রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী জুন মাসে একাধিক দফায় পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকদের বদলি করা হবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এই বদলি প্রক্রিয়ায় ঊর্ধ্বতন পদ থেকে শুরু করে থানাস্তরের কর্মী পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় কিছু পুলিশ কর্মীর নাম জড়িয়ে পড়ায় স্বরাষ্ট্র দপ্তর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর জেরে কর্মক্ষমতা, জনসাধারণের অভিযোগ নিষ্পত্তির হার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা এবং প্রশাসনিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী আগরতলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানার ওসি, তদন্তকারী অফিসার এবং কয়েকজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকের দায়িত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল। জানা গেছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা অফিসারদের অন্যত্র পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকা ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অভিজ্ঞ ও দক্ষ আধিকারিকদের নিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সামনে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন, পুরনিগম নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে থানাগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জনবান্ধব পুলিশিং এবং অপরাধ দমনে তৎপরতা বাড়ানোর উদ্যোগও জোরদার হয়েছে। প্রশাসনিক মহলে এই সম্ভাব্য রদবদলকে নির্বাচন-পূর্ব অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে পারে।
ফের এক নবজাতকের জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্য পেল ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ। মাত্র দু’দিন বয়সী এক শিশুর জন্মগত ডায়াফ্রাম হার্নিয়ার সফল অপারেশন করে নজির গড়লেন ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা। জানা গেছে, মেলাঘরের পশ্চিম নলছড় এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর রায়ের নবজাতক পুত্রের জন্মের আগেই ধরা পড়ে বিরল এই জটিল সমস্যা। শিশুটির পেটের নাড়িভুঁড়ি বাদিকের বুকের অংশে উঠে ফুসফুসের উপর চাপ সৃষ্টি করছিল।সেই অনুসারে গত ১৯শে মে জিবি হাসপাতালে শিশুটির জন্মের পরই তাকে ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর পরদিন সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ অনুরুদ্ধ বসাক প্রায় দু’ঘণ্টা ব্যাপী অস্ত্রোপচার করে শিশুটির জটিল অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেন।বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে মায়ের দুধ পান করছে। আগামী দু’-তিন দিনের মধ্যেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হতে পারে বলে শুক্রবার ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে একথা জানিয়েছেন ডাঃ অনুরুদ্ধ বসাক।
সকল প্রকার জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অভিষেক দেবরায় প্রদেশ বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন। তিনি বিদায়ী প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্যের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রসঙ্গত, প্রদেশ সভাপতির পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্দরমহলে জোর জল্পনা চলছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিজেপির জাতীয় নেতৃত্ব অভিষেক দেবরায়ের নাম চূড়ান্ত করে। ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন তাঁকে প্রদেশ বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করেছেন। এদিন বিজেপির জাতীয় মহাসচিব ও সদর দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অরুণ সিং এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। অবিলম্বে তিনি ত্রিপুরা বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এদিকে, ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির সভাপতি হিসেবে অভিষেক দেবরায়ের নিয়োগে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, তাঁর গতিশীল নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতায় দল আরও শক্তিশালী হবে এবং ত্রিপুরার মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী। তাঁর সফল কার্যকালের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।পাশাপাশি, ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার জন্য অভিষেক দেবরায়কে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, তাঁর গতিশীল নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক দূরদর্শিতায় দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং ত্রিপুরার মানুষের কল্যাণে নিরলস ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবে।
পিস্তল দেখিয়ে গুলি করে হত্যার এবং ধর্ষণের হুমকি এক নাবালিকাকে। মোবাইলে পিস্তলের ছবি পাঠিয়ে ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে হত্যা এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম জয়দেব দেবনাথ, সে কমলাসাগর বিধানসভার দীনদয়াল চৌমুহনী সংলগ্ন ফানু দেবনাথের ছেলে।বৃহস্পতিবার নাবালিকার বাবা আমতলী থানায় অভিযুক্ত জয়দেব দেবনাথের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জানা গেছে, সেকেরকোট এলাকার এক ভাড়াটিয়া পরিবারের ১৬ বছরের নাবালিকাকে টার্গেট করে অভিযুক্ত যুবক। গত সোমবার গভীর রাতে অভিযুক্ত জয়দেব দেবনাথ ওই নাবালিকার মোবাইলে একটি অত্যাধুনিক পিস্তলের ছবি পাঠায়। ছবি পাঠানোর পাশাপাশি মেয়েটিকে গুলি করে খুন এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পরই আতঙ্কিত হয়ে নাবালিকার পরিবার আমতলী থানায় বিষয়টি মৌখিকভাবে জানায়। কিন্তু পুলিশের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানানোর পরও অভিযুক্তের সাহস কমেনি। বৃহস্পতিবার সকালেও ঠিক একই কায়দায় মোবাইলের মাধ্যমে ওই নাবালিকাকে পুনরায় গুলি করে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হতে থাকে। টানা হুমকির জেরে নাবালিকাটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং গোটা পরিবার চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অবশেষে এদিন দুপুরে বাধ্য হয়ে নাবালিকার বাবা আমতলী থানায় অভিযুক্ত জয়দেব দেবনাথের বিরুদ্ধে লিখিত মামলা দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে পিস্তল দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি এবং ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ নাবালিকার বাবাকে আশ্বস্ত করেছে যে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত জয়দেব দেবনাথের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর নাবালিকার বাবা সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ ও আতঙ্কের সাথে গোটা ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানান, যাতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত জয়দেব দেবনাথকে গ্রেপ্তার করে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, মঙ্গলবারঃ রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীর মধ্য চারিপাড়ার শচীন্দ্র লাল এলাকায় পল্লীমঙ্গল সংঘের উদ্যোগে মঙ্গলবার এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মধ্য চারিপাড়া, শান্তিনগর ও আগরতলা এলাকার প্রায় ৪০ জন বিশিষ্ট অভিভাবক, অভিভাবিকা ও গুণী ব্যক্তিদের সংবর্ধনা জানানো হয়। সংবর্ধিতদের মধ্যে ছিলেন বর্ষীয়ান সমাজসেবী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠানে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়িকা মীনারাণী সরকার ও পশ্চিম জেলা পরিষদের সদস্য প্রদ্যুৎ মজুমদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপপ্রধান শ্যামল মজুমদার, শান্তিলাল দুলাল-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। এদিন কচিকাঁচাদের অংশগ্রহণে নাচ, গান, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। পল্লীমঙ্গল সংঘের সম্পাদক বিমল সরকার বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “দেশীয় মনীষীদের আদর্শ ও সংস্কৃতিকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। একসময় বাম আমলে মানুষকে শুধুই শোষণ শেখানো হতো। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের চেতনার পরিবর্তে লেলিন, স্ট্যালিন ও কার্ল মার্কসকে নিয়েই বেশি ব্যস্ততা ছিল।” তিনি আরও বলেন, সমাজকে সুন্দর ও সচেতন করে তুলতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। এদিন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পল্লীমঙ্গল সংঘের পাশে নবনির্মিত জিম সেন্টারেরও উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করে বিধায়িকা মীনারাণী সরকার দাবি করেন, গত কয়েক বছরে পশ্চিম চারিপাড়ার শচীন্দ্রনাথ এলাকায় অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একসময় এলাকা ড্রাগস কারবার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য কুখ্যাত ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাক্তন গ্রাম প্রধান শ্যামল মজুমদার, বর্তমান প্রধান বিপ্লব মজুমদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ সরকার বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জিমের সরঞ্জাম প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা সেই জিম পুনরায় চালু হওয়ায় যুব সমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। আয়োজক সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা একাধিক জনমুখী সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সংঘের সদস্যরা এলাকায় শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।
তেলিয়ামুড়া থানার বহুল আলোচিত ফেন্সিডিল কাণ্ডে চার পুলিশ অফিসার ও কর্মীর গ্রেপ্তার এবং তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার পর নতুন করে উঠে আসছে আরও বড় প্রশ্ন—পুলিশ প্রশাসনের একাংশ কি ধীরে ধীরে নৈতিক অবক্ষয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে? কারণ, এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন অভিযোগ নয়। মাত্র কিছুদিন আগেই রাজ্যে ব্যাপক চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছিল পাঁচ কোটি টাকা ক্যাশ উদ্ধারের ঘটনা। অভিযোগ উঠেছিল, এক পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। সেই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। গোটা রাজ্যে সেই সময় প্রশ্ন উঠেছিল, সরকারি চাকরিজীবীর সঙ্গে যুক্ত পরিবারে এত বিপুল অর্থ এল কোথা থেকে? যদিও তদন্ত এখনও চলমান, তবে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনায় পুলিশের একটি অংশকে ঘিরে জনমনে সন্দেহ ও ক্ষোভ বাড়ছে। এবার তেলিয়ামুড়া থানার ফেন্সিডিল কাণ্ড সেই উদ্বেগকে আরও তীব্র করে তুলেছে। আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেই যখন মাদকচক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের আস্থার ভিত নড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন থানার সেকেন্ড ওসি ইন্সপেক্টর অজিত দেববর্মা, এসআই রাজেন্দ্র রিয়াং, ওমেন এসআই শম্পা দাস এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের এএসআই শচীন্দ্র দেববর্মা। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা এবং NDPS আইনে মামলা রুজু হয়েছে। তবে এই পুরো ঘটনার মধ্যে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্য প্রশাসন এবং পুলিশ সদর দপ্তর যেভাবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে দুর্নীতি কিংবা মাদকের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকর-এর নির্দেশে ক্রাইম ব্রাঞ্চ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানিক সাহা দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথা বলে আসছেন। সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে ত্রিপুরায় মাদক পাচার রোধ করা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সরকারকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পুলিশের অধিকাংশ সদস্য এখনও নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করছেন। কিন্তু কিছু অসাধু ও ক্ষমতালোভী কর্মীর কর্মকাণ্ড গোটা বাহিনীর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। তাই শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, প্রয়োজন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, চলমান তদন্ত নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে যাবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ পুলিশের উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
অনুমানিক দেড় কোটি টাকার ইয়াবা ট্যাবলেট সহ এক যুবক আটক করেছে কমলপুর থানার পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে কমলপুর থানাধীন ২০৮ নং জাতীয় সড়কের দূর্গা চৌমুহনি নাকা পয়েন্টে একটি খবর আসে কুমাঘাটের দিক থেকে একটি মারুতি ব্রেজা গাড়িতে করে নেশা সামগ্রী আসছে। সেই খবর অনুসারে গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িতে তল্লাসি চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে, খবর পেয়ে এসডিপিও সমুদ্র দেব্বর্মা সহ অন্যান্য আধিকারিকরা ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখানে পঞ্চাশ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ৫০ লক্ষ টাকা হবে। ঘটনায় গাড়ি চালককেও আটক করা হয়।
দেশের নিরাপত্তা প্রশাসনে বড়সড় দায়িত্ব পেলেন ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস অফিসার Rajiv Singh। বর্তমানে মণিপুরের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (DGP) পদে কর্মরত এই আধিকারিককে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাবিনেট সচিবালয়ের সেক্রেটারি (সিকিউরিটি) পদে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিটি অব দ্য ক্যাবিনেট (ACC)। কেন্দ্রীয় কর্মী, জনঅভিযোগ ও পেনশন মন্ত্রকের অধীন ডিপার্টমেন্ট অব পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং (DoPT) থেকে ২১ মে, ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া এক সরকারি নির্দেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি নতুন দায়িত্বে যোগদানের দিন থেকেই সেক্রেটারি (সিকিউরিটি) পদে কার্যভার গ্রহণ করবেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন। দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদ হিসেবে বিবেচিত হয় এই দায়িত্ব। এই পদে থাকা আধিকারিক মূলত প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত বিশেষ সুরক্ষা গোষ্ঠী (SPG)-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশাসনিক তদারকি করেন। রাজীব সিং ১৯৯৩ ব্যাচের ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF)-এ তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রশাসনিক মহলে পরিচিত। সন্ত্রাসবাদ দমন, বিদ্রোহ মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৩ সালে মণিপুরে জাতিগত সংঘর্ষ ও অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে তিনি রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সময় মণিপুরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছিল। এমন কঠিন সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা প্রশাসনিক মহলে প্রশংসিত হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগকে ত্রিপুরার জন্য বিশেষ গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা মহলের মতে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দক্ষ নেতৃত্ব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে এই উচ্চপর্যায়ের জাতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন প্রশাসনিক মহলেও তাঁর এই নিয়োগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিটি অব দ্য ক্যাবিনেটের সচিব ও ডিপার্টমেন্ট অব পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং-এর প্রতিষ্ঠা আধিকারিক মনীষা সাক্সেনা।
আগরতলার রেলওয়ে ইয়ার্ডে একবার নয়, দু’দুবার বিপুল পরিমাণ এসকাফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনা তখন রাজ্য রাজনীতিতে যেন বজ্রপাত নামিয়েছিল। বিরোধীরা সরব, সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, শাসকদলও কড়া অবস্থানের আশ্বাস দিয়েছিল। পরে মামলার তদন্ত তুলে দেওয়া হয় ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে। কয়েকজন গ্রেফতারও হয়। তারপর? তারপর যেন গোটা কাহিনি “নীরবতার এক্সপ্রেসে” চেপে কোথায় হারিয়ে গেল, তা আজও সাধারণ মানুষ জানতে পারল না। রাজ্যবাসীর প্রশ্ন, রেলের ওয়াগনে ট্রাকভর্তি কফ সিরাপ কি হঠাৎ আকাশ থেকে পড়েছিল? এত বড় চালান কি দু-চারজন খুচরো কারবারির পক্ষে সম্ভব? কার নির্দেশে এই মাদক ত্রিপুরায় ঢুকেছিল, কোথায় যাওয়ার কথা ছিল, কারা ছিল আসল মাথা—এসব প্রশ্ন আজও অন্ধকারেই। তদন্তের শুরুতে যে তৎপরতা দেখা গিয়েছিল, তিন মাস যেতে না যেতেই তা যেন ফাইলের ধুলোয় চাপা পড়ে গেল। ক্রাইম ব্রাঞ্চ চার-পাঁচজনকে গ্রেফতার করল ঠিকই, কিন্তু রাজ্যের বাইরের কোনও বড় চক্র ধরা পড়ল কি? আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্কের খোঁজ মিলল কি? কোটি টাকার এই মাদক কারবারের পিছনে থাকা “বড় মাছ”দের একজনও কি জালে উঠল? উত্তর নেই। বরং এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মানুষ ভাবতে শুরু করেছে—এই অভিযান কি শুধুই ক্যামেরার সামনে দেখানোর জন্য ছিল? ত্রিপুরায় মাদক কারবার নতুন কিছু নয়। বহুদিন ধরেই অভিযোগ, সীমান্ত ঘেঁষা এই রাজ্যে বড় বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এদের জীবনযাত্রা দেখলে সাধারণ মানুষ অবাক হয়ে যায়। কেউ বিলাসবহুল গাড়িতে ঘোরে, কেউ রাতারাতি বহুতল বাড়ির মালিক হয়, কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন। অথচ তদন্তের নামে ধরা পড়ে কেবল ছোটখাটো বাহক বা নামমাত্র কর্মচারী। যেন সিনেমার খলনায়ক সবসময় পর্দার আড়ালেই থেকে যায়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, যাদের নাম দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের “কুখ্যাত মাদক কারবারি” হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তারা এখনও দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সামাজিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক মঞ্চ, ব্যবসায়িক বৈঠক—সব জায়গাতেই তাদের দাপট অটুট। সাধারণ মানুষ তাই প্রশ্ন তুলতেই পারে, এদের হাত কি এতটাই লম্বা যে আইনের হাতও সেখানে পৌঁছাতে ভয় পায়? মুখ্যমন্ত্রী বহুবার বলেছেন, “মাদক কারবারিদের কাউকে ছাড়া হবে না।” কথাটি নিঃসন্দেহে কঠোর ও আশাব্যঞ্জক। কিন্তু বাস্তব বলছে ভিন্ন কথা। যদি সত্যিই কাউকে ছাড়া না হয়, তাহলে এত বড় চালানের নেপথ্যে থাকা মূল চক্র এখনও অধরা কেন? কেন তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সরকার বা ক্রাইম ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হচ্ছে না? কেন রাজ্যবাসী শুধু গ্রেফতারের সংখ্যাই শুনবে, কিন্তু তদন্তের ফল জানবে না? একটা সময় ছিল, বড় কোনও অপরাধ ঘটলে প্রশাসনের তরফে প্রতিদিন আপডেট আসত। এখন যেন নতুন ট্রেন্ড—প্রথমে হইচই, তারপর কয়েকটি গ্রেফতার, শেষে গভীর নীরবতা। যেন অপরাধ নয়, সিরিয়ালের নতুন এপিসোড চলছে। দর্শক উত্তেজিত থাকবে, কিন্তু শেষ দৃশ্য কখনও দেখানো হবে না। এই নীরবতা আরও সন্দেহ বাড়াচ্ছে। কারণ সাধারণ মানুষ জানে, কোটি কোটি টাকার মাদক কারবার কখনও একা কেউ চালাতে পারে না। এর পিছনে থাকে প্রভাবশালী চক্র, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, অর্থের পাহাড় এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা। আর সেখানেই উঠছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন—তদন্ত কি সত্যিই শেষ সত্যের দিকে এগোচ্ছে, নাকি কোনও অদৃশ্য চাপের সামনে থেমে গেছে? রাজ্যের যুব সমাজ যখন ধীরে ধীরে মাদকের করাল গ্রাসে ঢুকে পড়ছে, তখন এই ধরনের তদন্তে গা-ছাড়া মনোভাব ভয়ংকর বার্তা দেয়। কারণ অপরাধীরা যদি বুঝে যায় যে কিছুদিন চর্চার পর সবকিছু ঠান্ডা হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় চক্র সক্রিয় হতে সময় নেবে না। তাই এখন রাজ্যবাসীর একটাই দাবি—নাটক নয়, ফলাফল চাই। শুধু ছোট মাছ ধরে সংবাদ সম্মেলন নয়, আসল রাঘববোয়ালদের মুখোশ খুলুক। নাহলে মানুষ একদিন সত্যিই বিশ্বাস করতে শুরু করবে, ত্রিপুরায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে না, চলছে শুধু “অপারেশন দেখাও আর ভুলে যাও”। @copyright
রাজ্য মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা সামাজিক মাধ্যমে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। বুধবার তিনি জানান, ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর)-এর নতুন ব্যাটেলিয়ানে আরও ২০৩টি পদ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পূর্বের ১০০৭টি পদের পরিবর্তে বর্তমানে মোট ১২১০টি পদ থাকবে বলে জানানো হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও, গৃহ দপ্তরের অধীন রাজ্য ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে ডিরেক্টর পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ডিরেক্টর পদটি গ্রুপ-এ গেজেটেড পদ হিসেবে নিয়োগ করা হবে। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও উন্নত ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এই ঘোষণার পর বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির-এ ভক্তদের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাতাবাড়িতে দায়িত্বে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর ইভা সাহা ও কনস্টেবল বাবুল দাস দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য ও বহিরাজ্য থেকে আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অপমানজনক আচরণ করে চলেছেন। ভক্তদের দাবি, মায়ের আশীর্বাদ নিতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মাতাবাড়িতে আসেন। কিন্তু কিছু পুলিশ কর্মীর অমানবিক আচরণে অনেক দর্শনার্থী মানসিকভাবে অপমানিত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পুজো দিতে গিয়েও ভক্তদের অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির-কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিত করে তুলতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এই ধরনের অভিযোগ মন্দিরের ভাবমূর্তি ও ধর্মীয় পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বহু ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দা। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজ্যে স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তুলতে সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে l একথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (ডা.) মানিক সাহা। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের প্রতিটি দপ্তরে স্বচ্ছভাবে কাজ করার চেষ্টা চলছে। কোথাও যাতে কোনো ধরনের দুর্বলতা না থাকে, সেই দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে প্রশাসনিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নের উপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যে চিকিৎসা পরিকাঠামোর উন্নয়নের ফলে রোগীদের বহিরাজ্যে রেফার করার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে।
রাজধানী আগরতলায় অবৈধ মদ বিরোধী অভিযানে গিয়ে হেনস্তার শিকার হল পুলিশ। শুক্রবার রাত প্রায় দশটা নাগাদ গুরুজি কনফারেন্স হলের সামনে অবস্থিত একটি ফরেন লিকার দোকানের সামনে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, পশ্চিম থানার পুলিশের একটি দল অভিযানে নেমে সেখানে পৌঁছায়। ওই সময় দোকানের সামনে কয়েকজন যুবক প্রকাশ্যে মদ্যপান করছিল বলে জানা যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযানের সময় এক যুবককে আটক করে জিপসিতে তোলার চেষ্টা করেন পশ্চিম থানার দুই সাব-ইন্সপেক্টর। কিন্তু জিপসিতে তোলার সময় ওই যুবক চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও কয়েকজন যুবক ছুটে এসে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় হইচই ও ধস্তাধস্তি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, এক পর্যায়ে যুবকেরা জোর করে আটক যুবককে পুলিশের জিপসি থেকে টেনে নামিয়ে নিয়ে যায়। এই ধস্তাধস্তির মধ্যে এক পুলিশ কনস্টেবলের শার্টের কলার ছিঁড়ে যায়। ঘটনায় পশ্চিম থানার এক সাব-ইন্সপেক্টরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই অভিযুক্ত যুবক ও তার সঙ্গীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পরে আরও পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে। এদিকে, ব্যস্ত এলাকায় পুলিশের উপর এমন আচরণের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
কমলপুর মহকুমার বালিগাঁও এলাকায় একটি পুরনো যুদ্ধকালীন সেল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বালিগাঁও হাই স্কুলের সান্নিকটে একটি ছড়ার জলে মাছ ধরতে যান এলাকার বাসিন্দা মাধু দেব। মাছ ধরার সময় হঠাৎ জলের নিচে ধাতব আকৃতির একটি বস্তু দেখতে পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে সেটি তুলে আনলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রবীণদের ধারণা, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় এই সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সামরিক তৎপরতা চলাকালীন ওই সেলটি এসে পড়েছিল। দীর্ঘদিন জলের নিচে পড়ে থাকার ফলে সেটিতে মরিচা ধরলেও এখনও সেটির গঠন স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। এদিকে, খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমান এলাকার বহু মানুষ। অনেকেই এটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক ঐতিহাসিক স্মৃতি বলে মনে করছেন। যদিও সেলটি সক্রিয় কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।স্থানীয়দের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বালিগাঁও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি l বাপের বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার পথে চার বছরের শিশু সন্তান সহ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ এক গৃহবধূ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মনু এলাকার মনুপাথর অঞ্চলে। নিখোঁজ গৃহবধূর নাম তেজি দেববর্মা (২৩)। তাঁর বাড়ি মনু ভিলেজের অন্তর্গত কালাপাড়া এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে তিনি তাঁর চার বছরের শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে মনাইপাথরে স্বামীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও তিনি স্বামীর বাড়িতে পৌঁছাননি। এরপর থেকেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে দুই পরিবারে।পরিবারের সদস্যরা রাতভর আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালান। কিন্তু কোথাও মা ও শিশুর সন্ধান না মেলায় শেষ পর্যন্ত বীরচন্দ্রমনু মনপাথর আউটপোস্টে একটি লিখিত নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করা হয়। তেজি দেববর্মার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। সঙ্গে চার বছরের শিশুসন্তান থাকায় পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। দিনদুপুরে মা ও শিশুর এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তৈরি হয়েছে রহস্য ও ধোঁয়াশা।পুলিশ নিখোঁজ ডায়েরি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠিয়ে খোঁজখবর চালানো হচ্ছে। কোনও সহৃদয় ব্যক্তি মা ও শিশুর সন্ধান পেলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। যোগাযোগ নম্বর: ৬৯০৯৮৮২৭৩৭।
আগামী ২০ মে কোন ধরনের খুচরো বা পাইকারি ওষুধ বিক্রেতাদের দোকান বন্ধ রাখা হবে না। বুধবার ত্রিপুরা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানালেন এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি সত্যব্রত দেবনাথ। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, এধরনের বনধ সম্পূর্ণ একটা অনৈতিক সিদ্ধান্ত।যেহেতু সরকার কোন নোটিফিকেশন জারি করেনি তথাপি বন্ধের কোন প্রশ্নই আসে না। সেব্যাপারে আমরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার কাছে একটি স্মারক লিপি প্রদান করি। আমরা এসপি’র কাছেও স্মারক লিপি প্রদান করেছি বলে তিনি জানান।
ফের এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল। গত ২৩ দিন ধরে আগরতলা জিবি হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে আব্দুল আউয়াল মিয়ার দেহ। আর বিশ্রামগঞ্জ গ্রামীণ ব্যাংক শাখায় পড়ে আছে তার পরিশ্রমের এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা। এই মানুষটির কোন আত্মীয়-স্বজন বা ওয়ারিশদারের খবর নেই। ১৯৮৩ সালে বিশ্রামগঞ্জ গ্রামীণ ব্যাংকে ওই ব্যক্তি একাউন্ট করেছিল। এই অ্যাকাউন্ট থেকে লাস্ট উইথড্রোল করেছিলেন ২০১৫ সালে। তাও ১০ হাজার টাকা। এরপর আর কোন ট্রানজেকশন হয়নি। বুধবার দুপুরে বিশ্রামগঞ্জ থানায় খবর আসার পর তদন্ত শুরু করেছে বিশ্রামগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর শান্তি বাও ত্রিপুরা। তিনি সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে লোকটিকে সনাক্ত করার জন্য গোটা বিশ্রামগঞ্জ এলাকার মানুষের সাহায্য প্রার্থনা করেন। কারণ তার ব্যাংক একাউন্টে ঠিকানা লেখা আছে শুধুমাত্র বিশ্রামগঞ্জ। তিনি বৃদ্ধ হয়ে যাবার পর আগরতলা বিটারবন মসজিদে চলে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয় ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল। এখন পর্যন্ত তার দেহ পরে রয়েছে জিবি হাসপাতালের মর্গে।
ধর্মনগরের বহুল আলোচিত যুবনেতা রাহুল কিশোর রায়ের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মাঝেই উত্তর ত্রিপুরা জেলা ও দায়রা আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায় নতুন মাত্রা যোগ করল গোটা ঘটনায়। মামলার তিন অভিযুক্ত—অভিজিৎ দাস, সুরজ দেব এবং হীরকদ্যুতি নাথের অগ্রিম জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিল, এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিগুলি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, শুধুমাত্র অভিযোগের গুরুত্ব নয়, বরং ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করেই আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়, ভোটের ফল ঘোষণার দিন রাহুল কিশোর রায়ের বাড়িতে গিয়ে একদল ব্যক্তি হুমকি, গালিগালাজ ও শারীরিক নিগ্রহ চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাহুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও মারধর করা হয় এবং রাতের অন্ধকারে ফের বাড়িতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন ভোরে নিজের বাড়ির বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় রাহুলের দেহ। আদালত এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এবং সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত কিছু ভিডিওতে মৃতের পরিবার প্রথমদিকে অভিযুক্তদের নাম নেয়নি। কিন্তু আদালত এই যুক্তি সরাসরি গ্রহণ করেনি। বিচারক স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ করেন, সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত কোনও ভিডিওর আংশিক অংশকে তদন্তের চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরা যায় না। আদালতের মতে, ভিডিও ফুটেজের সত্যতা যাচাই এবং তার পূর্ণ প্রেক্ষাপট তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমেই সামনে আসা সম্ভব। ফলে শুধুমাত্র মিডিয়া ক্লিপ দেখিয়ে অভিযুক্তদের নির্দোষ প্রমাণ করা যায় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আদালত দেখেছে, তদন্ত এখনও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কেস ডায়েরি, সাক্ষীদের বয়ান এবং তদন্তকারী আধিকারিকের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে আদালত মনে করেছে, এই পর্যায়ে অভিযুক্তদের অগ্রিম জামিন দিলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। রাষ্ট্রপক্ষও আদালতে দাবি করে, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এখনও চলছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের আরও গুরুত্বপূর্ণ বয়ান রেকর্ড হওয়া বাকি। আদালত এই যুক্তিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। অভিযুক্তদের আইনজীবীরা আদালতে একাধিক সুপ্রিম কোর্টের রায় তুলে ধরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারার ক্ষেত্রে ‘মেন্স রিয়া’ বা অপরাধমূলক মানসিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করেন। কিন্তু আদালত জানিয়ে দেয়, সেই সমস্ত বিষয় বিচারপর্বে বিস্তারিত আলোচনার বিষয় হতে পারে, জামিন শুনানির এই প্রাথমিক স্তরে নয়। অর্থাৎ আদালত মনে করেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা ও আইনি গভীরতা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, তাই তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তাদের সুরক্ষা দেওয়া সমীচীন হবে না। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করে, যদি অভিযুক্তরা সত্যিই শুধুমাত্র “আনন্দ ভাগ করে নিতে” মৃতের বাড়িতে গিয়ে থাকেন, তাহলে সেই পরিস্থিতির পর এত বড় মর্মান্তিক ঘটনা কেন ঘটল, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আদালতের এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ঘটনাটিকে সাধারণ রাজনৈতিক উত্তেজনা হিসেবে দেখার পক্ষে আদালত প্রস্তুত নয়। সব মিলিয়ে আদালতের রায়ে স্পষ্ট হয়েছে, রাহুল কিশোর রায়ের মৃত্যুকে ঘিরে ওঠা অভিযোগকে হালকাভাবে দেখছে না বিচারব্যবস্থা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সামনে না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হলে তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেই আদালত মনে করেছে। ফলে অগ্রিম জামিন খারিজের এই সিদ্ধান্ত শুধু আইনি দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে নেশাগ্রস্থ অটো চালকদের একাংশের দৌরাত্ম্যে সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে বিমানবন্দরের কর্মীরাও এখন নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, সন্ধ্যার সাথে সাথে একদল চালক নেশাগ্রস্ত হয়ে বিমানবন্দরে আসা যাত্রী ও কর্মরত কর্মীদের সাথে অশালীন আচরণ শুরু করেন। শুধু তাই নয়, ইচ্ছেমত অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা এবং অনলাইন বুকিং করা গাড়িতে উঠতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অটো চালকরা সরকারি তালিকাভুক্ত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি করে। কেউ প্রতিবাদ করলে বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বুক করা অটো ব্যবহার করার চেষ্টা করলে চালকদের একটি দল তাদের ঘিরে ধরে গালিগালাজ এমনকি শারীরিক নিগ্রহের হুমকিও দেয়। বিমানবন্দরের কর্মীদের একাংশও এই নেশাগ্রস্ত অটো চালকদের হাতে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতির প্রতিকারে আগরতলা এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ এবং ত্রিপুরার পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। যদিও মন্ত্রী অতীতে বারবার এই ধরনের ‘দাদাগিরি’ বন্ধ করতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এবং যাত্রী পরিষেবা উন্নত করতে বিমানবন্দরে প্রিপেইড অটো পরিষেবা চালু করেছিলেন, তবুও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ত্রিপুরার পর্যটন ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে ওই সমস্ত অভিযুক্ত নেশাগ্রস্ত অটো চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
রবিবার তেলিয়ামুড়া ব্লকের অন্তর্গত বড়মুড়া রেঞ্জের দক্ষিণ হদ্রায় ভিসির অধীন খামাকসা কামিতে বিদ্যুৎ পরিষেবার সূচনা করেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ।এই এলাকাতে ৪২ জনজাতি পরিবার রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন যাবত বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন l অবশেষে টেডা থেকে সোলার প্লেট মাইক্রো গ্রিডের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছলো এলাকায়।যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ পেল ৪২টি পরিবার।এই সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে এলাকাবাসী ২টি লাইট সহ টিভি দেখতে পারবেন,মোবাইল চার্জ করতেও পারবেন।গোটা বিষয়ে নিয়ে বিস্তারিত জানান বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ l তিনি জানান, এখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের 42টি পরিবার বসবাস করে l তারা বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত ছিল l আজ এখানে আসার উদ্দেশ্য হল তাদেরকে বিদ্যুৎ পরিষেবার আওতাধীন নিয়ে আসা l
আগামী শনিবার জাতীয় লোক আদালত অনুষ্ঠিত হবে l এদিন ত্রিপুরা হাইকোর্ট সহ রাজ্যের সব জেলা এবং মহকুমা আদালত চত্বরে বসবে জাতীয় লোক আদালত । বৃহস্পতিবার রাজ্য আইনসেবা কর্তৃপক্ষের সদস্য সচিব ভিপি দেববর্মা জানান, জাতীয় লোক আদালতে নিস্পত্তির জন্য ৪৬ টি বেঞ্চে ২৫ হাজার ৫১৪ টি মামলা তোলা হবে। এরমধ্যে আদালতে জমে থাকা ২০,৭৭৯ টি মামলা এবং মামলা পূর্ব বিরোধ সংক্রান্ত ৪,৭৩৫ টি মামলা রয়েছে। জাতীয় লোক আদালতে মোটর দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত ৩৪৭ টি মামলা, বৈবাহিক বিরোধ সংক্রান্ত ১৯৭ টি মামলা, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত ৪,৪৮৫ টি মামলা, বিএসএনএলের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত ২৫০ টি মামলা, আপোষ যোগ্য ফৌজদারি বিরোধের ২০,১৮৪ টি মামলা, চেক বাউন্স সংক্রান্ত ২৭ টি মামলা, দেওয়ানি মামলা ৫ টি মামলা, আরবিট্রেশন সংক্রান্ত ৫ টি বিষয়, কমার্শিয়াল স্যুট ৩ টি এবং চাকরি সংক্রান্ত বিষয় ১১টি মামলা নিস্পত্তির জন্য তোলা হবে। ত্রিপুরা হাইকোর্টে একটি বেঞ্চে ২৮ টি মামলা নিষ্পত্তির জন্য তোলা হবে তিনি জানান।
স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।
রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।
রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।
স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর উদয়পুরের মাতা বাড়িতে কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।
আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।