বিশেষ প্রতিবেদন

ত্রিপুরায় আত্মহত্যার হার আশঙ্কাজনক: এনসিআরবি রিপোর্টে উদ্বেগজনক চিত্র

Admin সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫ 0

দেবাশিস দেব।।ত্রিপুরা রাজ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (NCRB) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ত্রিপুরার আত্মহত্যার হার দেশের তুলনায় অনেক বেশি এবং এটি এখন একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই তথ্য উঠে এসেছে NCRB-এর “Accidental Deaths and Suicides in India 2020” রিপোর্ট, NCRB 2023 রিপোর্ট এবং একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।


ত্রিপুরার আত্মহত্যার হার বনাম জাতীয় গড়

NCRB 2020 রিপোর্ট অনুযায়ী, ত্রিপুরার আত্মহত্যার হার ছিল ২০.৯ প্রতি লাখে। অন্যদিকে সেই সময়ে জাতীয় গড় দাঁড়ায় মাত্র ১১.৩ প্রতি লাখে (সূত্র: Bar & Bench, Wikipedia: Suicide rate in India)।

২০২৩ সালের NCRB তথ্য অনুসারে, ত্রিপুরার আত্মহত্যার হার ২০.৮ প্রতি লাখে, যেখানে জাতীয় গড় ১২ প্রতি লাখে (সূত্র: Times of India)। অর্থাৎ, গত তিন বছরে হার তেমন পরিবর্তন হয়নি, কিন্তু জাতীয় গড়ের তুলনায় এটি এখনও প্রায় দ্বিগুণ।


দেশের মধ্যে অবস্থান

ত্রিপুরা বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে আত্মহত্যার হারে শীর্ষে এবং সারা দেশে সপ্তম স্থানে রয়েছে। সর্বোচ্চ আত্মহত্যার হার রেকর্ড হয়েছে সিক্কিমে (৪২.৫–৪৩.১ প্রতি লাখে), এর পরেই রয়েছে ছত্তিশগড়, কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচ্চেরি ইত্যাদি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (সূত্র: Wikipedia, CMHLP Blog)।


আত্মহত্যার মূল কারণ

NCRB-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আত্মহত্যার প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • পারিবারিক সমস্যা ও বিবাদ
  • অর্থনৈতিক চাপ
  • বেকারত্ব
  • পরীক্ষা ও শিক্ষাগত চাপ
  • বিয়ে বা সম্পর্কজনিত সমস্যা
  • মানসিক রোগ, বিশেষ করে ডিপ্রেশন ও উদ্বেগজনিত সমস্যা

২০২২ সালের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সারা দেশে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ১৮–৩০ বছরের তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি (সূত্র: PMC - Trends in suicide in India, TOI)।


আত্মহত্যার পদ্ধতি

রিপোর্ট বলছে, হ্যাংগিং (গলায় ফাঁস দেওয়া) এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আত্মহত্যার পদ্ধতি। তার পরে রয়েছে বিষপান বা কেমিক্যাল গ্রহণ এবং নিজেকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া। এই প্রবণতা শুধু ত্রিপুরা নয়, সারাদেশেই সমানভাবে লক্ষণীয় (সূত্র: PMC Research)।


মাসিক ও বার্ষিক পরিসংখ্যান

Times of India-র এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রিপুরায় গড়ে প্রতি মাসে ১৬ জন আত্মহত্যা করছে। এর মানে, বছরে প্রায় ১৯০–২০০ জন মানুষ আত্মহত্যা করছে এই ছোট্ট রাজ্যে (সূত্র: TOI)।


জাতীয় প্রবণতা

ভারতের সামগ্রিক আত্মহত্যার হারও বাড়ছে। ২০১৭ সালে যেখানে হার ছিল ৯.৯ প্রতি লাখে, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৪ প্রতি লাখে (সূত্র: PMC, Wikipedia: Suicide in India)। অর্থাৎ, আত্মহত্যা এখন শুধু ত্রিপুরার সমস্যা নয়, বরং একটি জাতীয় সংকট।


উদ্বেগজনক দিক: যুব সমাজ ও শিক্ষার্থী

NCRB-র তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যার শিকারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে যুব সমাজ (১৫–৩০ বছর বয়সী)

  • ত্রিপুরার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার চাপ ও বেকারত্ব বড় ভূমিকা রাখছে।
  • ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

করণীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রিপুরার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি—

  1. মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি: স্কুল, কলেজ ও গ্রামীণ সমাজে কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা করা।
  2. আত্মহত্যা প্রতিরোধ হেল্পলাইন চালু ও প্রসারিত করা
  3. অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে তরুণ সমাজকে স্থিতিশীল করা।
  4. পরিবারে যোগাযোগ ও মানসিক সমর্থন বাড়ানো
  5. রাজ্য সরকারের বিশেষ নীতি ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন

উপসংহার

NCRB রিপোর্ট এবং একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রে স্পষ্ট যে, ত্রিপুরায় আত্মহত্যার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়—এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে সমাজের গভীর সংকট। জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আত্মহত্যার হার ত্রিপুরাকে একটি “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” রাজ্যে পরিণত করেছে।

যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষত তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের রক্ষার জন্য অবিলম্বে মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।


ব্যবহৃত সূত্রসমূহ

  • NCRB – Accidental Deaths & Suicides in India 2020 (Bar & Bench PDF)
  • Times of India (১৬ জন প্রতি মাসে আত্মহত্যা, ত্রিপুরা শীর্ষে)
  • Assam Tribune (ত্রিপুরার আত্মহত্যার হার জাতীয় গড়ের দ্বিগুণ)
  • Wikipedia – List of states and union territories of India by suicide rate
  • Wikipedia – Suicide in India
  • PMC – Trends in suicide in India (2017–2022)
  • CMHLP Blog – Takeaways from NCRB Data 2022

লেখকঃ সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার। (আগরতলার একটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল)

Popular post
একটি অনুষ্ঠানের জন্য বলিউডের সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল কত টাকা নেন জানুন

স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।

আগরতলায় দেহ ব্যবসা ও মাদকের বিস্তার: নীরব দর্শক কি প্রশাসন?

রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।

“পাঁচ কোটির প্রতারণা! অভিযুক্তের স্বামী পুলিশ কনস্টেবল, তদন্তে উঠছে প্রশ্ন”

রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।

স্বামীর নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা ও মানহানির অভিযোগ—ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ গৃহবধূ সুস্মিতা

স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর  উদয়পুরের মাতা বাড়িতে  কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার  বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার  বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। ‌ রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার  সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।

সাইকেলের ঘণ্টা থেমে গেল: ‘পচা আচার’-এর জয়ন্ত রায় আর নেই

আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।

বিশেষ প্রতিবেদন

View more
শ্রেয়া ঘোষাল
লাইভ কনসার্ট বা স্টেজ শো'র জন্য ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন সংগীত শিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল শুধুমাত্র তার কণ্ঠস্বরের জন্যই নয়, তার পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং প্রতিভার জন্য আজ আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। ছোটবেলার একটি সাধারণ মেয়ে থেকে আজকের সুপারস্টার হয়ে ওঠার গল্পটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। প্রথমেই তার পারিশ্রমিকের কথা বলা যাক। বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, শ্রেয়া ঘোষাল একটি গান গাওয়ার জন্য প্রায় ২০–২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেন।  আর লাইভ কনসার্ট বা স্টেজ শো-এর ক্ষেত্রে তার পারিশ্রমিক সাধারণত ১৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে, যা অনুষ্ঠান, দেশ-বিদেশ, এবং আয়োজনের আকার অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।  বড় আন্তর্জাতিক কনসার্ট বা কর্পোরেট শো হলে এই অঙ্ক আরও বাড়ে। এছাড়া কনসার্টের সাথে ভ্রমণ, ব্যান্ড, টেকনিক্যাল টিম—সব মিলিয়ে মোট খরচ অনেক বেশি হয়। এবার তার সম্পত্তির দিকে নজর দিলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী শ্রেয়া ঘোষালের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২০০ থেকে ২৪০ কোটি টাকার মধ্যে। এই বিপুল সম্পদের মূল উৎস হলো গান, লাইভ কনসার্ট, ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট, রিয়েলিটি শো-তে বিচারকের ভূমিকা এবং রয়্যালটি ইনকাম। শ্রেয়া ঘোষালের সাফল্যের গল্প শুরু হয় খুব অল্প বয়সে। তিনি মাত্র ৪ বছর বয়সে সংগীত শেখা শুরু করেন। তার মা-ই ছিলেন প্রথম গুরু। পরে তিনি শাস্ত্রীয় সংগীতের উপর প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু তার জীবনের বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে জনপ্রিয় টিভি রিয়েলিটি শো “Sa Re Ga Ma” জেতার মাধ্যমে। এই শো-তেই তার প্রতিভা নজরে আসে বিখ্যাত পরিচালক Sanjay Leela Bhansali-এর। এরপর তিনি “Devdas” সিনেমায় গান গাওয়ার সুযোগ পান—যেখানে “Dola Re Dola” ও “Bairi Piya” গানগুলো তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। এই সিনেমার জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও জিতে নেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি বিশাল মাইলফলক। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালায়ালম সহ বিভিন্ন ভাষায় হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি। তার কণ্ঠে রোমান্টিক, ক্লাসিক্যাল, আধুনিক—সব ধরনের গান সমান জনপ্রিয় হয়েছে। তার কণ্ঠের স্বচ্ছতা এবং আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। শ্রেয়ার সাফল্যের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে— প্রথমত, তার কঠোর সাধনা ও নিয়মিত রেওয়াজ। দ্বিতীয়ত, তার ভাষাগত দক্ষতা—তিনি বহু ভাষায় সাবলীলভাবে গান গাইতে পারেন। তৃতীয়ত, তার নম্রতা ও পেশাদারিত্ব—যা তাকে সংগীত জগতে দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে তিনি শুধু একজন গায়িকা নন, বরং একটি ব্র্যান্ড। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার কনসার্ট হয়—আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য—সব জায়গায় তার বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, শ্রেয়া ঘোষালের জীবন এক অসাধারণ উদাহরণ—যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম এবং সুযোগ একসাথে মিলেই তৈরি করেছে এক বিশ্বমানের তারকা। তার গল্প প্রমাণ করে, সঠিক পথে অধ্যবসায় থাকলে ছোটবেলার স্বপ্ন একদিন বাস্তব হয়। তথ্যসূত্র, বিভিন্ন বিনোদন ম্যাগাজিন

Admin এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0

কোটি টাকার সম্ভাবনার ছবিমুড়া আজ অনিশ্চয়তায়—প্রতিদিন লক্ষাধিক আয়ের পর্যটন কেন্দ্র ঘিরে বাড়ছে সংকট

পরকীয়া নয় অপরাধ, প্রেমিক যুগলের উপর হামলায় কঠোর BNS আইন: জানুন আপনার অধিকার

বিদেশে কনসার্টে কোটি টাকার গায়ক কুমার শানু: এখনও অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তা

সহিংসতা নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর: “এভাবে চলতে দেওয়া হবে না”, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

ত্রিপুরায় নির্বাচন-উত্তর পরিস্থিতি ঘিরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। সোমবার রাতে আগরতলার ভগৎ সিং যুব আবাসের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এভাবে চলতে পারে না, চলতে দেওয়া হবে না।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আক্রান্তদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অভিজ্ঞতা, যেখানে তিনি “ভয়ংকর নির্যাতনের” চিত্র শুনে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন বলে জানান। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতের মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে আগামীকাল রাজ্য পুলিশের মহা-নির্দেশকসহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “কেউ যদি আইনভঙ্গ করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।” তবে তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্কও উসকে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তিপ্রা মথার দুষ্কৃতীরাই একাধিক সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যদিও এই অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেই উঠে এসেছে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের বাস্তব চিত্র। তিনি স্বীকার করেন, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে সময় লাগতে পারে এবং দলীয় সংগঠনের দুর্বলতাও খতিয়ে দেখা হবে। তবে বিরোধী মহলের প্রশ্ন, শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিশেষ করে ভোট গণনার আগেও এবং পরেও একাধিক স্থানে পুলিশ আধিকারিকদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীন কর্মরত পুলিশকর্মীরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। রাজ্যে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থাই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Admin এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0

পরিচয়ের রাজনীতিতে বিপুল জয়: এডিসি নির্বাচনে আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ও জাতীয় দলের সংকট

৮১ শতাংশ ভোটে এডিসি নির্বাচন: ত্রিপুরার রাজনীতিতে ত্রিমুখী লড়াই ও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

অবৈধ মাংস ব্যবসায় লাগাম টানতে কড়া Tripura High Court, মাসিক রিপোর্টে নজরদারি বাড়ল

দেবপ্রিয় দেব,জুডো খেলোয়াড় NSRCC
মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনটি জাতীয় আসরে দুর্দান্ত পারফরমেন্সে নজর কেড়েছে দেবপ্রিয়

ত্রিপুরার ক্রীড়া মানচিত্রে নীরবে নিজের নাম লিখে চলেছে ১৪ বছরের কিশোর দেবপ্রিয় দেব। আগরতলার যোগেন্দ্রনগরের নিশান পাড়ার বাসিন্দা, উমাকান্ত একাডেমি ইংলিশ মিডিয়ামের অষ্টম শ্রেণির এই ছাত্র ইতিমধ্যেই তিনটি জাতীয় স্তরের সাব-জুনিয়র জুডো প্রতিযোগিতায় রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে ক্রীড়ামহলে আশার আলো জ্বালিয়েছে। পিতা দেবাশিস দেব ও মাতা মীরা দাস দেবের সন্তান দেবপ্রিয় পড়াশোনার পাশাপাশি কঠোর অনুশীলনেই গড়ে তুলেছে নিজের স্বপ্নের ভিত। পশ্চিম জেলার এনএসআরসিসি জুডো শাখার প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়ের কোচ রাজ্যের স্বনামধন্য জুডোকা প্রদীপ সরকার একসময় প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া এনএসআরসিসির ছোট শাখাটিকে পুনর্জীবিত করেন। প্রদীপ সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা এবং  ত্রিপুরা স্পোর্টস কাউন্সিলের সহায়তা জুডো সেকশনটি নতুন দিশা দেখায়। সেই নবজাগরণেরই উজ্জ্বল ফসল দেবপ্রিয়।  এবার আসা যাক দেবপ্রিয়ের সফলতার পর্বে।২০২৩-২৪ সালে প্রথমেই দুইটি  রাজ্যভিত্তিক স্কুল প্রতিযোগিতায় একটি স্বর্ণ এবং রূপ্য পদক অর্জন করে দেবপ্রিয়। অন্যদিকে রাজ্যভিত্তিক জুডো ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার প্রতিযোগিতায় দুটি  স্বর্ণপদক অর্জন করে সে। ২০২৪ সালের আগস্টে ত্রিপুরা সরকারের আয়োজিত স্টেট লেভেল স্কুল স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় ৫০ উর্ধ্ব কেজি বিভাগে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক জিতে নজর কেড়েছিল সে।  সেই সাফল্যের সূত্র ধরেই জাতীয় মঞ্চে ডাক। ২০২৪  সালের জানুয়ারিতে Sub Junior National Judo Championship-গুজরাটে অংশগ্রহণ করে সে।পরে ২০২৫ সালে মহারাষ্ট্রের Pune-তে ৬৬ কেজি ঊর্ধ্ব বিভাগে লড়াই করে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে দেবপ্রিয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে হায়দ্রাবাদে  অনুষ্ঠিত জাতীয় আসরেও অংশ নিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেয় সে। তিনটি জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত করেছে। শুধু জুডো নয়, দাবাতেও রয়েছে তার কৃতিত্ব ও পদক। খেলাধুলার পাশাপাশি বইপড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সমান আগ্রহী এই কিশোর প্রমাণ করে দিচ্ছে—শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে ত্রিপুরার মাটিতেও জাতীয় মানের খেলোয়াড় উঠে আসতে পারে। রাজ্য ক্রীড়ামহলের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে দেবপ্রিয় দেব আরও বড় সাফল্য এনে দেবে ত্রিপুরাকে।

Admin ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0

AI ডিপফেক রুখতে কড়া কেন্দ্র: তিন ঘণ্টায় সরাতে হবে ভুয়ো কনটেন্ট

এপস্টিন ফাইলস: ক্ষমতার অন্দরমহলে যৌ ন পা চা রে র ছায়া, বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক

শিলচরে স্পা সেন্টার ও বিউটি পার্লারে পুলিশি অভিযান, তবে একই বিষয়ে ত্রিপুরা পুলিশ কেন চুপ প্রশ্ন!

0 Comments