বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৪ জনে। রোববার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, একই সময়ের মধ্যে দেশে মোট ৪০ হাজার ৪৯১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ২৭ হাজার ৮১৬ শিশুকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তবে আশার কথা, চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে ২৪ হাজার ৯০ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং জনসচেতনতার অভাব এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকার আওতা কম থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্যে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডাঃ তপন সরকার।।গ্রীষ্মের দাবদাহে নবজাতক শিশুর যত্ন আরও বেশি সংবেদনশীল ও সতর্কতার দাবি রাখে। জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে শিশুর শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে খুবই দুর্বল থাকে, তাই সামান্য অসতর্কতাও সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চললেই নবজাতককে নিরাপদ রাখা সম্ভব। প্রথমত, নবজাতকের জন্য বুকের দুধই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। ঘন ঘন মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে—এতে শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় জল ও পুষ্টি দুটোই বজায় থাকে। আলাদা করে জল খাওয়ানোর প্রয়োজন হয় না, বরং তা ক্ষতিকর হতে পারে। দ্বিতীয়ত, শিশুকে কখনওই অতিরিক্ত গরমে রাখা যাবে না। ঘর যেন ঠান্ডা, পরিষ্কার ও বাতাস চলাচলের উপযোগী হয়। সরাসরি রোদ বা গরম হাওয়া থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে। প্রয়োজনে হালকা ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে বাতাস যেন সরাসরি শিশুর শরীরে না লাগে। তৃতীয়ত, পোশাকের ক্ষেত্রে হালকা, নরম ও সুতি কাপড়ই সবচেয়ে ভালো। অনেক সময় বড়রা ভেবে নেন নবজাতককে বেশি কাপড়ে ঢেকে রাখতে হবে, কিন্তু গরমে এতে শিশুর শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে, যা বিপজ্জনক। চতুর্থত, ত্বকের যত্ন অত্যন্ত জরুরি। ঘাম জমে র্যাশ বা ঘামাচি হতে পারে, তাই প্রতিদিন হালকা কুসুম গরম জলে স্নান করানো যেতে পারে। স্নানের পর শরীর ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে এবং প্রয়োজনে হালকা বেবি পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। পঞ্চমত, শিশুর আচরণ লক্ষ্য করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি দেখা যায় শিশু অস্বাভাবিকভাবে কাঁদছে, খুব বেশি ঘেমে যাচ্ছে, দুধ খেতে চাইছে না বা শরীর গরম লাগছে—তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই সহজ সতর্কতা ও যত্নই গরমের সময় নবজাতক শিশুকে রাখবে সুরক্ষিত, স্বস্তিতে এবং সুস্থ।
ধাপে ধাপে পরিকল্পনা 🟢 ধাপ ১: সচেতনতা ও সিদ্ধান্ত প্রথমেই বুঝতে হবে যে মদ ক্ষতিকর, শরীর-মন-পরিবার সবকিছু নষ্ট করছে। নিজে বা পরিবারের সাহায্যে লিখে ফেলুন মদ ছাড়লে কী কী ভালো হবে (স্বাস্থ্য, অর্থ, সম্পর্ক, সম্মান)। স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিন— “আমি মদ ছাড়ব।” 🟢 ধাপ ২: ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ মদ হঠাৎ বন্ধ করলে withdrawal symptoms (কাঁপুনি, ঘাম, খিটখিটে মেজাজ, ঘুমের সমস্যা) হতে পারে। তাই প্রথমেই মেডিসিন স্পেশালিস্ট বা সাইকিয়াট্রিস্ট-এর সঙ্গে কথা বলা জরুরি। প্রয়োজনে ডাক্তার ওষুধ দেবেন যা নেশা কমাবে বা শরীরকে নিরাপদ রাখবে। 🟢 ধাপ ৩: ধীরে ধীরে কমানো একেবারে হঠাৎ বন্ধ না করে, প্রতিদিনের ডোজ ধীরে ধীরে কমাতে হবে। উদাহরণ: যদি প্রতিদিন ৫ পেগ খান, তবে প্রথম সপ্তাহে ৪, পরের সপ্তাহে ৩—এভাবে কমাতে হবে। 🟢 ধাপ ৪: বিকল্প অভ্যাস তৈরি মদ খাওয়ার সময়টা অন্য কাজে ব্যস্ত রাখুন—যেমন হাঁটা, গান শোনা, কারও সঙ্গে আড্ডা, বই পড়া। খালি পেটে মদ খাওয়ার প্রবণতা বেশি হয়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাবেন। মিষ্টি জাতীয় খাবার বা ফল খান, এতে নেশার টান কিছুটা কমে। 🟢 ধাপ ৫: পরিবেশ পরিবর্তন যাদের সঙ্গে বসে মদ খান, তাদের এড়িয়ে চলুন। বাড়িতে কোনোভাবেই মদ রাখবেন না। মদ খাওয়ার জায়গা যেমন বার বা আড্ডা—সেগুলো এড়িয়ে চলুন। 🟢 ধাপ ৬: সাপোর্ট সিস্টেম পরিবারকে খোলাখুলি বলুন যেন তারা আপনাকে সাহায্য করে। Alcoholics Anonymous (AA)-এর মতো গ্রুপে যোগ দিলে একই অভিজ্ঞতার মানুষদের সঙ্গে আলাপ হবে। কাউন্সেলর বা থেরাপিস্ট থাকলে নিয়মিত দেখা করুন। 🟢 ধাপ ৭: স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করুন। এতে শরীরের টক্সিন বের হবে। যোগব্যায়াম, ধ্যান বা প্রার্থনা মানসিক শান্তি দেবে। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। 🟢 ধাপ ৮: সফলতা উদযাপন একদিন, এক সপ্তাহ, এক মাস মদ ছাড়া কাটালে পরিবার বা বন্ধুর সঙ্গে ছোট্ট উদযাপন করুন। নিজেকে প্রতিদিন মনে করান—“আমি এগোচ্ছি, আমি পারব।”
বর্তমানে শিশুদের মোবাইল ও ট্যাবের প্রতি আসক্তি বেড়ে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়া (দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা) দ্রুত বাড়ছে। অনেক ছোট বাচ্চাকেও এখন চশমা পরতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: * শিশুদের বাইরে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো * মোবাইল ব্যবহারের সময়সীমা কমানো * নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই রাত জেগে কাজ করেন কিংবা মোবাইল-টিভি দেখতে দেখতে দেরি করে ঘুমাতে যান। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়। অথচ ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা শরীর ও মনের জন্য এক অমূল্য অভ্যাস। চিকিৎসকরা বলেন, সকালবেলা তাজা বাতাস ও সূর্যের আলো শরীরে নতুন শক্তি যোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। * ভোর ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই অক্সিজেন শরীরের কোষে পৌঁছে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। * সকালে সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরি করে, যা হাড় ও দাঁতের জন্য অপরিহার্য। * সকালে হাঁটা বা যোগব্যায়াম করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। * যারা নিয়মিত ভোরে ওঠেন, তারা সাধারণত বেশি মনোযোগী, কর্মক্ষম এবং মানসিকভাবে প্রশান্ত থাকেন। কি করবেন : * প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান ও ভোরে উঠুন। * সকালে উঠে এক গ্লাস উষ্ণ পানি পান করুন। * ভোরবেলা অন্তত ১৫–৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা যোগব্যায়াম করুন। * সূর্যের আলোতে কিছুক্ষণ দাঁড়ান, ভিটামিন-ডি পাবেন। কি করবেন না: * রাত জেগে মোবাইল বা টিভি দেখবেন না (এটি বায়োলজিকাল ক্লক নষ্ট করে)। * সকালে ঘুম ভাঙার পর আবার দীর্ঘ সময় বিছানায় অলস হয়ে থাকবেন না। * খালি পেটে চা/কফি খেয়ে দিন শুরু করবেন না। ভোরে ওঠা শুধু একটি অভ্যাস নয়, এটি একটি জীবনধারা। নিয়মিত ভোরে ওঠার মাধ্যমে শরীর সুস্থ থাকে, মন ভালো থাকে এবং সারা দিনের কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে। তাই আজ থেকেই প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন, কারণ সুস্থ জীবনের শুরু হয় দিনের প্রথম আলো থেকেই।
ভোরবেলা খোলা হাওয়ায় আধা ঘণ্টা হাঁটা শরীর ও মনের জন্য এক অসাধারণ ব্যায়াম। এটি হার্ট ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী। সকালের হাঁটা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। হাঁটার সময় শরীরে এন্ডরফিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা “হ্যাপিনেস হরমোন” নামে পরিচিত। এর ফলে মন ভালো থাকে, বিষণ্ণতা ও মানসিক চাপ কমে যায়। এছাড়া নিয়মিত হাঁটা শরীরের মেদ কমায়, হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায় এবং বৃদ্ধ বয়সে আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ করে। তাই প্রতিদিন সকালে অন্তত ২০–৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার চেষ্টা করুন।
দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝা উচিত। রোগ থেকে বাঁচতে দাঁত এবং মাড়ির যত্ন নেওয়া আব্যশক। রোগকে আটকাতে গোড়াতেই সতর্ক হন। দাঁতের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখলে, ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে। এমন ই দাবি দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স(এমস)-এর চিকত্সকের। সমস্যা দেখা না দিলে মানুষ সাধারণত দাঁতের যত্ন করেননা। ডাক্তারের পরামর্শ নেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে ৬ মাস অন্তর দাঁতের চিকিত্সক দেখানো আব্যশক। ফলে কোনও সমস্যা থাকলে তা গোড়াতেই ধরা পরবে।দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝা উচিত। রোগ থেকে বাঁচতে দাঁত এবং মাড়ির যত্ন নেওয়া আব্যশক। রোগকে আটকাতে গোড়াতেই সতর্ক হন। দাঁতের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখলে, ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে। এমন ই দাবি দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স(এমস)-এর চিকত্সকের। সমস্যা দেখা না দিলে মানুষ সাধারণত দাঁতের যত্ন করেননা। ডাক্তারের পরামর্শ নেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে ৬ মাস অন্তর দাঁতের চিকিত্সক দেখানো আব্যশক। ফলে কোনও সমস্যা থাকলে তা গোড়াতেই ধরা পরবে। Zeenews
ঢেঁড়সের জল কোনও ম্যাজিক পানীয় না হলেও, এটি নিঃসন্দেহে একটি সহজ, সস্তা ও কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার। নিয়মিত পান করলে শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ উপকৃত হতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি এমন প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ঢেঁড়স, আমাদের রোজকার রান্নায় ব্যবহৃত একটি পরিচিত সবজি। কিন্তু আপনি কি জানেন, শুধু রান্না নয় — এই সবজির জলও হতে পারে শরীরের জন্য এক অসাধারণ ওষুধের মতো। সম্প্রতি এক প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট জানিয়েছেন, ঢেঁড়স জল শরীরের বহু সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে হৃদযন্ত্র, রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।
রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।
রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।
স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর উদয়পুরের মাতা বাড়িতে কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।
আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।