ঈদকে সামনে রেখে বাবার সঙ্গে মার্কেট করে বাড়ি ফিরছিলেন কিশোরী রাবেয়া (ছদ্মনাম)। অভিযোগ, ফেরার পথে একদল কিশোর গ্যাং সদস্য তাদের লক্ষ্য করে অনুসরণ করতে থাকে। কিছু দূর যাওয়ার পর নির্জন এলাকায় রাবেয়া ও তার বাবার ওপর হামলা চালানো হয়। রাবেয়ার বাবার মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা রাবেয়াকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি। পরবর্তীতে জ্ঞান ফিরে এলে রাবেয়ার বাবা স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েকে খুঁজতে শুরু করেন। পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর রাত প্রায় ১টার দিকে ময়মনসিংহ-গাজীপুর মহাসড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় রাবেয়াকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে। রাবেয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলেও ভয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি বলে দাবি স্বজনদের। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর ব্যবস্থা, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
ভারতের ছোট শহর থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ দুনিয়ায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা হারশিতা অরোরা। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের এই তরুণী আজ বিশ্ব প্রযুক্তি মহলে এক পরিচিত নাম। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নিজের দক্ষতা, পরিশ্রম ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সাফল্যের জন্য শুধু ডিগ্রিই শেষ কথা নয়। খুব অল্প বয়স থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় হারশিতার। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি কোডিং শেখা শুরু করেন। অন্যদিকে যখন অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষার প্রস্তুতি ও স্কুলের রুটিনে ব্যস্ত, তখন হারশিতা নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি স্কুল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ তাঁর মতে, প্রচলিত শিক্ষা কাঠামো তাঁর সৃজনশীলতা ও কাজের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারছিল না। এরপরই শুরু হয় তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের নতুন অধ্যায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি তৈরি করেন ‘Crypto Price Tracker’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ। ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারদর ও পোর্টফোলিও ট্র্যাক করার জন্য তৈরি এই অ্যাপ দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। অ্যাপটি Apple App Store-এ featured হয় এবং পরে সেটি অধিগ্রহণ করা হয়। এই সাফল্যের পর প্রযুক্তি দুনিয়ায় হারশিতার নাম ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর এই অসাধারণ প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার তাঁকে প্রদান করে ‘Bal Shakti Puraskar’। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ O-1 ভিসা লাভ করেন। এই ভিসা সাধারণত অসাধারণ দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনকারী ব্যক্তিদের দেওয়া হয়। এরপর তিনি আমেরিকায় গিয়ে প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ জগতে আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করেন। ২০১৯ সালে হারশিতা অরোরা, ভিগনান ভেলিভেলা এবং তুষার মিশ্র মিলে প্রতিষ্ঠা করেন ফিনটেক সংস্থা AtoB। প্রথমদিকে তাঁদের ব্যবসায়িক ধারণা সফল হয়নি। কোভিড পরিস্থিতির কারণে সংস্থার প্রাথমিক পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। কিন্তু সেখানেই থেমে যাননি তাঁরা। বরং নতুন করে সমস্যাকে বুঝতে মাঠে নামেন। ব্যাংকার বা কর্পোরেট অফিসে বসে নয়, তাঁরা সরাসরি ট্রাকচালক ও ট্রাক অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় AtoB-এর নতুন ব্যবসায়িক মডেল। সংস্থাটি আমেরিকার ট্রাকিং শিল্পের জন্য আধুনিক আর্থিক পরিষেবা তৈরি করে। তাদের পরিষেবার মধ্যে রয়েছে fleet cards, instant payouts, fraud prevention এবং payment infrastructure। বর্তমানে AtoB হাজার হাজার ট্রাকিং কোম্পানিকে পরিষেবা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম Y Combinator সংস্থাটিকে “Stripe for Trucking” বলেও উল্লেখ করেছে। বিশ্ব প্রযুক্তি জগতে হারশিতার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় ২০২৬ সালে, যখন Y Combinator তাঁকে General Partner হিসেবে ঘোষণা করে। স্টার্টআপ বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অন্যতম Y Combinator। এখান থেকেই Airbnb, Stripe, Dropbox-এর মতো বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পর্যায়ে একজন ভারতীয় তরুণীর অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। হারশিতা অরোরার জীবনগাথা আজ বিশেষভাবে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে ভারতের ছোট শহরের তরুণ-তরুণীদের কাছে। কারণ তিনি দেখিয়েছেন, জন্মস্থান, বয়স বা ডিগ্রি কোনও মানুষের চূড়ান্ত পরিচয় নয়। সাহস, দক্ষতা ও নিরন্তর শেখার ইচ্ছাই একজন মানুষকে বড় জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হারশিতার সাফল্যের বড় কারণ ছিল বাস্তব সমস্যাকে বোঝার ক্ষমতা। অনেক উদ্যোক্তা শুধু নিজের আইডিয়াকে গুরুত্ব দেন, কিন্তু হারশিতা সমস্যার গভীরে গিয়ে মানুষের প্রয়োজন বুঝতে চেয়েছেন। তাই ব্যর্থতা আসার পরেও তিনি দিশা বদলাতে পিছপা হননি। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এই মানসিকতাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সমাজে এখনও বহু তরুণ-তরুণী নিজেদের সীমাবদ্ধ ভেবে পিছিয়ে যান। ছোট শহরের বাসিন্দা হওয়া, ইংরেজিতে দুর্বলতা, সাধারণ পরিবার বা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাকে অনেকেই বাধা বলে মনে করেন। কিন্তু হারশিতা অরোরার জীবন সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করেছে, বিশ্বমঞ্চে পৌঁছাতে গেলে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা। বর্তমানে প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ জগতে হারশিতা অরোরা নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। তাঁর গল্প শুধু একজন সফল উদ্যোক্তার নয়, বরং এমন এক তরুণীর গল্প, যিনি নিজের সীমা নিজেই ভেঙে নতুন পরিচয় তৈরি করেছেন। কৃতজ্ঞতাঃ বিপ্লব পাল
অবশেষ দেশে ফেরার পালা তাঁর l তিনি আবার ফিরবেন বাংলাদেশে। শুধু সময়ের অপেক্ষা। সম্প্রতি, এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতেই রয়েছেন আওয়ামি লিগের নেত্রী। গত বছরই মানবতা বিরোধী অপরাধে সেদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে। তারপর থেকেই শেখ হাসিনাকে ভারতে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ। কিন্তু, এখনও সেই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দিল্লি। এদিকে, প্রত্যর্পণের বদলে হাসিনার মুখে শোনা যাচ্ছে প্রত্যাবর্তন। একইসঙ্গে বিএনপি-র শাসনে ফের বাংলাদেশে অন্ধকার দিনগুলো ফিরে আসবে বলে দাবি করেছেন হাসিনা।শেখ হাসিনার দাবি, প্রত্যাবর্তন প্রয়োজন। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যাবর্তন প্রয়োজন। আর তা কোনও নির্দিষ্ট সময়ের উপর নির্ভরশীল নয়। এই বিষয়ে হাসিনা বলেন,”প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি কোনও নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। আমরা বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছি। এটি শুধু আমার প্রত্যাবর্তনের জন্যই নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যও প্রয়োজনীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।”
জার্মান পুলিশ টানা ১৬ বছর ধরে এক নারী সিরিয়াল কিলারকে খুঁজেছে। ডিএনএ প্রমাণ বলছিল, তিনি অন্তত ৪০টি অপরাধস্থলে উপস্থিত ছিলেন! কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসে চমকে দেওয়ার মতো সত্য- এমন কোনো খুনি আদৌ ছিল না! ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্সজুড়ে এক রহস্য ঘিরে ফেলে তদন্তকারীদের। বিভিন্ন অপরাধস্থলে, চুরি থেকে শুরু করে এক পুলিশ কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ড, একই ডিএনএ পাওয়া যাচ্ছিল। এই অজানা সন্দেহভাজনকে নাম দেওয়া হয় 'Phantom of Heilbronn'। একই ডিএনএ বারবার পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি অত্যন্ত চতুর, চলমান ও অপ্রত্যাশিত আচরণের এক অপরাধী। এই ‘খুনি’কে ধরতে বিপুল সময়, অর্থ ও জনবল ব্যয় হয়। ইউরোপের অন্যতম জটিল ফরেনসিক রহস্যে পরিণত হয় ঘটনাটি। কিন্তু সত্য প্রকাশ পায় একেবারেই ভিন্নভাবে, এবং কিছুটা বিব্রতকরভাবে। তদন্তে জানা যায়, ওই ডিএনএ কোনো অপরাধীর নয়, বরং একটি কারখানার কর্মীর। প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত কটন সোয়াবগুলো, যেগুলোকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত বলে ধরা হয়েছিল, সেগুলো তৈরির সময়ই ওই কর্মীর ডিএনএ লেগে যায়। এরপর সেই একই সোয়াব বিভিন্ন দেশে বিতরণ হওয়ায়, প্রতিটি আলাদা অপরাধস্থলেও একই ডিএনএ ‘প্রমাণ’ হিসেবে পাওয়া যায়। এই আবিষ্কার পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াকেই নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। স্পষ্ট হয়ে ওঠে- বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিও নির্ভর করে পেছনের সূক্ষ্ম মান নিয়ন্ত্রণের ওপর। ঘটনাটি প্রকাশের পর ইউরোপজুড়ে ফরেনসিক সরঞ্জামের মানদণ্ড আরও কঠোর করা হয়। প্রমাণ সংগ্রহের উপকরণে 'ডিএনএ-ফ্রি' সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিভ্রান্তিকর ঘটনা আর না ঘটে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বারবার একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিচ্ছেন—“ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার।” এই বার্তাটি শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং বর্তমান সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ-এর বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতির অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর দেশ-বিদেশে চাপ বাড়তে থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনোভাবেই ধর্মের ভিত্তিতে সহিংসতা বা বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। কারো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে রাষ্ট্র দায়িত্ব নেবে।” তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যেও কিছুটা আস্থার সঞ্চার করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায় প্রসঙ্গে তারেক রহমান সরাসরি কোনো আলাদা অবস্থান না নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি বারবার বলেছেন, “ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু নাগরিকত্ব একটাই—বাংলাদেশি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, রাষ্ট্রের চোখে সব নাগরিক সমান এবং কোনো সম্প্রদায়কে আলাদা করে দেখা হবে না। এছাড়াও তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো ধরনের হামলা বা সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসনকে সক্রিয় রাখতে তিনি বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থাও চালু করার কথা উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি আশ্বাস নয়, বরং সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা—কারণ বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তারেক রহমান অতীতেও বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বলেছেন, তবে বর্তমান অবস্থানে এসে তার বক্তব্যের গুরুত্ব অনেক বেশি বেড়েছে। কারণ এখন তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তার প্রতিটি বক্তব্য নীতিগত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী মহল এই বক্তব্যকে কিছুটা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ও মানবাধিকার ইস্যুকে সামনে রেখেই এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ মনে করছে, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরনের বার্তা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই একটি বহু-ধর্মীয় ও বহু-সংস্কৃতির দেশ। এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষেরও কর্তব্য। তারেক রহমানের এই বার্তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার”—এই নীতিকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ঐক্যবদ্ধ ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এখন প্রশ্ন একটাই—এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবে রূপ পায়, সেটিই আগামী দিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী Washington, D.C.-এর একটি অভিজাত হোটেলে নৈশভোজ চলাকালীন গুলির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। জানা গেছে, হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের সঙ্গে Washington Hilton-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump। সেই সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে, যদিও ঘটনায় তিনি অক্ষত রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। হামলাকারীকে চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ওপর এটি প্রথম হামলার চেষ্টা নয়। এর আগে আরও তিনবার তাকে লক্ষ্য করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে Butler, Pennsylvania-এ একটি নির্বাচনী জনসভায়। সেই সময় এক বন্দুকধারী কাছের ভবনের ছাদ থেকে গুলি চালায়, যাতে ট্রাম্পের কানে আঘাত লাগে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। বারবার এই ধরনের হামলার ঘটনায় মার্কিন রাজনীতিতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জটিল রোগ ক্যানসারে আক্রান্ত ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত তিনি। ইতিমধ্যেই চিকিৎসাও চলছে। বার্ষিক মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরই ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী এই কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, প্রসেস্ট ক্যানসার ধরা পড়েছে তাঁর, তবে তা প্রাথমিক স্টেজে রয়েছে।প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশনের কারণে নেতানিয়াহুর প্রস্টেটে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই রুটিন চেকআপ চলে। সেই সময় একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে। এরপরই চিকিৎসা শুরু করা হয়। ৭৬ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন যে নির্দিষ্ট চিকিৎসায় ওই ‘সমস্যা’কে সমাধান করা হয়েছে। এখন আর তার চিহ্নও নেই। নেতানিয়াহুর মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে সুস্থ আছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
ইংল্যান্ডের কারাগারে সহিংসতা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক কয়েদি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ইয়ান হান্টলি ও ইয়ান ওয়াটকিনস। বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে গুরুতর হামলার সংখ্যা ৩,৫০০ ছাড়িয়েছে এবং সাতজন কয়েদি নিহত হয়েছেন। কারাগারে বন্দিদের হাতে তৈরি অস্ত্র দিয়ে হামলা, গ্যাং নেতাদের নির্দেশে সহিংসতা এবং দীর্ঘ সাজাপ্রাপ্তদের শাস্তির ভয় না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। একই সঙ্গে কারারক্ষীদের ওপর হামলা বেড়েছে এবং জনবল সংকট নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্দিদের মধ্যে ভয়, প্রতিশোধ ও ক্ষমতার লড়াই কারাগারের ভেতরে হত্যাকাণ্ডকে স্বাভাবিক করে তুলছে। সরকারের দাবি, সহিংসতা কমাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। BBC
ইংল্যান্ডে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার উদ্যোগকে ঘিরে নতুন আইন আনতে যাচ্ছে সরকার। এতদিন এই বিষয়ে নির্দেশিকা থাকলেও তা বাধ্যতামূলক ছিল না, ফলে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর প্রয়োগে সমস্যা হচ্ছিল। এবার সেই নির্দেশিকাকেই আইনি রূপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সব স্কুলে একসঙ্গে একই নিয়ম কার্যকর করা যায়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, মোবাইল ফোন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করে—পড়াশোনার সময় সোশ্যাল মিডিয়া, গেম বা মেসেজিংয়ের কারণে ক্লাসে বিঘ্ন ঘটে। দ্বিতীয়ত, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সাইবার বুলিং, অনলাইন আসক্তি এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্টে সহজ প্রবেশ—এসব বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে। তৃতীয়ত, স্কুলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও মোবাইল নিষিদ্ধ করা কার্যকর বলে মনে করছে সরকার। তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের প্রায় ৯০% মাধ্যমিক এবং প্রায় সব প্রাথমিক স্কুলেই আগে থেকেই মোবাইল ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেক সময় অভিভাবক বা শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে নিয়ম প্রয়োগ করতে পারত না। নতুন আইনের ফলে প্রধান শিক্ষকদের হাতে আরও স্পষ্ট ক্ষমতা ও আইনি সমর্থন থাকবে। শুধু ইংল্যান্ডই নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বা নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। যেমন— ইতালিতে স্কুলে মোবাইল ব্যবহার প্রায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হাঙ্গেরি ২০২৪ সাল থেকেই জাতীয় পর্যায়ে ফোন নিষিদ্ধ করেছে। নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সে কঠোর সীমাবদ্ধতা চালু রয়েছে। পোল্যান্ড ২০২৬ সাল থেকে ১৬ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের জন্য ফোন নিষিদ্ধ করছে। সুইডেনও ২০২৬ থেকে স্কুলে ফোন জমা রাখার নিয়ম চালু করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি, সামাজিক মেলামেশা উন্নত করা এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের শিক্ষামূলক দিক সীমিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সব মিলিয়ে, শিশুদের সুরক্ষা ও শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউরোপজুড়ে স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
নাসার আর্টেমিস–২ মিশনে চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসা চার নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করেছেন। নয় দিনের এই ঐতিহাসিক অভিযানের পর তারা এখন উদ্ধারকারী জাহাজে নিরাপদে অবস্থান করছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন। এই মিশনে তারা মানব ইতিহাসে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণ করেছেন। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় তাদের ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ঘণ্টায় ২৪ হাজার মাইলেরও বেশি গতিতে চলছিল। এ সময় তাপরোধক ঢালকে সূর্যের পৃষ্ঠের প্রায় অর্ধেক তাপমাত্রা সহ্য করতে হয়েছে। নিরাপদে ফিরে আসার মাধ্যমে আর্টেমিস কর্মসূচির পরবর্তী ধাপের পথ সুগম হলো, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে চাঁদের মাটিতে মানুষ অবতরণ করানো এবং সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলা। অবতরণের সময় তীব্র তাপের কারণে ‘ইন্টেগ্রিটি’ নামের ক্যাপসুলটির সঙ্গে হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলের যোগাযোগ ছয় মিনিটের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে কমান্ডার রিড উইজম্যানের কণ্ঠ শোনা গেলে সবাই স্বস্তি প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে লাল-সাদা প্যারাশুট খুলে ক্যাপসুলটি ধীরে ধীরে সমুদ্রে অবতরণ করে। নাসা কর্মকর্তারা এটিকে “একেবারে নিখুঁত অবতরণ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দেবাশিস দেব।।বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা—৮০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদের মালিক ইলন মাস্ক। প্রযুক্তি ও শিল্প দুনিয়ায় এমন সম্পদের উচ্চতায় পৌঁছনোর ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। এই বিপুল সম্পদ শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির শক্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। টেসলা, স্পেসএক্স, এক্স (প্রাক্তন টুইটার), নিউরালিঙ্ক এবং দ্য বোরিং কোম্পানি—এই একাধিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান হিসেবে ইলন মাস্ক একের পর এক নতুন শিল্পখাতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে স্পেসএক্সের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থান মাস্কের সম্পদের পরিমাণকে ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। মহাকাশে বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ, স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট প্রকল্প এবং মঙ্গল অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে টেসলা বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার পথিকৃৎ। শেয়ারবাজারে টেসলার প্রভাব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তিতে অগ্রগতি ইলন মাস্ককে প্রযুক্তি বিপ্লবের মুখ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। পাশাপাশি নিউরালিঙ্কের মানব-মস্তিষ্ক সংযোগ গবেষণা ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ মাস্কের উদ্যোগকে আরও বহুমাত্রিক করেছে। তবে এই অভূতপূর্ব সম্পদের সঙ্গে এসেছে বিতর্কও। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর মন্তব্য, করনীতি ও কর্পোরেট সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনা হয়েছে বারবার। তবুও সমর্থকদের মতে, ইলন মাস্ক ঝুঁকি নিতে জানেন এবং সেই ঝুঁকিই তাঁকে ইতিহাসের এই শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। সব মিলিয়ে, ৮০০ বিলিয়ন ডলারের উপর সম্পদ নিয়ে ইলন মাস্ক শুধু বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি নন, তিনি এক নতুন অর্থনৈতিক যুগের প্রতীক। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে—ভাবনায় সাহস আর প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন থাকলে ইতিহাস বদলানো সম্ভব।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের একটি প্রাইমারি স্কুলে ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, লন্ডনের ভিকার্স গ্রিন প্রাইমারি স্কুলে পড়ুয়া ৮ বছর বয়সী এক হিন্দু শিক্ষার্থী তিলক–চাঁদলো পরার কারণে মানসিক চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত স্কুল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। তিলক–চাঁদলো হিন্দু ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী কপালে ধারণ করা হয়। একটি পবিত্র চিহ্ন বলে ধরা হয়। স্থানীয় সামাজিক অধিকার সংগঠন ইনসাইট ইউকে জানিয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষের কয়েকজন কর্মী ওই নাবালক শিক্ষার্থীকে তার ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহারের কারণ ব্যাখ্যা করতে এবং যুক্তি দেখাতে বলেন। সংগঠনের মতে, এত কম বয়সী শিশুর কাছ থেকে এ ধরনের ব্যাখ্যা দাবি করা “সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত” এবং তা শিশুর মানসিক অধিকারের পরিপন্থী। ইনসাইট ইউকে আরও অভিযোগ করেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সংবেদনশীলতার সঙ্গে না দেখে চাপের পরিবেশ তৈরি করে, যার ফলে শিশুটি নিজেকে অপমানিত ও বিচ্ছিন্ন বোধ করে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বারবার আপত্তি জানানোর পরও স্কুল কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তানের মানসিক সুস্থতা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্কুল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে সরকারের গোপনভাবে নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতা নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগ নতুন করে মানবাধিকার বিতর্ক উসকে দিয়েছে। অভিযোগ উঠছে, এই ক্ষমতা কার্যত মুসলিম ও অশ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর অসমভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যার ফলে নাগরিকত্ব আর মৌলিক অধিকার হিসেবে না থেকে শর্তসাপেক্ষ সুবিধায় পরিণত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ আইনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে এমন ক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে “জাতীয় নিরাপত্তা” বা “জনস্বার্থ”-এর যুক্তিতে কোনো ব্যক্তিকে পূর্ব নোটিশ ছাড়াই নাগরিকত্বহীন করা সম্ভব। সমস্যা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ পান না। ফলে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিই প্রশ্নের মুখে পড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০ সালের পর থেকে যাদের নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে, তাদের বড় অংশ মুসলিম এবং দক্ষিণ এশীয় বা মধ্যপ্রাচ্যীয় বংশোদ্ভূত। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে এই আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। কারণ, দ্বৈত নাগরিকত্ব বা পৈতৃক সূত্রে অন্য দেশের নাগরিকত্বের সম্ভাবনা থাকলেই তাদের সহজ লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে একদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে, অন্যদিকে সমাজে বৈষম্যের অনুভূতি গভীর হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নাগরিকত্ব হলো একজন মানুষের পরিচয়, নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার মূল ভিত্তি। সেটিকে যদি রাষ্ট্র একতরফাভাবে বাতিল করতে পারে, তবে তা কার্যত নাগরিকদের “দ্বিতীয় শ্রেণির” মানুষে পরিণত করে। বিশেষ করে মুসলিম ও অভিবাসী পটভূমির নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগ হলে তা প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যেরই নামান্তর। সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব বাতিলের এই গোপন ক্ষমতা শুধু মুসলিমদের অধিকার নয়, বরং পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যই এক গুরুতর সতর্কবার্তা। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে এই ক্ষমতা ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।
মনিকা হায়দার।।ব্রিটেনে এক ইমামের বিরুদ্ধে মসজিদের ভেতর নাবালক-নাবালিকাকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। নর্থ্যাম্পটনশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে নর্থ্যাম্পটন সেন্ট্রাল মসজিদে ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরীর নিকাহ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আশরাফ ওসমানী নামে ওই ইমাম। ফলে তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিবাহ আইনের অধীনে মামলা হয়েছে। আশরাফ ওসমানী (৫২) নর্থ্যাম্পটন সেন্ট্রাল মসজিদের ইমাম এবং বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী ব্রিটিশ নাগরিক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বিবাহ ও নাগরিক অংশীদারিত্ব (ন্যূনতম বয়স) আইন ২০২২ দ্বারা সংশোধিত সমাজবিরোধী আচরণ, অপরাধ ও পুলিশিং আইনের ১২১ ধারার অধীনে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর নর্থ্যাম্পটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হবেন। ২০২৩ সালে কার্যকর হওয়া নতুন আইনে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সীদের যেকোনো পরিস্থিতিতে বিবাহের ব্যবস্থা করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে কি না, তা বিবেচ্য নয়। আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো নাবালক ও নাবালিকাদের জোরপূর্বক বিয়ে থেকে সুরক্ষা দেওয়া। নর্থ্যাম্পটনশায়ার পুলিশের মুখপাত্র জানান, এই মামলার মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে যুক্তরাজ্যে নাবালকদের বিয়ে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। শিশু সুরক্ষা এবং তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বার্থে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষীদের সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ব্রিটেনে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে পুলিশ ইতিমধ্যেই আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের জোরপূর্বক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে দেওয়ার কোনো প্রক্রিয়ায় কেউ জড়িত থাকলে তা যেন অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ঘটনাটি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর আলোড়ন তুলেছে। শিশু অধিকার কর্মীরাও এই মামলাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এ ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা সমাজে শিশু বিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ব্রিটিশ সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিরোনামে ত্রিপুরা।। আজকের বিশ্বায়নের যুগে বিদেশে কর্মসংস্থানের আকাঙ্ক্ষা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষত ব্রিটেন এবং আমেরিকা—দুই দেশেই দক্ষ জনবল চাহিদা অত্যন্ত বেশি। তবে সব পেশার জন্য ভিসা পাওয়া সমানভাবে সহজ নয়। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রকে উভয় দেশই "শর্টেজ অকুপেশন" বা জনবল সংকটপূর্ণ তালিকায় রেখেছে। ফলে এসব পেশায় আবেদনকারীরা তুলনামূলক সহজে কাজের ভিসা পেয়ে থাকেন। নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। --- ব্রিটেনে ভিসা পাওয়ার জন্য জনপ্রিয় পেশা ব্রিটেনে মূলত Skilled Worker Visa এর আওতায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি। বর্তমানে দেশটিতে স্বাস্থ্যখাত, আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল সংকট রয়েছে। 1. স্বাস্থ্যখাত ডাক্তার, নার্স, কেয়ার ওয়ার্কার, প্যারামেডিকস প্রভৃতি পেশায় চাহিদা অত্যন্ত বেশি। একজন কেয়ার ওয়ার্কারের বার্ষিক গড় বেতন £23,000 থেকে শুরু করে £28,000 পর্যন্ত। ডাক্তার বা সিনিয়র নার্সদের ক্ষেত্রে বেতন £40,000 থেকে £75,000 পর্যন্ত হতে পারে। 2. আইটি ও ডিজিটাল সেক্টর সফটওয়্যার ডেভেলপার, সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ, ডাটা অ্যানালিস্ট ইত্যাদি পদে প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এসব পেশায় গড় বেতন £35,000 থেকে £60,000 এর মধ্যে। 3. ইঞ্জিনিয়ারিং সিভিল, মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা শর্টেজ লিস্টে রয়েছেন। গড় বেতন £32,000 থেকে £50,000 পর্যন্ত। 4. শিক্ষকতা বিশেষ করে গণিত, পদার্থবিদ্যা ও কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষকরা উচ্চ চাহিদায় আছেন। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক গড় বেতন £28,000 থেকে £45,000। --- আমেরিকায় ভিসা পাওয়ার জন্য জনপ্রিয় পেশা যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের জন্য প্রধানত H-1B ভিসা বহুল পরিচিত। এছাড়াও EB-3 ও EB-2 গ্রিন কার্ড ভিত্তিক ভিসা জনপ্রিয়। এখানে মূলত প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যখাত ও দক্ষ শ্রমিক ক্যাটাগরিতে বেশি চাহিদা। 1. আইটি ও প্রযুক্তি খাত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ওয়েব ডেভেলপার, ডাটা সায়েন্টিস্ট, এআই বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রচুর সুযোগ রয়েছে। গড় বেতন বছরে $80,000 থেকে $120,000। 2. স্বাস্থ্যসেবা খাত ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও থেরাপিস্টদের জন্য আমেরিকা অন্যতম বৃহৎ বাজার। নিবন্ধিত নার্সের বেতন বছরে প্রায় $65,000–$90,000। ডাক্তারদের ক্ষেত্রে $150,000 থেকে শুরু করে $250,000 বা তারও বেশি। 3. শিক্ষকতা ও গবেষণা বিশেষ করে STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) বিষয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য সুযোগ রয়েছে। গড় বেতন বছরে $55,000–$85,000। 4. দক্ষ শ্রমিক (Skilled Workers) রেস্তোরাঁ কর্মী, নির্মাণশ্রমিক, ট্রাক ড্রাইভার এবং ফার্ম ওয়ার্কারদের জন্য EB-3 ভিসা জনপ্রিয়। এসব ক্ষেত্রে বেতন $30,000 থেকে $45,000 পর্যন্ত। --- তুলনামূলক বিশ্লেষণ ব্রিটেন স্বাস্থ্য ও কেয়ার সেক্টরে সর্বাধিক ভিসা প্রদান করে, অন্যদিকে আমেরিকায় প্রযুক্তি খাত ও স্বাস্থ্যসেবায় ভিসার সুযোগ বেশি। ব্রিটেনে ন্যূনতম বেতন শর্ত কিছুটা কম (£23,000 থেকে শুরু), যেখানে আমেরিকায় বিশেষত H-1B ভিসার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ($60,000–$80,000 বেস স্যালারি সাধারণত বাধ্যতামূলক)। আমেরিকায় একবার ভিসা পাওয়া গেলে দীর্ঘমেয়াদে গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বের সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকে, যদিও প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন। --- উপসংহার ব্রিটেন বা আমেরিকা—উভয় দেশেই দক্ষ জনবলের মূল্য অনেক। তবে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্টেজ লিস্টের পেশাগুলো বেছে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পথ। স্বাস্থ্যসেবা, আইটি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং—এই তিনটি ক্ষেত্র বর্তমানে সবচেয়ে উজ্জ্বল সুযোগ তৈরি করছে। সঠিক যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ হয় এবং উচ্চ আয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
বিশেষ প্রতিবেদন।।লন্ডনের গণপরিবহন ব্যবস্থায় যাত্রীদের মধ্যে অপরাধ ও ভয়ের মাত্রা বেড়ে চলেছে বলে জানাল টিএফএল (Transport for London)। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, লন্ডনের চারজন পরিবহন ব্যবহারকারীর মধ্যে একজনের বেশি গত তিন মাসে যাত্রার সময় উদ্বিগ্ন অনুভব করেছেন এবং প্রায় ১০% যাত্রী কোনো একসময়কার ভয়ঙ্কর ঘটনার কারণে গণপরিবহন ব্যবহার বন্ধ করেছেন। টিএফএল-এর সাম্প্রতিক Customer Pulse Survey অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৫ সময়কালে ৩৯% যাত্রী গণপরিবহনে ভীত বা উদ্বিগ্ন বোধ করেছেন। ৯% যাত্রী ভয়ঙ্কর ঘটনার কারণে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে সেই পরিবহন ব্যবহার বন্ধ করেছেন। অধিকাংশই বিকল্প টিএফএল সেবা বেছে নিয়েছেন। যাত্রীদের উদ্বেগের প্রধান কারণগুলো: মদ্যপ যাত্রী বা মদ্যপানকারী যাত্রী – ২১%, হুমকিস্বরূপ আচরণ বা ভাষা (যেমন মারামারি) – ১১%, অতিরিক্ত ভিড় ও ঠেলাঠেলি – ১১%, বাসে যে সমস্যা হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে স্কুল-সংশ্লিষ্ট কিশোরদের অসামাজিক আচরণ – ১৫%, হুমকিস্বরূপ আচরণ ও ভাষা – ১৪%, ঠেলাঠেলি ও বিশৃঙ্খলা – ১৩% অপরাধের পরিসংখ্যান: সহিংসতার রিপোর্ট বেড়েছে ৫.৫% (২০২৪ সালের তুলনায়), মোট অপরাধের হার টিউবে ০.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে, ঘৃণাজনিত অপরাধ ৪.৬% কমেছে (২০২৪ সালে ৬২৭ থেকে ২০২৫ সালে ৫৯৮), ডাকাতির ঘটনা ১৮.৬% হ্রাস পেয়েছে (১,৫৬০ থেকে ১,২৭০) টিএফএল-এর উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতি: টিএফএল-এর নিরাপত্তা পরিচালক সিওয়ান হেইওয়ার্ড জানিয়েছেন, প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ লন্ডনের গণপরিবহন ব্যবহার করে এবং অধিকাংশ যাত্রা নিরাপদেই সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, "৫০০-র বেশি ইউনিফর্মধারী অফিসার নেটওয়ার্কজুড়ে কাজ করছে। মেট পুলিশ ও ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ যৌথভাবে সহিংসতা, নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধ, অস্ত্র বহন, ডাকাতি, ঘৃণাজনিত অপরাধ ও কর্মীদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে।" টিএফএল জানিয়েছে, রিপোর্ট বাড়ার একটি কারণ হতে পারে যাত্রী ও কর্মীদেরকে অপরাধ রিপোর্ট করতে উৎসাহিত করা — বিশেষ করে ঘৃণাজনিত অপরাধ, সহিংসতা ও যৌন অপরাধ।
বিশেষ প্রতিনিধি।।পচা মাংস সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অ্যান্থনি ফিয়ার (৬৩)-কে আড়াই বছরের বেশি কারাদণ্ড ও ছয় বছরের জন্য কোম্পানির পরিচালক পদে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অপরদিকে, আজার ইরশাদ (৪০)-কে ৩৫ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কী ঘটেছিল আদালতে জানানো হয়, পুরো মুরগি, ভেড়ার অণ্ডকোষসহ বিপুল পরিমাণ মাংস, যা হয় ধ্বংস করার কথা ছিল কিংবা পশুখাদ্যে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত, তা ইরশাদের দোকানে এনে মানুষের খাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হতো। ২০২০ সালে লন্ডনের ওয়ালওর্থ রোড এলাকায় পচা মাংসের দুর্গন্ধে স্থানীয়রা অভিযোগ করলে ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস তদন্ত শুরু করে। তারা দেখতে পান, রাস্তার পাশে বড় বড় কনটেইনারে গরমে মাংস ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে ইস্ট স্ট্রিটে একটি গোপন অবৈধ কাটিং শপে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, সেখানে কর্মীরা নষ্ট মুরগির মাংস ধুয়ে কেটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছে। তদন্তে প্রায় ১.৯ টন নষ্ট মাংস উদ্ধার হয়, যার মধ্যে ছিল পুরো মুরগি, কাটা মুরগি, ভেড়ার অণ্ডকোষ এবং বিফ বার্গার। সবগুলোই অনিরাপদভাবে সংরক্ষিত ছিল। আদালতের রায় ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি জানিয়েছে, একবার কোনো মাংস প্রাণীর উপজাত (animal by-product) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হলে তা আর মানুষের খাদ্যে ব্যবহারের অনুমতি নেই। কিন্তু ফিয়ার ও তার কোম্পানি Fears Animal Products Limited আইন ভঙ্গ করে তা খাদ্যচক্রে প্রবেশ করিয়েছিল। আদালতে বিচারক নোয়েল লুকাস কেসি ফিয়ারকে “লোভী ও ঝুঁকিপ্রবণ ব্যবসায়ী” আখ্যা দিয়ে বলেন, “অন্যদের ক্ষতির কথা চিন্তা না করে দ্রুত মুনাফা করার প্রবণতা থেকেই এই অপরাধ ঘটেছে। এটি নিছক লোভ ছাড়া আর কিছুই নয়।” তিনি আরও বলেন, “আপনি একজন ধনী ও সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। লোভ ও অহংকার ছাড়া এই অপরাধের আর কোনো কারণ ছিল না।”
স্টাফ রিপোর্টার, শিরোনামে ত্রিপুরা।।কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা ইস্যুতে ভারত সরকারের নীরবতাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আল-জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পরপর দুটি পোস্টে প্রিয়াঙ্কা বলেন, আল-জাজিরার সাংবাদিকদের হত্যা ছিল ‘ঠান্ডা মাথার খুন’। তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষমতা ও অর্থের কাছে যখন বিশ্বের অধিকাংশ গণমাধ্যম নতজানু, তখন এই সাহসী সাংবাদিকরা দেখিয়ে দিলেন, প্রকৃত সাংবাদিকতা কেমন হওয়া উচিত। সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি প্রথম পোস্টে সাংবাদিক হত্যার নিন্দা জানান। প্রায় এক ঘণ্টা পর দ্বিতীয় পোস্টে গাজায় চলমান গণহত্যায় ভারত সরকারের নীরবতার সমালোচনা করে লেখেন, “গণহত্যার মুখে নীরব থাকা মানবতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।” তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিদ্রোহী হানায় আবার রক্তাক্ত পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ! তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর যোদ্ধারা আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া দক্ষিণ ওয়াজ়িরিস্তান জেলায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দিল পুলিশের গাড়ি। বৃহস্পতিবার সকালের এই হামলায় নিহত হয়েছেন এক পুলিশকর্মী-সহ দু’জন। গুরুতর জখম ১৫ জন জন। পাক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’ জানিয়েছে, ওয়ানা তহসিলের অন্তর্গত ঘনবসতিপূর্ণ রুস্তম বাজার এলাকায় ওই হামলা হয়েছে। দক্ষিণ ওয়াজ়িরিস্তান ডেপুটি পুলিশ সুপার ইমরানুল্লা জানান, রাস্তার ধারে বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছিল টিটিপির বাহিনী। পুলিশের গাড়ি আসতেই রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তাঁর দাবি, জখমদের মধ্যে দুই পুলিশকর্মী। বাকিরা সাধারণ নাগরিক। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে বালোচিস্তানের নৌশকি জেলায় বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) হামলায় নিহত হয়েছিলেন এক মেজর-সহ তিন পাক সেনা। তার রেশ কাটার আগেই আঘাত এল খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে। Source - Anandabazar
স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।
রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।
রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।
স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর উদয়পুরের মাতা বাড়িতে কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।
আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।