ত্রিপুরা রাজনীতিতে একসময় অত্যন্ত আলোচিত মুখ ছিলেন সুবল ভৌমিক। কিন্তু প্রদেশ বিজেপির সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবারও তাঁর নাম উপেক্ষিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরেই সভাপতি পদ নিয়ে নানা জল্পনা চললেও শেষ পর্যন্ত দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা গিয়েছে অভিষেক দেবরায়-এর উপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সুবল ভৌমিকের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তাঁর বারবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, তৃণমূল থেকে বিজেপি, পরে বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব এবং পুনরায় রাজনৈতিক সমীকরণে সক্রিয় হওয়ার ঘটনাগুলি তাঁকে একজন স্থায়ী সাংগঠনিক নেতার বদলে “স্বতন্ত্র রাজনৈতিক চরিত্র” হিসেবেই বেশি তুলে ধরেছে। ফলে বিজেপির মতো সংগঠননির্ভর দলে শীর্ষ সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছে একাংশ। অন্যদিকে, বিজেপি বর্তমানে ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও সংগঠনভিত্তিক নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই কারণেই বুথস্তর থেকে উঠে আসা অভিষেক দেবরায়ের উপর দলের ভরসা বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। তবে সুবল ভৌমিকের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে, এমনটা বলতেও নারাজ পর্যবেক্ষকরা। রাজ্যের রাজনীতিতে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং জনসংযোগ এখনও উল্লেখযোগ্য। কিন্তু ভবিষ্যতে তিনি কোন রাজনৈতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান শক্ত করবেন, নাকি আবারও নতুন কোনও সমীকরণের অংশ হবেন—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। সব মিলিয়ে, সভাপতি পদ হাতছাড়া হওয়া সুবল ভৌমিকের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তবে ত্রিপুরার রাজনীতিতে তিনি এখনও এক অনিশ্চিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, যার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে Mamata Banerjee নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত পরাজয় এবং Narendra Modi-র নেতৃত্বে বিজেপির উত্থান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এই ফলাফল কেবলমাত্র নির্বাচনী প্রচারের ফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক নানা সমস্যার সম্মিলিত প্রতিফলন। প্রথমত, প্রবল অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর তৃণমূলের বিরুদ্ধে বড় ভূমিকা নিয়েছে। এক দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে শাসনব্যবস্থার প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছিল, কিন্তু দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ ও অন্যান্য চাকরি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ যুবসমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ সাধারণ ভোটারের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন এলাকায় দলীয় দাদাগিরি, কাটমানি সংস্কৃতি এবং স্থানীয় স্তরে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তৃণমূলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। তৃতীয়ত, সংগঠনগত দুর্বলতা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমশ প্রকট হয়ে ওঠে। টিকিট বণ্টনে অসন্তোষ, একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী এবং স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ভোটব্যাঙ্কে সরাসরি প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে তৃণমূলের নিজস্ব কর্মীরাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন বা নীরব প্রতিবাদে ভোট থেকে সরে দাঁড়ান। চতুর্থত, বিজেপি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই অসন্তোষকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়। Narendra Modi-র জনপ্রিয়তা, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সরাসরি প্রচার এবং শক্তিশালী বুথ-লেভেল সংগঠন বিজেপিকে সুবিধা দেয়। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী ইস্যু এবং পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিও কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের প্রভাবিত করে। পঞ্চমত, নারী ও যুব ভোটব্যাঙ্কে পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। যদিও তৃণমূল একাধিক সামাজিক প্রকল্প চালু করেছিল, তবুও কর্মসংস্থানের অভাব, মূল্যবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা তরুণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ায়। নারী ভোটারদের একটি অংশও নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে বিকল্প ভাবতে শুরু করেন। ষষ্ঠত, বিরোধী ভোটের একীকরণ বিজেপির পক্ষে বড় সুবিধা এনে দেয়। বাম ও কংগ্রেসের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাঙ্কের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে সরে আসে, ফলে বহু কেন্দ্রে সরাসরি লড়াইয়ে বিজেপি এগিয়ে যায়। সপ্তমত, তৃণমূলের প্রচারে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নে ভুলও বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেখানে বিজেপি মাটির স্তরে ধারাবাহিকভাবে সংগঠন শক্তিশালী করেছে, সেখানে তৃণমূল অনেক ক্ষেত্রে পুরনো সমীকরণের ওপর নির্ভরশীল থেকেছে। অষ্টমত, ডিজিটাল প্রচার ও তথ্যযুদ্ধেও বিজেপি এগিয়ে ছিল। সোশ্যাল মিডিয়া, ডাটা অ্যানালিটিক্স এবং লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারের মাধ্যমে বিজেপি তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পেরেছে, যেখানে তৃণমূল তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়ে। সবশেষে, এই নির্বাচন ফলাফল একটি বৃহত্তর বার্তা দেয়—ভোটাররা শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং স্থিতিশীল প্রশাসন প্রত্যাশা করে। ২০২৬-এর এই ফলাফল তাই কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং জনমতের গভীর পরিবর্তনের প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে।
ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিকা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নতুন দায়িত্ব পেলেন অঞ্জলি দেবী নাথ চৌধুরী। উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগরের বাসিন্দা এই তরুণ নেত্রী দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের একজন লড়াকু মুখ হিসেবে পরিচিত। দলের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে তিনি নিজেকে কৃতার্থ মনে করছেন, একইসঙ্গে দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেছেন। রাজ্যের উত্তর ত্রিপুরা জেলার একজন সংগ্রামী নেত্রী হিসেবে ইতিমধ্যেই নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন অঞ্জলি দেবী। অভিযোগ, শাসকদলের কিছু নেতা ও দুষ্কৃতিদের টার্গেট হয়েছেন তিনি। বিভিন্নভাবে তাকে অপদস্থ করা, এমনকি তার সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। কিন্তু কোনো বাধাই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। দিনের পর দিন তিনি লড়াই চালিয়ে গেছেন দৃঢ়তার সঙ্গে। রাজ্য স্তরের বিভিন্ন আন্দোলনে সময়ে সময়ে সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের উপস্থিতি প্রমাণ করেছেন। ফলে দলের ভেতরেও তার প্রতি ভরসা দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে। নিজের রাজনৈতিক যাত্রার কথা বলতে গিয়ে অঞ্জলি দেবী জানান, রাজনীতিতে আসার কোনো পূর্ব পরিকল্পনা তার ছিল না। একজন গৃহবধূ হিসেবে সংসার সামলানোই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু জীবনের নানা প্রতিকূলতা, একের পর এক আক্রমণ এবং ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। তখনই তিনি উপলব্ধি করেন, রাজনীতির মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও লড়াই করা সম্ভব। এই সিদ্ধান্তে তার স্বামী সংকর নাথ চৌধুরীর সমর্থন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বামীর উৎসাহেই তিনি রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন এবং পরিচিত হন কংগ্রেসের তরুণ নেতা অ্যাডভোকেট রাখু দাসের সঙ্গে। অঞ্জলি দেবীর কথায়, রাখু দাস তাকে শিখিয়েছেন—একজন নারী শুধু মমতার প্রতীক নন, প্রয়োজনে শক্তির রূপ ধারণ করাও তার দায়িত্ব। রাজনীতির এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেফতার হওয়া, বিরোধীদের আক্রমণের শিকার হওয়া—সবকিছুর মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। তবুও তিনি থেমে যাননি। বরং এই অভিজ্ঞতাই তাকে আরও দৃঢ় করেছে বলে জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিছু মানুষ সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। সেই কারণেই তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, এই নতুন দায়িত্ব পেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। উল্লেখ্য, অঞ্জলি দেবী নাথ চৌধুরী ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেসের ধর্মনগর জেলা কো-অর্ডিনেটর এবং সোশ্যাল মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর হিসেবেও কাজ করেছেন। সম্প্রতি অনলাইন ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি সকলের আশীর্বাদ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে তাদের আস্থা অর্জন করতে পারেন।
রাজ্যে আইনের শাসন বজায় রয়েছে এবং কোনওভাবেই সন্ত্রাসের সংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না—এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। মঙ্গলবার খোয়াই মহকুমার কচুবাড়ি ও বিদ্যাবিল এলাকায় নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত জনজাতি পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে কিছু দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যা সরকার কোনওভাবেই মেনে নেবে না। তিনি জানান, রাজ্যের মানুষ শান্তি চায় এবং সেই শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি কড়া ভাষায় সতর্ক করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে বিজেপি খোয়াই জেলা কার্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত জনজাতি যুবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের জন্য সব ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে তিনি কচুবাড়ি গ্রামের রাজকুমার দেববর্মা এবং বিদ্যাবিলের রামগোপাল বাড়ির বিট্টু দেববর্মার বাড়ি পরিদর্শন করেন, যেখানে দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছিল বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিন উপস্থিত ছিলেন কল্যাণপুরের বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক, খোয়াই জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ ধরনের সন্ত্রাস বহু বছর ধরে চললেও এবার সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা ছয়টায় এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরে মুখ্যমন্ত্রী তেলিয়ামুড়া ও মহারানীপুর কেন্দ্রের বিভিন্ন সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেন।
ত্রিপুরার রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে অনন্ত দেববর্মার দলবদল। বিজেপি শিবিরে যোগ দেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই পুনরায় তিপ্রা মথায় প্রত্যাবর্তন ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। জানা গেছে, তিনি রাজবাড়ীতে গিয়ে Pradyot Kishore Debbarma-এর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পরে তাকে পুনরায় দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক অসন্তোষের ইঙ্গিত বহন করছে। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অনন্ত দেববর্মার হঠাৎ প্রত্যাবর্তন থেকে অনুমান করা হচ্ছে, দলটির দুর্বলতা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে এবং নেতাদের মধ্যে আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। সূত্রের খবর, আরও কয়েকজন জনজাতি নেতাও শীঘ্রই একই পথে হাঁটতে পারেন। এদিকে, এডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে দলবদলের প্রবণতা চোখে পড়ছে। তিপ্রা মথার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং জনজাতি ভোটব্যাঙ্কে তাদের শক্ত অবস্থান বিজেপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে এই ধরনের দলবদল রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে এই বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, দলে কোনো ভাঙন নেই এবং কিছু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে, তিপ্রা মথা শিবির এই ঘটনাকে তাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। সব মিলিয়ে, ত্রিপুরার রাজনীতিতে দলবদল এখন নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজ্যে সদ্য এডিসি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে চলছে। এব্যাপারে মুখ খুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা।রবিবার এবিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের পরে এধরনের ঘটনা ত্রিপুরা রাজ্যের বুকে ঘটে যাচ্ছে।এটা শুধু শান্তি সম্প্রীতির জন্যই বলব না।এই রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা এমন একটা পর্যায়ে গেছে যেখানে আরক্ষা প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজ্যের মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ বলে তিনি জানান।
২০২৬ সালের ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC) নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি এককভাবে লড়ে ভোটের শতাংশ বৃদ্ধিকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরেছেন রাজ্যের মন্ত্রী টিংকু রায়। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, আসন সংখ্যা প্রত্যাশামতো না বাড়লেও ভোটের হারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি বিজেপির প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধিরই প্রতিফলন। মন্ত্রী জানান, ২০২১ সালের নির্বাচনে জোটে লড়ে বিজেপি যেখানে প্রায় ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালে এককভাবে লড়ে সেই ভোট বেড়ে ২৭.১০ শতাংশে পৌঁছেছে। তাঁর মতে, এটি শুধুমাত্র পরিসংখ্যান নয়, বরং মানুষের বিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনে বিরোধী ভোটের মেরুকরণ একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে তিপ্রা মথা জনজাতি আবেগকে সামনে রেখে বড় অংশের ভোট নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে সিপিআই(এম) এবং আইপিএফটি-এর ভোটের বড় অংশ সরে গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, সিপিআই(এম)-এর ভোট ১৫ শতাংশ থেকে কমে ৮.৮৭ শতাংশে এবং আইপিএফটি-র ভোট ১১ শতাংশ থেকে নেমে ২.২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ব্রু পুনর্বাসনের ফলে কিছু আসনে জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তিত হয়েছে, যা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে একাধিক আসনে বিজেপি আগের তুলনায় বেশি ভোট পেলেও জয় পায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। দামছড়া-জম্পুই কেন্দ্রে ২০২১ সালে ৮১৭৮ ভোটে জয় এলেও এবার ৯০২২ ভোট পেয়েও বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। করমছড়ায় আগের নির্বাচনে ১১৫৭৩ ভোটে জয় এলেও এবার ১২৫৪৩ ভোট পেয়েও একই ফল হয়েছে। মনু-ছৈলেংটায় আগেরবার ৯৩৯৪ ভোটে জয় পেলেও এবার ১০৩৪৭ ভোট পেয়েও জয় আসেনি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গঙ্গাসাগর-গন্ডাছড়া, মহারাণী-চেলাগাং এবং রাইমা ভ্যালীতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে বলে দাবি। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই পরিস্থিতির মধ্যেও ভোট বৃদ্ধিই বিজেপির জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা-র নেতৃত্বে উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা মানুষের উপর প্রভাব ফেলছে। এই নির্বাচনের ফলাফল আসনের নিরিখে প্রত্যাশা পূরণ না করলেও, ভোট বৃদ্ধিকে আগামী দিনের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
ত্রিপুরা টিটিএএডিসি নির্বাচন ২০২৬-এ বিজেপির পরাজয়কে শুধু সাধারণ রাজনৈতিক হার হিসেবে দেখলে ভুল হবে; এটি মূলত একটি গভীর সামাজিক-রাজনৈতিক বার্তা। মন্ত্রী রতন লাল নাথ নিজেই স্বীকার করেছেন যে “উন্নয়নের ভিত্তিতে ভোট হলে বিজেপি জিতত, কিন্তু সেন্টিমেন্টের ভিত্তিতে ভোট অন্যদিকে গেছে”—এই বক্তব্যই পুরো ফলাফলের কেন্দ্রবিন্দু। প্রথমত, জোট ভেঙে একক লড়াই বিজেপির জন্য কৌশলগত বড় ভুল প্রমাণিত হয়। তিপ্রা মথা-র সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আদিবাসী ভোট এককভাবে তাদের দিকে সরে যায়, ফলে বিজেপি ভোট বিভাজনের সুবিধা নিতে পারেনি। দ্বিতীয়ত, আদিবাসী সেন্টিমেন্ট এই নির্বাচনে নির্ধারক ভূমিকা নিয়েছে। তিপ্রা মথা দীর্ঘদিন ধরে “গ্রেটার টিপ্রাল্যান্ড” দাবিকে কেন্দ্র করে যে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি গড়ে তুলেছে, তা আদিবাসীদের আবেগ ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিজেপির কিছু নেতার বক্তব্য সেই সেন্টিমেন্টে আঘাত করেছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়, যা ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে। তৃতীয়ত, গ্রাসরুট স্তরে সংগঠনগত শক্তিতে বিজেপি পিছিয়ে পড়ে। ২০২১ সাল থেকেই তিপ্রা মথা আদিবাসী এলাকায় শক্ত ভিত তৈরি করে রেখেছিল। এবারের উচ্চ ভোটার উপস্থিতি (৮৩%+) সেই ভিত্তিকে আরও মজবুত করে, যেখানে বিজেপির উন্নয়নমূলক প্রচার তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। চতুর্থত, বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আদিবাসী এলাকায় দলীয় উপস্থিতি সীমিত থাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় বিজেপি, যা নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়েছে। পঞ্চমত, “স্থানীয় বনাম বহিরাগত” ইমেজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন-এর প্রতি আদিবাসীদের ব্যক্তিগত আস্থা ও আবেগ বিজেপির পক্ষে ভাঙা সম্ভব হয়নি। তাঁর নেতৃত্বে তিপ্রা মথা নিজেদেরকে প্রকৃত “আদিবাসীদের দল” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই ফলাফল স্পষ্ট করে যে শুধুমাত্র উন্নয়নমূলক প্রচার যথেষ্ট নয়—ত্রিপুরার মতো সংবেদনশীল সামাজিক কাঠামোয় পরিচয়, আবেগ, এবং স্থানীয় আস্থাই শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। বিজেপির জন্য এটি ২০২৮ বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি বড় সতর্কবার্তা, যেখানে কৌশল, ভাষা এবং সংগঠন—তিন ক্ষেত্রেই পুনর্বিবেচনা জরুরি।
দেবাশিস দেব।।ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কের সুর চড়িয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচনের ফলাফল স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল নয়, বরং একটি “পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক স্ক্রিপ্ট”-এর অংশ। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে দিল্লিতে বসেই এই সমীকরণ তৈরি হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী মাঠে বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রবীর চক্রবর্তীর বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা নিজেই তিপ্রা মথার নেতা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের জন্য জয়ের পথ সুগম করে দিয়েছেন। এই অভিযোগ নিছক রাজনৈতিক আক্রমণ হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে থাকা বার্তা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি এবং তিপ্রা মথার মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ সমঝোতার ফলেই এই ফলাফল সম্ভব হয়েছে, যার ফলে কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী শক্তি কার্যত প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর ছিল জনজাতি আবেগের রাজনৈতিক ব্যবহার। প্রবীর চক্রবর্তীও সেই বিষয়টিকেই সামনে এনে বলেন, প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জনজাতিদের আত্মপরিচয় ও অধিকার সংক্রান্ত আবেগকে কাজে লাগিয়েছেন। এর ফলে উন্নয়ন, দুর্নীতি বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। বিশেষ করে এডিসিতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তা নির্বাচনের কেন্দ্রীয় আলোচনায় স্থান পায়নি—এটিকে কংগ্রেস বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছে। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের বক্তব্য, নির্বাচনটি মূলত “পরিচয়ের রাজনীতি” বনাম “প্রশাসনিক জবাবদিহিতা”-র লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল, যেখানে প্রথমটি স্পষ্টভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশও মনে করছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে এই ধরণের পরিচয়ভিত্তিক সমীকরণ নতুন নয়, তবে এবারের এডিসি নির্বাচনে তা আরও তীব্রভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হল, কংগ্রেস এই ফলাফলকে ভবিষ্যৎ বিধানসভা নির্বাচনের একটি পূর্বাভাস হিসেবে দেখছে। প্রবীর চক্রবর্তী স্পষ্টভাবে বলেন, এই ফলাফল মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। তাঁর মতে, যদি বিজেপি একই কৌশল অবলম্বন করে চলে, তাহলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ, একদিকে তিপ্রা মথার মতো আঞ্চলিক শক্তি জনজাতি এলাকায় নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করছে, অন্যদিকে বিজেপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাঙ্কেও ভাঙন ধরার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি বা তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, কংগ্রেসের এই অভিযোগ মূলত নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকার একটি প্রচেষ্টা। কারণ, বাস্তবে কংগ্রেস এখনও পাহাড়ি এলাকায় শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পারেনি, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। সব মিলিয়ে, এডিসি নির্বাচন ২০২৬ শুধু একটি স্থানীয় নির্বাচন নয়, বরং ত্রিপুরার বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে। পরিচয় রাজনীতি, আঞ্চলিক শক্তির উত্থান এবং জাতীয় দলগুলির কৌশলগত অবস্থান—এই তিনটি উপাদান আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যাবে, তা এখনই স্পষ্ট না হলেও এই নির্বাচনের ফলাফল যে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
বড়জলা কেন্দ্রের প্রাক্তন ভারতীয় জনতা পার্টির বিধায়ক দিলীপ কুমার দাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করে ত্রিপুরার ইতিহাস, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তিপ্রা মথা দলের সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের উদ্দেশ্যেই তিনি এই বার্তাটি লিখেছেন বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফেসবুকে প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি ত্রিপুরার অতীত ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকানোর আহ্বান জানান এবং তা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় ত্রিপুরা একটি স্বাধীন দেশীয় রাজ্য ছিল। তৎকালীন মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র কিরীট বিক্রম কিশোর মানিক্য তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। সেই সময় মহারানী কাঞ্চন প্রভা দেবী রিজেন্ট হিসেবে রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ত্রিপুরার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১৯৪৯ সালের ১৫ অক্টোবর ভারত সরকারের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ চুক্তি সম্পন্ন করেন। এই প্রসঙ্গ তুলে ধরে দিলীপ কুমার দাস তাঁর বার্তায় প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণকে ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক দাবির তুলনা করে দেখার আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরে ১৯৫৬ সালে ত্রিপুরা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হয়, ১৯৬৩ সালে বিধানসভা গঠিত হয় এবং ১৯৭২ সালের ২১ জানুয়ারি ত্রিপুরা পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা লাভ করে। ১৯৮৪ সালে গঠিত হয় স্বশাসিত জেলা পরিষদ। ফেসবুক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরার উন্নয়নে বাঙালি ও জনজাতি—দুই সম্প্রদায়েরই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অতীতে জনজাতি সমাজকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য পূর্ব পাকিস্তান থেকে বহু বাঙালি শিক্ষককে ত্রিপুরায় আনা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই বিষয়টিও তিনি বিশেষভাবে প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের উদ্দেশ্যে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, প্রয়াত নৃপেন চক্রবর্তী, বীরেন দত্ত, দশরথ দেব, সুধন্য দেববর্মা, অঘোর দেববর্মা ও নীলমণি দেববর্মা সহ বহু নেতা জনজাতি সমাজের শিক্ষা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারও ত্রিপুরার সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, ত্রিপুরায় বাঙালি ও জনজাতি সমাজ একটি পাখির দুই ডানার মতো। দুই সম্প্রদায় একসঙ্গে এগোলেই রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব। তাই আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে ইতিহাস বিচার করে এমন কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি না করার জন্য তিনি প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
দিল্লির যন্তর মন্তরে সমাবেশে প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের বক্তব্য আবারও ত্রিপুরার রাজনীতিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে। তিপ্রা মথা সুপ্রিমো তাঁর আবেগঘন ভাষণে শুধু জনজাতি সমাজের ক্ষোভ-অভিমানই নয়, বরং সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতাও তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে ত্রিপুরায় প্রবেশ করছে, অথচ এই ইস্যুতে প্রতিবাদ তুললেই তাঁদের “সাম্প্রদায়িক” বলে দেগে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য রাজ্যের বর্তমান সরকারের নীতি ও অবস্থানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে, কারণ প্রদ্যুতের দল তিপ্রা মথা বর্তমানে বিজেপি ও আইপিএফটির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় রয়েছে। ১৯৮২ সালের এডিসি (অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল) প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অনীহা সত্ত্বেও জনজাতি সমাজের আন্দোলনের ফলেই এই প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। প্রদ্যুৎ বোঝাতে চান, ইতিহাস প্রমাণ করেছে—অধিকার আদায় আন্দোলনের মাধ্যমেই সম্ভব। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই প্রসঙ্গ আনার অর্থ, তিনি তাঁর দলীয় সমর্থক ও জনজাতি সমাজকে নতুন করে উদ্বুদ্ধ করতে চাইছেন। তবে তাঁর বক্তব্য শুধু জনজাতি অধিকারের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি দাবি করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মৌখিকভাবে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সমস্যার সমাধান হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি তিপ্রা মথার একটি চাপ সৃষ্টির কৌশল, যাতে দলীয় অবস্থান স্পষ্টভাবে বিজেপির ছায়ায় ঢেকে না যায় এবং আলাদা রাজনৈতিক সত্তা বজায় থাকে। প্রদ্যুতের এই কৌশল তাঁকে সরকারের অংশীদার হয়েও সরকারের সমালোচক হিসেবে তুলে ধরে। এর ফলে তিনি দ্বৈত ভূমিকা পালন করছেন—ক্ষমতার ভেতরে থেকেও বিরোধিতার সুর তোলা। ভাষণে ব্যক্তিগত আক্রমণের সুরও স্পষ্ট ছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, সিপিএম তাঁর বাবাকে মেরে ফেলেছে ও পরিবারের সম্পত্তি দখল করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দীর্ঘদিনের বাম-বিরোধী জনমতের সঙ্গে সাযুজ্য রাখে। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছেন, জাতির স্বার্থে জেল যেতেও তিনি প্রস্তুত। এই বার্তা তাঁর সমর্থকদের কাছে আত্মত্যাগ ও সংগ্রামী চরিত্রের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও মজবুত করবে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, সরকারে থেকেও সরকারের নীতি সমালোচনা করলে এর প্রভাব কী দাঁড়াবে? রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রদ্যুতের বক্তব্য বিজেপির সঙ্গে তিপ্রা মথার সম্পর্ককে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। বিজেপি একদিকে উপজাতি সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে, অন্যদিকে প্রদ্যুতের এই অবস্থান সেই প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে প্রদ্যুৎ জানেন, যদি তিনি সম্পূর্ণভাবে নরম অবস্থান নেন, তবে তিপ্রা মথার জনভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই তিনি একদিকে ক্ষমতার অংশীদার, অন্যদিকে বিরোধিতার কণ্ঠস্বর—এই দ্বৈত কৌশল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রদ্যুতের এই বক্তৃতা শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে না, বরং ত্রিপুরার ভবিষ্যৎ রাজনীতির সমীকরণেও পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ, তাঁর বক্তব্যে উপজাতি স্বার্থরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, ইতিহাসের পুনরুল্লেখ এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ সব মিলিয়ে এক জটিল রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। এটি ত্রিপুরার জনজাতি-বাঙালি সম্পর্ক, রাজ্যের স্থিতিশীলতা এবং বিজেপি-তিপ্রা মথা জোটের ভবিষ্যৎ—সব কিছুকেই নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সংক্ষেপে, প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের দিল্লির যন্তর মন্তরের ভাষণ রাজনীতির মঞ্চে একদিকে আবেগ, অন্যদিকে কৌশলের প্রকাশ। জনজাতি সমাজকে একত্রিত রাখার প্রচেষ্টা যেমন রয়েছে, তেমনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টির কৌশলও স্পষ্ট। আর এই দ্বিমুখী অবস্থানই তাঁকে রাজ্যের রাজনৈতিক দাবা খেলার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে টিকিয়ে রাখছে।
স্টাফ রিপোর্টার, শিরোনামে ত্রিপুরা।।ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে প্রদেশ সভাপতি নির্বাচনের প্রশ্নে। কে হবেন নতুন সভাপতি, তা নিয়ে দলে চলছে তুমুল জল্পনা। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত শুধু সাংগঠনিক দিক থেকে নয়, ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। দলীয় মহলে শোনা যাচ্ছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবের নাম সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। বিপ্লব অনুরাগীদের মতে, রাজ্যে বামের দুর্গ ভাঙতে যিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁর হাতেই আবার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। তাঁদের দাবি, “ত্রিপুরার মুক্তিদাতা” বিপ্লব কুমার দেবই রাজ্যের সংগঠনকে নতুন করে উজ্জীবিত করতে সক্ষম। তবে সমীকরণ এতটা সহজ নয়। প্রদেশ সভাপতি হিসেবে বিপ্লবকে ফেরানো নিয়ে দলের ভেতরেই অনেকে আপত্তি তুলেছেন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলীয় কাঠামোয় ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টেছে। বিপ্লব ঘনিষ্ঠদের একাংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লেও মানিকপন্থীরা নানা ক্ষেত্রে প্রভাব বাড়িয়েছে। ফলে এখন রাজ্য বিজেপি কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত—মানিক অনুগামী বনাম বিপ্লব অনুগামী। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজর মূলত সাংগঠনিক স্থিতিশীলতার দিকে। সূত্রের খবর, দিল্লি চাইছে সভাপতি পদে এমন কাউকে বসাতে যিনি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমিয়ে আনতে পারবেন। এজন্যই নতুন মুখের সম্ভাবনা জোরদার। আলোচনায় রয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক এবং সাংসদ রেবতী ত্রিপুরার নাম। এছাড়া সংগঠনের অভিজ্ঞ নেতা তাপস মজুমদার এবং অসীম ভট্টাচার্যের নামও শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রদেশ সভাপতি নির্বাচন অনেকটা ২০২৮ সালের রণকৌশলের প্রথম ধাপ। গত লোকসভা ভোটে বিজেপি আগের মতো শক্তিশালী ফল করতে পারেনি। তাছাড়া রাজ্যের ক্ষমতায় এখন জোট সরকার, যার স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ফলে বিজেপি চাইছে এমন একজন সভাপতি যিনি মাটির স্তরে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারবেন এবং বিরোধী শিবিরে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। সব মিলিয়ে, ত্রিপুরা বিজেপির সভাপতি নির্বাচন শুধু সাংগঠনিক পদবদল নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণেরও বড় ইঙ্গিত। আগামী কয়েক সপ্তাহে দিল্লি থেকে এই নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তখনই স্পষ্ট হবে—বিপ্লব কুমার দেব কি আবার ফোকাসে ফিরছেন, নাকি উঠে আসবে একেবারে নতুন কোনো মুখ।
স্টাফ রিপোর্টার।।ত্রিপুরার এডিসি এলাকাসহ গোটা জনজাতি অঞ্চলের অবহেলিত পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল রায়। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সময় ষষ্ঠ তফসিল এনে দিয়েছিল ত্রিপুরার উপজাতিদের জন্য। সেই সময় তৎকালীন রাজ্য সরকার ও এক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল, যাতে উপজাতিদের অধিকার, ক্ষমতা এবং নিজস্ব শাসনের কথা স্বীকার করা হয়েছিল।" তবে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সেই ঐতিহাসিক চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বলেই অভিযোগ গোপাল রায়ের। তাঁর মতে, এখনকার সময়ে ত্রিপুরার এডিসি এলাকায় চরম আর্থিক সংকট চলছে। "এডিসি-র বহু কর্মচারী অবসর নেওয়ার পরেও পেনশন পাচ্ছেন না, কারণ পরিষদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। উপজাতিদের হাতে কাজ নেই, অর্থ নেই। অথচ বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্য প্যাকেজ সুবিধা পাচ্ছে। ত্রিপুরা সবচেয়ে প্রান্তিক রাজ্য হয়েও কেন কেন্দ্রীয় সহায়তা পাচ্ছে না?" — প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিধায়কের দাবি, সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় পরিস্থিতি এখন ত্রিপুরার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। "দিল্লিতে যদি কোনো পণ্যের দাম হয় ১০০ টাকা, ত্রিপুরায় সেটাই কিনতে হচ্ছে ১৪০ টাকায়। তাহলে কেন এখানে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে না?" প্রশ্ন রাখেন তিনি।সরকারের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন গোপাল রায়। তিনি বলেন, “এই যে সাধারণ মানুষের দুর্দশা, তার পক্ষে সরকারকে কথা বলা উচিত ছিল। সরকার তো বলে তারা ডাবল ইঞ্জিন সরকার। অথচ কোথায় সেই উন্নয়ন? সরকার বলেছিল ১৫ লক্ষ টাকা অটোমেটিক ব্যাংকে ঢুকবে, ২ কোটি চাকরি হবে। কোথায় সেই চাকরি? কোথায় সেই টাকাপয়সা?” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি পুরনো বক্তব্য উল্লেখ করে গোপাল রায় বলেন, “২০১৭ সালে মুম্বইয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহ স্বীকার করেছিলেন নির্বাচনের আগে কিছু কিছু 'জুমলা' দেওয়া হয়, অর্থাৎ মিথ্যে প্রতিশ্রুতি। সেখান থেকেই ‘জুমলা’ শব্দটি ভারতে রাজনৈতিক প্রতারণার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।” বিধায়ক স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার কেবলমাত্র প্রতারণা করছে জনগণের সঙ্গে। "আমরা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি, মানুষের স্বার্থে লড়ছি। আমরা চাই এমন এক সরকার, যারা সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবে।" তিনি বলেন, “ত্রিপুরা এবং এর উপজাতি অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন চায়, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায়। সরকারকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে, কেবল প্রচার নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ।”বিধায়ক গোপাল রায়ের বক্তব্যে স্পষ্ট, ত্রিপুরার সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যার সমাধান এবং অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে তয় এখন সময় দাবি করে বাস্তব পদক্ষেপের। না হলে মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ রাজনৈতিক অনাস্থার বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।
রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।
রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।
স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর উদয়পুরের মাতা বাড়িতে কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।
আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।