রাজ্য

চাকরির প্রলোভনে ব্যাঙ্গালোরে পাচার: ত্রিপুরার যুবক-যুবতীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

Admin ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
বামদিকে দুই অভিযুক্ত।ডান দিকে নির্যাতিতা।
বামদিকে দুই অভিযুক্ত।ডান দিকে নির্যাতিতা।

ত্রিপুরার যুবক-যুবতীদের উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও জোরপূর্বক কুকাজে লিপ্ত করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। আনিস আহমেদ, তার স্ত্রী ও মুমিন আহমেদ—এই তিনজনের বিরুদ্ধে সংগঠিত মানবপাচার চক্র পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আনিস আহমেদ বাংলাদেশের নাগরিক এবং ব্যাঙ্গালোরে অবৈধ একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত; যার মধ্যে দেহব্যবসাও রয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্যাতিতরা।
অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, ইন্টারনেটে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতি মাসে ন্যূনতম ১৮ হাজার টাকার চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। বলা হতো, ব্যাঙ্গালোরের বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে প্রচুর কাজ রয়েছে। ত্রিপুরা, অসম ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে দালালদের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের পাঠানো হতো সেখানে। কিন্তু বাস্তবে কোনো বৈধ চাকরি দেওয়া হয়নি। বরং জোর করে কাজ করিয়ে উপার্জিত অর্থ অভিযুক্তরা নিজেদের কাছে রেখে দিত—এমনটাই অভিযোগ।
জিরানিয়ার সোমা খাতুন ও রুমা খাতুন নামে দুই তরুণীকে প্রায় চার মাস ধরে ব্যাঙ্গালোরের তামিলনাড়ু পাড়ায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, সেখানে ত্রিপুরার অন্তত ১৮ জন ছেলে-মেয়ে আটক ছিল। শেষ পর্যন্ত ১৪ জন পালিয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হয়। যারা ফিরেছে, তারা জানিয়েছে—হুমকি, মারধর ও ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা চলত প্রতিনিয়ত।
এক নির্যাতিতা তরুণী পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ ও একাধিক ভয়েস রেকর্ডিং রয়েছে। নির্যাতিতাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে—ঘটনা প্রকাশ করলে বিকৃত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এই হুমকির জেরে অনেকেই আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
সূত্রের দাবি, এখনো ত্রিপুরার বেশ কয়েকজন যুবক-যুবতী ওই চক্রের খপ্পরে নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে ত্রিপুরা পুলিশ অবগত হয়েছে এবং শীঘ্রই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—রাজ্যের বাইরে কাজের প্রলোভনে যাওয়া তরুণ-তরুণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর?
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, কর্মসংস্থানের অভাব ও দ্রুত আয়ের আশায় রাজ্যের বাইরে পা বাড়ানো অনেক যুবক-যুবতী মানবপাচার চক্রের সহজ শিকার হয়ে পড়ছে। সচেতনতা, কঠোর আইন প্রয়োগ ও আন্তঃরাজ্য সমন্বয় ছাড়া এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়—মত বিশেষজ্ঞদের। এখন দেখার, তদন্ত কত দ্রুত এগোয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Popular post
একটি অনুষ্ঠানের জন্য বলিউডের সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল কত টাকা নেন জানুন

স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।

আগরতলায় দেহ ব্যবসা ও মাদকের বিস্তার: নীরব দর্শক কি প্রশাসন?

রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।

“পাঁচ কোটির প্রতারণা! অভিযুক্তের স্বামী পুলিশ কনস্টেবল, তদন্তে উঠছে প্রশ্ন”

রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।

স্বামীর নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা ও মানহানির অভিযোগ—ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ গৃহবধূ সুস্মিতা

স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর  উদয়পুরের মাতা বাড়িতে  কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার  বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার  বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। ‌ রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার  সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।

সাইকেলের ঘণ্টা থেমে গেল: ‘পচা আচার’-এর জয়ন্ত রায় আর নেই

আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।

রাজ্য

View more
রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের প্রস্তুতি শীঘ্রই

রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী জুন মাসে একাধিক দফায় পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকদের বদলি করা হবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এই বদলি প্রক্রিয়ায় ঊর্ধ্বতন পদ থেকে শুরু করে থানাস্তরের কর্মী পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় কিছু পুলিশ কর্মীর নাম জড়িয়ে পড়ায় স্বরাষ্ট্র দপ্তর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর জেরে কর্মক্ষমতা, জনসাধারণের অভিযোগ নিষ্পত্তির হার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা এবং প্রশাসনিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী আগরতলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানার ওসি, তদন্তকারী অফিসার এবং কয়েকজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকের দায়িত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল। জানা গেছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা অফিসারদের অন্যত্র পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকা ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অভিজ্ঞ ও দক্ষ আধিকারিকদের নিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সামনে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন, পুরনিগম নির্বাচন এবং পরবর্তী সময়ে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে থানাগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জনবান্ধব পুলিশিং এবং অপরাধ দমনে তৎপরতা বাড়ানোর উদ্যোগও জোরদার হয়েছে। প্রশাসনিক মহলে এই সম্ভাব্য রদবদলকে নির্বাচন-পূর্ব অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে পারে।

Admin মে ৩১, ২০২৬ 0

এক নবজাতকের জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্য পেল ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা ll ll

বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায় ll অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ll

মোবাইলে পিস্তলের ছবি পাঠিয়ে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের হুমকি এক যুবকের বিরূদ্ধে ll

রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীতে সংবর্ধনা ও জিম উদ্বোধন, সম্প্রীতির বার্তা মধ্য চারিপাড়ায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, মঙ্গলবারঃ রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীর মধ্য চারিপাড়ার শচীন্দ্র লাল এলাকায় পল্লীমঙ্গল সংঘের উদ্যোগে মঙ্গলবার এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মধ্য চারিপাড়া, শান্তিনগর ও আগরতলা এলাকার প্রায় ৪০ জন বিশিষ্ট অভিভাবক, অভিভাবিকা ও গুণী ব্যক্তিদের সংবর্ধনা জানানো হয়। সংবর্ধিতদের মধ্যে ছিলেন বর্ষীয়ান সমাজসেবী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠানে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়িকা মীনারাণী সরকার ও পশ্চিম জেলা পরিষদের সদস্য প্রদ্যুৎ মজুমদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপপ্রধান শ্যামল মজুমদার, শান্তিলাল দুলাল-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। এদিন কচিকাঁচাদের অংশগ্রহণে নাচ, গান, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। পল্লীমঙ্গল সংঘের সম্পাদক বিমল সরকার বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “দেশীয় মনীষীদের আদর্শ ও সংস্কৃতিকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। একসময় বাম আমলে মানুষকে শুধুই শোষণ শেখানো হতো। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের চেতনার পরিবর্তে লেলিন, স্ট্যালিন ও কার্ল মার্কসকে নিয়েই বেশি ব্যস্ততা ছিল।” তিনি আরও বলেন, সমাজকে সুন্দর ও সচেতন করে তুলতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। এদিন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পল্লীমঙ্গল সংঘের পাশে নবনির্মিত জিম সেন্টারেরও উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করে বিধায়িকা মীনারাণী সরকার দাবি করেন, গত কয়েক বছরে পশ্চিম চারিপাড়ার শচীন্দ্রনাথ এলাকায় অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একসময় এলাকা ড্রাগস কারবার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য কুখ্যাত ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাক্তন গ্রাম প্রধান শ্যামল মজুমদার, বর্তমান প্রধান বিপ্লব মজুমদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ সরকার বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জিমের সরঞ্জাম প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা সেই জিম পুনরায় চালু হওয়ায় যুব সমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। আয়োজক সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা একাধিক জনমুখী সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সংঘের সদস্যরা এলাকায় শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।

Admin মে ২৬, ২০২৬ 0

ফেন্সিডিল কাণ্ড থেকে পাঁচ কোটি টাকা ক্যাশ রহস্য: প্রশ্নের মুখে পুলিশের একাংশের নৈতিকতা, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

এক কোটি টাকার অধিক মূল্যের ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক এক যুবক ll

ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস রাজীব সিং কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিবালয়ের সেক্রেটারি (সিকিউরিটি) পদে নিয়োজিত

"রেলের ওয়াগনে কোটি টাকার মাদক: ছোট মাছ ধরা পড়ল, রাঘববোয়াল আজও অধরা!”

আগরতলার রেলওয়ে ইয়ার্ডে একবার নয়, দু’দুবার বিপুল পরিমাণ এসকাফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনা তখন রাজ্য রাজনীতিতে যেন বজ্রপাত নামিয়েছিল। বিরোধীরা সরব, সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, শাসকদলও কড়া অবস্থানের আশ্বাস দিয়েছিল। পরে মামলার তদন্ত তুলে দেওয়া হয় ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে। কয়েকজন গ্রেফতারও হয়। তারপর? তারপর যেন গোটা কাহিনি “নীরবতার এক্সপ্রেসে” চেপে কোথায় হারিয়ে গেল, তা আজও সাধারণ মানুষ জানতে পারল না। রাজ্যবাসীর প্রশ্ন, রেলের ওয়াগনে ট্রাকভর্তি কফ সিরাপ কি হঠাৎ আকাশ থেকে পড়েছিল? এত বড় চালান কি দু-চারজন খুচরো কারবারির পক্ষে সম্ভব? কার নির্দেশে এই মাদক ত্রিপুরায় ঢুকেছিল, কোথায় যাওয়ার কথা ছিল, কারা ছিল আসল মাথা—এসব প্রশ্ন আজও অন্ধকারেই। তদন্তের শুরুতে যে তৎপরতা দেখা গিয়েছিল, তিন মাস যেতে না যেতেই তা যেন ফাইলের ধুলোয় চাপা পড়ে গেল। ক্রাইম ব্রাঞ্চ চার-পাঁচজনকে গ্রেফতার করল ঠিকই, কিন্তু রাজ্যের বাইরের কোনও বড় চক্র ধরা পড়ল কি? আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্কের খোঁজ মিলল কি? কোটি টাকার এই মাদক কারবারের পিছনে থাকা “বড় মাছ”দের একজনও কি জালে উঠল? উত্তর নেই। বরং এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, মানুষ ভাবতে শুরু করেছে—এই অভিযান কি শুধুই ক্যামেরার সামনে দেখানোর জন্য ছিল? ত্রিপুরায় মাদক কারবার নতুন কিছু নয়। বহুদিন ধরেই অভিযোগ, সীমান্ত ঘেঁষা এই রাজ্যে বড় বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এদের জীবনযাত্রা দেখলে সাধারণ মানুষ অবাক হয়ে যায়। কেউ বিলাসবহুল গাড়িতে ঘোরে, কেউ রাতারাতি বহুতল বাড়ির মালিক হয়, কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন। অথচ তদন্তের নামে ধরা পড়ে কেবল ছোটখাটো বাহক বা নামমাত্র কর্মচারী। যেন সিনেমার খলনায়ক সবসময় পর্দার আড়ালেই থেকে যায়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, যাদের নাম দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের “কুখ্যাত মাদক কারবারি” হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তারা এখনও দিব্যি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সামাজিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক মঞ্চ, ব্যবসায়িক বৈঠক—সব জায়গাতেই তাদের দাপট অটুট। সাধারণ মানুষ তাই প্রশ্ন তুলতেই পারে, এদের হাত কি এতটাই লম্বা যে আইনের হাতও সেখানে পৌঁছাতে ভয় পায়? মুখ্যমন্ত্রী বহুবার বলেছেন, “মাদক কারবারিদের কাউকে ছাড়া হবে না।” কথাটি নিঃসন্দেহে কঠোর ও আশাব্যঞ্জক। কিন্তু বাস্তব বলছে ভিন্ন কথা। যদি সত্যিই কাউকে ছাড়া না হয়, তাহলে এত বড় চালানের নেপথ্যে থাকা মূল চক্র এখনও অধরা কেন? কেন তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সরকার বা ক্রাইম ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হচ্ছে না? কেন রাজ্যবাসী শুধু গ্রেফতারের সংখ্যাই শুনবে, কিন্তু তদন্তের ফল জানবে না? একটা সময় ছিল, বড় কোনও অপরাধ ঘটলে প্রশাসনের তরফে প্রতিদিন আপডেট আসত। এখন যেন নতুন ট্রেন্ড—প্রথমে হইচই, তারপর কয়েকটি গ্রেফতার, শেষে গভীর নীরবতা। যেন অপরাধ নয়, সিরিয়ালের নতুন এপিসোড চলছে। দর্শক উত্তেজিত থাকবে, কিন্তু শেষ দৃশ্য কখনও দেখানো হবে না। এই নীরবতা আরও সন্দেহ বাড়াচ্ছে। কারণ সাধারণ মানুষ জানে, কোটি কোটি টাকার মাদক কারবার কখনও একা কেউ চালাতে পারে না। এর পিছনে থাকে প্রভাবশালী চক্র, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, অর্থের পাহাড় এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা। আর সেখানেই উঠছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্ন—তদন্ত কি সত্যিই শেষ সত্যের দিকে এগোচ্ছে, নাকি কোনও অদৃশ্য চাপের সামনে থেমে গেছে? রাজ্যের যুব সমাজ যখন ধীরে ধীরে মাদকের করাল গ্রাসে ঢুকে পড়ছে, তখন এই ধরনের তদন্তে গা-ছাড়া মনোভাব ভয়ংকর বার্তা দেয়। কারণ অপরাধীরা যদি বুঝে যায় যে কিছুদিন চর্চার পর সবকিছু ঠান্ডা হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় চক্র সক্রিয় হতে সময় নেবে না। তাই এখন রাজ্যবাসীর একটাই দাবি—নাটক নয়, ফলাফল চাই। শুধু ছোট মাছ ধরে সংবাদ সম্মেলন নয়, আসল রাঘববোয়ালদের মুখোশ খুলুক। নাহলে মানুষ একদিন সত্যিই বিশ্বাস করতে শুরু করবে, ত্রিপুরায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে না, চলছে শুধু “অপারেশন দেখাও আর ভুলে যাও”। @copyright

Admin মে ২১, ২০২৬ 0

রাজ্য মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা সামাজিক মাধ্যমে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা

ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির-এ ভক্তদের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

রাজ্যের প্রতিটি দফতরে স্বচ্ছ ভাবে কাজ করার প্রচেষ্টা চলছে ll জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ll

0 Comments