহিলা ও কিশোরীরা। মানসিক চাপ, সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ জানাতেও সাহস পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। এআই-তৈরি কনটেন্টে স্পষ্ট লেবেল বা ওয়াটারমার্ক, কড়া সাইবার আইন প্রয়োগ এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টাকে ঘিরে 'শিরোনামে ত্রিপুরা' ওয়েব পোর্টালের একটি টিমের তরফে আগরতলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল তাতে বেশিরভাগ মোবাইল ব্যবহারকারী সাইবার ক্রাইমে শাখাতে আরো বেশি আধুনিক এবং একটিভ হবার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির এই যুগে এআই নিঃসন্দেহে এক বড় আশীর্বাদ, তবে তার অপব্যবহার রোধে আইন, সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ একসঙ্গে না বাড়লে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের। লেখকঃ সিনিয়র রিপোর্টার,হেডলাইন্স ত্রিপুরা ন্যাশনাল   

Admin জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
আগরতলার চতুর্দিকে শুধু নেতা-মন্ত্রীদের বিশালাকার ছবি

আগরতলা শহর এখন আর শুধুই রাজধানী নয়—এ যেন এক চলমান ফ্লেক্স প্রদর্শনী কেন্দ্র। দ্রষ্টব্যমূলক স্থান দেখতে এসে পর্যটকরা প্রথমেই যে জিনিসটি দেখছেন, তা ইতিহাস নয়, স্থাপত্য নয়—দেখছেন হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা নেতা-মন্ত্রীদের বিশালাকার মুখাবয়ব। মনে হচ্ছে আগরতলার সৌন্দর্য সংরক্ষণের দায়িত্ব নয়, বরং “কে কত বড় ফ্লেক্স কাটতে পারে” সেই অলিখিত প্রতিযোগিতাই এখন মুখ্য। আগরতলা পৌর নিগমের নিয়ম-নীতিগুলি বোধহয় এখন বিশ্রামে। কারণ নিয়মের চোখে পড়ার আগেই ফ্লেক্স ঢেকে দিচ্ছে সবকিছু। রাজবাড়ি, উদ্যান, রাস্তার মোড়—সবই আজ পোস্টার-ফ্লেক্সের ছায়ায় ঢাকা। পর্যটকরা বিস্ময়ে বলছেন, “এত দৃশ্য দূষণ আমরা ভারতে আর কোথাও দেখিনি।” সত্যিই তো, আগরতলা যেন গিনেস বুকে নাম তোলার প্রস্তুতিতে—সবচেয়ে বেশি ফ্লেক্সে ঢাকা শহর হিসেবে। আখাউড়া রোড, শকুন্তলা রোড, সেন্ট্রাল রোড, জগন্নাথবাড়ি রোড, বটতলা রোড—কোথাও ফাঁকা দেয়াল নেই, খালি আকাশটুকুও যেন দখলের পথে। কোথাও মনে হচ্ছে রাস্তা নয়, ফ্লেক্সের গ্যালারি; আবার কোথাও মনে হচ্ছে শহর নয়, এক বিশাল রাজনৈতিক অ্যালবাম। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই ফ্লেক্সগুলোর মুখে এমন আত্মবিশ্বাস—যেন শহরের সৌন্দর্য ঢেকে দেওয়াই উন্নয়নের নতুন সংজ্ঞা। আগরতলার দর্শনীয় স্থানগুলো আজ নিশ্চয়ই লজ্জায় মুখ ঢেকেছে… অবশ্য ফ্লেক্স দিয়ে সে কাজ আগেই সেরে ফেলা হয়েছে।

Admin জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
ভারতে নিষিদ্ধ ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপসগুলো কী কী তা জানুন

দেবাশিস দেব।।জাতীয় নিরাপত্তা, ডেটা গোপনীয়তা, আর্থিক প্রতারণা ও অনৈতিক কনটেন্টের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ভারত সরকার ২০২৫ সাল পর্যন্ত একাধিক মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করেছে।  কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) নির্দেশে এই নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যকর হয়। ২০২০ সাল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে টিকটক, শেয়ারইট, ইউসি ব্রাউজার, হেলো, লাইকি, এক্সেন্ডার, ক্যামস্ক্যানার-সহ শতাধিক চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের দাবি, এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশে পাচার করছিল এবং তা ভারতের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার পক্ষে হুমকি ছিল। পরবর্তী সময়ে ভিডিও ও ভয়েস চ্যাটিংয়ের নামে ডেটা অপব্যবহারকারী প্রায় ১০০-র বেশি অ্যাপ, পাশাপাশি জুয়া ও রিয়াল-মানি বেটিং প্রচারকারী অনলাইন গেমিং অ্যাপ যেমন কিছু ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টো-বেটিং প্ল্যাটফর্মও নিষিদ্ধ তালিকায় যুক্ত হয়। এছাড়া আইটি আইন লঙ্ঘন ও অশ্লীল কনটেন্ট সম্প্রচারের অভিযোগে ULLU, ALTT, Desiflix, Mojflix, Boomex-সহ একাধিক ওটিটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্লক করার নির্দেশ দেয় সরকার। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ডিজিটাল ভারতের স্বার্থে নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষা, সামাজিক শালীনতা ও আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। ভবিষ্যতেও ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি অ্যাপের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চলবে।

Admin জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের ময়মনসিংহে কবর খুঁড়ে ১০টি কঙ্কাল চুরি, অর্থের লোভে বিক্রির অভিযোগ

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার একটি কবরস্থান থেকে ১০টি কঙ্কাল চুরির অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার চর লক্ষ্মীপুর এলাকার কাছিমুল উলুম কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন আহমেদ। কবরস্থানসংলগ্ন মাদরাসা ও জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা এখলাছ জানান, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা কবরস্থানে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে ১০টি কবর খুঁড়ে সেখান থেকে কঙ্কাল চুরি করে নিয়ে যায়। সকালে বিষয়টি কারও নজরে না এলেও বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক ব্যক্তি তার বাবার কবর জিয়ারত করতে এসে কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের জানালে কবরস্থানে গিয়ে ১০টি কবর খোঁড়া এবং কঙ্কাল না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। ঘটনার খবর পেয়ে কবরস্থান কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান মাওলানা এখলাছ। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চরম অবমাননা। যারা এই ঘৃণ্য কাজ করেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। এসআই হুমায়ুন আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জানা গেছে, টাকার লোভে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মৃত ব্যক্তিদের কঙ্কাল চুরি করে বিক্রি করে থাকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পূর্বে ঘটে যাওয়া একাধিক কঙ্কাল চুরির ঘটনায় তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে দেখা গেছে, কঙ্কালগুলো অবৈধভাবে বেচাকেনার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে চোরচক্র। ধারণা করা হচ্ছে, ময়মনসিংহের এই ঘটনার পেছনেও একই ধরনের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে চক্রটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Admin জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
বেঙ্গালুরুতে যৌন হেনস্তা প্রতিরোধ করায় মহিলা সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে খুন, গ্রেপ্তার ১৮ বছরের যুবক

কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে সপ্তাহখানেক আগে এক নারী সফটওয়্যার প্রকৌশলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় তাঁর ভাড়া বাসায়। উদ্ধারের এক সপ্তাহ পর তদন্তকারীরা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, যৌন হেনস্তার চেষ্টা প্রতিরোধ করায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ ওই নারীকে হত্যা করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী শর্মিলা ডিকেকে গত ৩ জানুয়ারি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল যে, রামামূর্তি নগরের সুব্রামানি লেআউটে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে অগ্নিকাণ্ডের পর ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪(৩)(৪) ধারায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ ব্যবহার করে পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। গ্রেপ্তারকৃত তরুণ কর্ণেল কুরাই নিহতের পাশের বাসাতেই থাকত। জিজ্ঞাসাবাদে কুরাই অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। সে পুলিশকে জানায়, ৩ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে যৌন লালসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে একটি স্লাইডিং জানালা দিয়ে সে শর্মিলার ঘরে ঢোকে। ভুক্তভোগী নারী বাধা দিলে সে জোরপূর্বক তাঁর মুখ ও নাক চেপে ধরে, যার ফলে তিনি প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী রক্তাক্ত জখমও হন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর পোশাক এবং অন্যান্য আলামত শোবার ঘরের তোষকের ওপর রেখে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় সে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনটিও চুরি করে নিয়ে যায়। স্বীকারোক্তি এবং পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৩(১) (খুন), ৬৪(২), ৬৬ এবং ২৩৮ (প্রমাণ ধ্বংস) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় বর্তমানে অধিকতর তদন্ত চলছে।

Admin জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
প্রতাপগড় পার্টি অফিসে হামলা মামলায় গ্রেফতার শাসকদলীয় নেতা কানাই সাহা

রাজধানীর প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রের ব্রিজ সংলগ্ন শাসকদলীয় পার্টি অফিসে হামলা ও দলীয় কর্মীদের মারধরের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হল শাসক দলেরই নেতা কানাই সাহা। কয়েকদিন ধরে পলাতক থাকার পর বুধবার তাকে আটক করে পূর্ব থানার পুলিশ। ধৃত কানাই সাহার বাড়ি চিত্তরঞ্জন ক্লাব এলাকায় বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতাপগড় পার্টি অফিসে হামলার ঘটনার পর থেকেই কানাই সাহা আত্মগোপনে চলে যায়। গত শনিবার রাতে সে তার তথাকথিত ‘বাইক বাহিনী’ নিয়ে এলাকায় হামলা চালায়। অভিযোগ, ওই হামলায় শাসকদলীয় যুব মোর্চার একাধিক কর্মীকে মারধর করা হয় এবং কয়েকজন মহিলাও নিগৃহীত হন। ঘটনার পরপরই প্রতাপগড় এলাকার শাসকদলীয় সমর্থক যুব মোর্চার কর্মী ও মহিলারা পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ব থানার ওসি ইন্সপেক্টর সুব্রত দেবনাথের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয় এবং অবশেষে বুধবার তাকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। কানাই সাহার গ্রেফতারের খবরে মোটর স্ট্যান্ড এলাকা সহ আশপাশের অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, কানাই সাহা দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। সে তার বাইক বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় তোলাবাজি, ভয় দেখানো ও হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয় বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

Admin জানুয়ারী ৭, ২০২৬ 0
বাংলাদেশে হিংসার নেপথ্যে পাকিস্তানের ‘ঢাকা সেল’? ভারতের গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার।।বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া হিংসা ও অস্থিরতার পিছনে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর (ISI) হাত রয়েছে বলে মনে করছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের অন্দরেই গোপনে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ ইউনিট, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঢাকা সেল’। এই সেলের মাধ্যমেই বাংলাদেশে অরাজকতা তৈরির ছক কষা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের ঢাকা সফরের পরেই এই ‘ঢাকা সেল’ গঠন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং প্রতিবেশী ভারতও তাদের ষড়যন্ত্রের অন্যতম টার্গেট। গোয়েন্দা ইনপুট অনুযায়ী, এই গোপন ইউনিটে পাকিস্তানের সেনা, বায়ুসেনা ও নৌসেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা যুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে ব্রিগেডিয়ার, কর্নেল ও মেজর পদমর্যাদার আধিকারিকরাও শামিল। অভিযোগ, বাংলাদেশে মৌলবাদি কার্যকলাপ বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদী নিয়োগ (Terror Grooming) এবং বড়সড় নাশকতা সৃষ্টিই এই সেলের প্রধান কাজ। সম্প্রতি ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে যে প্রবল অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, তা এই সেলেরই ‘পূর্বপরিকল্পিত অপারেশন’ বলে মনে করছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। নির্বাচন ও অস্থিরতার ছক সূত্র মারফত জানা গেছে, গত অক্টোবর মাস থেকেই বাংলাদেশে বড় ধরনের গোলযোগ সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছিল এই সেল। তারা কেবল সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে নির্বাচনের ঘোষণা হতেই সেই সুযোগ কাজে লাগায় পাকিস্তান। উদ্দেশ্য—অস্থিরতা জিইয়ে রেখে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে আনা অথবা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ বদলে দেওয়াই আইএসআই-এর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, এই কৌশলটি শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে পরিচালিত পুরনো একটি আইএসআই অপারেশনেরই প্রতিচ্ছবি, যা পরে ভারতের এনআইএ (NIA) দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল। ১৯৭১-এর বদলা ও ভারত-বিরোধী ষড়যন্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরাজয়ের গ্লানি এখনও ভুলতে পারেনি পাকিস্তান। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ‘ভালনারেবল’ বা দুর্বল মনে করছে। তবে গোয়েন্দারা সতর্ক করছেন যে, আইএসআই-এর মূল লক্ষ্য আসলে ভারত। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় করা এবং সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বাড়িয়ে ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাটল ধরানোই তাদের বৃহত্তর এজেন্ডা। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টাও এর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। পাকিস্তানের এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ভারত যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সক্ষম, সে বিষয়েও আত্মবিশ্বাসী নয়াদিল্লি। 

Admin ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ 0
Popular post
একটি অনুষ্ঠানের জন্য বলিউডের সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল কত টাকা নেন জানুন

স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।

আগরতলায় দেহ ব্যবসা ও মাদকের বিস্তার: নীরব দর্শক কি প্রশাসন?

রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।

“পাঁচ কোটির প্রতারণা! অভিযুক্তের স্বামী পুলিশ কনস্টেবল, তদন্তে উঠছে প্রশ্ন”

রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।

স্বামীর নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা ও মানহানির অভিযোগ—ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ গৃহবধূ সুস্মিতা

স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর  উদয়পুরের মাতা বাড়িতে  কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার  বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার  বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। ‌ রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার  সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।

সাইকেলের ঘণ্টা থেমে গেল: ‘পচা আচার’-এর জয়ন্ত রায় আর নেই

আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।

Top week

রাজনীতি

ত্রিপুরার রাজনীতিতে এখনও ফ্যাক্টর সুবল, তবে কোন দিকে যাচ্ছে তাঁর পথচলা?

Admin মে ৩০, ২০২৬ 0