রাজ্য

বড়জলার লংকা মুড়া জমি মাফিয়া ও মাদক কারবারিদের নতুন ঘাঁটি, পুলিশের নজরে একাধিক নাম

Admin এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0

রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রের লংকা মুড়া এলাকা বর্তমানে জমি মাফিয়া ও মাদক কারবারিদের এক বড় ঘাঁটি হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠছে। এক সময় শান্তিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় গত কয়েক বছরে জমি দালালি ও মাদক ব্যবসাকে ঘিরে এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। বিশেষ করে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন সিন্থেটিক ড্রাগের কারবার এবং অবৈধ জমি বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাম আমল থেকেই এই চক্রের সূচনা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নতুন কিছু ব্যক্তিও এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজ্যে ২০১৮ সালে সরকার পরিবর্তনের পর বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল ও বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে নিয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি, তবে স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।
লংকা মুড়া এলাকায় জমি বেচাকেনা ও অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে মাঝেমধ্যেই সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলির মধ্যে বিবাদ ও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একাধিক লিখিত অভিযোগ পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপারের কাছে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল ও অন্যান্য সিন্থেটিক মাদকের কারবারের মাধ্যমে কয়েকজন ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ কালো টাকা অর্জন করেছে এবং সেই অর্থ জমি ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে কয়েকজনের নামও সামনে এসেছে, যাদের মধ্যে বিষ্ণু, দীপক, আশিস, সমীর, প্রসেনজিৎ, অজিত, সুজন, সজল ও নিবাসের নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। এছাড়াও দক্ষিণ নারায়ণপুরের সাজু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মাদক ও জমি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তবে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এলাকায় ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা ইতিমধ্যেই সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। খবর রয়েছে এক্ষেত্রে সমাজ বিরোধীদের যে লিস্ট তৈরি করা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে এই বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার এইসব মাফিয়াদের কেউ কেউ কান পেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে এডিসি নির্বাচনের পর এক যুগে এই সমস্ত সমাজ বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে এবং বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় এরা যাদের হয়ে কাজ করছে সেই সমস্ত রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধেও প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এমনটাই খবর।

Popular post
একটি অনুষ্ঠানের জন্য বলিউডের সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল কত টাকা নেন জানুন

স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।

আগরতলায় দেহ ব্যবসা ও মাদকের বিস্তার: নীরব দর্শক কি প্রশাসন?

রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।

“পাঁচ কোটির প্রতারণা! অভিযুক্তের স্বামী পুলিশ কনস্টেবল, তদন্তে উঠছে প্রশ্ন”

রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।

স্বামীর নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা ও মানহানির অভিযোগ—ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ গৃহবধূ সুস্মিতা

স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর  উদয়পুরের মাতা বাড়িতে  কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার  বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার  বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। ‌ রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার  সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।

সাইকেলের ঘণ্টা থেমে গেল: ‘পচা আচার’-এর জয়ন্ত রায় আর নেই

আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।

রাজ্য

View more
কাঞ্চনমালায় পারিবারিক বিবাদ ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৪, উভয় পক্ষের অভিযোগে মামলা

সমরজিৎ চৌধুরী।।পশ্চিম ত্রিপুরার আমতলী থানার অন্তর্গত কাঞ্চনমালা লক্ষ্মীছড়া স্কুল সংলগ্ন এলাকায় পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দু'জনকে জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে রেশন কার্ড সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রাইমোহন দেবনাথ ও তাঁর পুত্রবধূ কল্যাণী দেবনাথের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, এক পর্যায়ে বৃদ্ধ রাইমোহন দেবনাথের উপর হামলার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর অভিযোগ ওঠে, কল্যাণী দেবনাথ তাঁর বাবার বাড়ি মোহনপুরের তারাপুর এলাকা থেকে কয়েকজনকে ডেকে এনে রাইমোহন দেবনাথের অপর পুত্রবধূ বেবি দেবনাথের বাড়িতে হামলা চালান। এই ঘটনায় বেবি দেবনাথের মা আরতি দেবনাথ এবং ভাই শুকলাল দেবনাথসহ মোট চারজন আহত হন। আহতদের প্রথমে কাঞ্চনমালা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গুরুতর আহতদের জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, শুকলাল দেবনাথের একটি হাত ভেঙে গেছে এবং আরতি দেবনাথ মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ঘটনার পর কল্যাণী দেবনাথের দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাটি নিজেরাই ঘটিয়ে অন্যের বিরুদ্ধে দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার জেরে আমতলী থানায় উভয় পক্ষের তরফে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয়দের বক্তব্যও নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Admin জুন ৩০, ২০২৬ 0

সিবিআই থেকে ত্রিপুরা পুলিশ: ডিজিপি অনুরাগ ধ্যানকরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের প্রস্তুতি শীঘ্রই

এক নবজাতকের জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্য পেল ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা ll ll

বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন বিধায়ক অভিষেক দেবরায় ll অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ll

সকল প্রকার জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অভিষেক দেবরায় প্রদেশ বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন। তিনি বিদায়ী প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্যের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রসঙ্গত, প্রদেশ সভাপতির পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্দরমহলে জোর জল্পনা চলছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিজেপির জাতীয় নেতৃত্ব অভিষেক দেবরায়ের নাম চূড়ান্ত করে। ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন তাঁকে প্রদেশ বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করেছেন। এদিন বিজেপির জাতীয় মহাসচিব ও সদর দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অরুণ সিং এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। অবিলম্বে তিনি ত্রিপুরা বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এদিকে, ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির সভাপতি হিসেবে অভিষেক দেবরায়ের নিয়োগে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, তাঁর গতিশীল নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতায় দল আরও শক্তিশালী হবে এবং ত্রিপুরার মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী। তাঁর সফল কার্যকালের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।পাশাপাশি, ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার জন্য অভিষেক দেবরায়কে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, তাঁর গতিশীল নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক দূরদর্শিতায় দল আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং ত্রিপুরার মানুষের কল্যাণে নিরলস ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবে।

shironame tripura মে ২৮, ২০২৬ 0

মোবাইলে পিস্তলের ছবি পাঠিয়ে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের হুমকি এক যুবকের বিরূদ্ধে ll

রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীতে সংবর্ধনা ও জিম উদ্বোধন, সম্প্রীতির বার্তা মধ্য চারিপাড়ায়

ফেন্সিডিল কাণ্ড থেকে পাঁচ কোটি টাকা ক্যাশ রহস্য: প্রশ্নের মুখে পুলিশের একাংশের নৈতিকতা, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

এক কোটি টাকার অধিক মূল্যের ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক এক যুবক ll

  অনুমানিক দেড় কোটি টাকার ইয়াবা ট্যাবলেট সহ এক যুবক আটক করেছে কমলপুর থানার পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে কমলপুর থানাধীন ২০৮ নং জাতীয় সড়কের দূর্গা চৌমুহনি নাকা পয়েন্টে একটি খবর আসে কুমাঘাটের দিক থেকে একটি মারুতি ব্রেজা গাড়িতে করে নেশা সামগ্রী আসছে। সেই খবর অনুসারে গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িতে তল্লাসি চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে, খবর পেয়ে এসডিপিও সমুদ্র দেব্বর্মা সহ অন্যান্য আধিকারিকরা ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখানে পঞ্চাশ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ৫০ লক্ষ টাকা হবে। ঘটনায় গাড়ি চালককেও আটক করা হয়।    

shironame tripura মে ২৩, ২০২৬ 0

ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস রাজীব সিং কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিবালয়ের সেক্রেটারি (সিকিউরিটি) পদে নিয়োজিত

"রেলের ওয়াগনে কোটি টাকার মাদক: ছোট মাছ ধরা পড়ল, রাঘববোয়াল আজও অধরা!”

রাজ্য মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা সামাজিক মাধ্যমে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা

0 Comments