ত্রিপুরার রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে অনন্ত দেববর্মার দলবদল। বিজেপি শিবিরে যোগ দেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই পুনরায় তিপ্রা মথায় প্রত্যাবর্তন ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। জানা গেছে, তিনি রাজবাড়ীতে গিয়ে Pradyot Kishore Debbarma-এর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পরে তাকে পুনরায় দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক অসন্তোষের ইঙ্গিত বহন করছে। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অনন্ত দেববর্মার হঠাৎ প্রত্যাবর্তন থেকে অনুমান করা হচ্ছে, দলটির দুর্বলতা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে এবং নেতাদের মধ্যে আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। সূত্রের খবর, আরও কয়েকজন জনজাতি নেতাও শীঘ্রই একই পথে হাঁটতে পারেন।
এদিকে, এডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে দলবদলের প্রবণতা চোখে পড়ছে। তিপ্রা মথার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং জনজাতি ভোটব্যাঙ্কে তাদের শক্ত অবস্থান বিজেপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে এই ধরনের দলবদল রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে এই বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, দলে কোনো ভাঙন নেই এবং কিছু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে, তিপ্রা মথা শিবির এই ঘটনাকে তাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে।
সব মিলিয়ে, ত্রিপুরার রাজনীতিতে দলবদল এখন নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।
রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।
রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।
স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর উদয়পুরের মাতা বাড়িতে কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।
আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।
ত্রিপুরা রাজনীতিতে একসময় অত্যন্ত আলোচিত মুখ ছিলেন সুবল ভৌমিক। কিন্তু প্রদেশ বিজেপির সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবারও তাঁর নাম উপেক্ষিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরেই সভাপতি পদ নিয়ে নানা জল্পনা চললেও শেষ পর্যন্ত দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা গিয়েছে অভিষেক দেবরায়-এর উপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সুবল ভৌমিকের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তাঁর বারবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, তৃণমূল থেকে বিজেপি, পরে বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব এবং পুনরায় রাজনৈতিক সমীকরণে সক্রিয় হওয়ার ঘটনাগুলি তাঁকে একজন স্থায়ী সাংগঠনিক নেতার বদলে “স্বতন্ত্র রাজনৈতিক চরিত্র” হিসেবেই বেশি তুলে ধরেছে। ফলে বিজেপির মতো সংগঠননির্ভর দলে শীর্ষ সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছে একাংশ। অন্যদিকে, বিজেপি বর্তমানে ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও সংগঠনভিত্তিক নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই কারণেই বুথস্তর থেকে উঠে আসা অভিষেক দেবরায়ের উপর দলের ভরসা বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। তবে সুবল ভৌমিকের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে, এমনটা বলতেও নারাজ পর্যবেক্ষকরা। রাজ্যের রাজনীতিতে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং জনসংযোগ এখনও উল্লেখযোগ্য। কিন্তু ভবিষ্যতে তিনি কোন রাজনৈতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান শক্ত করবেন, নাকি আবারও নতুন কোনও সমীকরণের অংশ হবেন—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। সব মিলিয়ে, সভাপতি পদ হাতছাড়া হওয়া সুবল ভৌমিকের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তবে ত্রিপুরার রাজনীতিতে তিনি এখনও এক অনিশ্চিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, যার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
ত্রিপুরার রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে অনন্ত দেববর্মার দলবদল। বিজেপি শিবিরে যোগ দেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই পুনরায় তিপ্রা মথায় প্রত্যাবর্তন ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। জানা গেছে, তিনি রাজবাড়ীতে গিয়ে Pradyot Kishore Debbarma-এর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পরে তাকে পুনরায় দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক অসন্তোষের ইঙ্গিত বহন করছে। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অনন্ত দেববর্মার হঠাৎ প্রত্যাবর্তন থেকে অনুমান করা হচ্ছে, দলটির দুর্বলতা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে এবং নেতাদের মধ্যে আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। সূত্রের খবর, আরও কয়েকজন জনজাতি নেতাও শীঘ্রই একই পথে হাঁটতে পারেন। এদিকে, এডিসি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে দলবদলের প্রবণতা চোখে পড়ছে। তিপ্রা মথার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং জনজাতি ভোটব্যাঙ্কে তাদের শক্ত অবস্থান বিজেপির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে এই ধরনের দলবদল রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে এই বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, দলে কোনো ভাঙন নেই এবং কিছু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে, তিপ্রা মথা শিবির এই ঘটনাকে তাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। সব মিলিয়ে, ত্রিপুরার রাজনীতিতে দলবদল এখন নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দেবাশিস দেব।।ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কের সুর চড়িয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচনের ফলাফল স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল নয়, বরং একটি “পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক স্ক্রিপ্ট”-এর অংশ। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে দিল্লিতে বসেই এই সমীকরণ তৈরি হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী মাঠে বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রবীর চক্রবর্তীর বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা নিজেই তিপ্রা মথার নেতা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের জন্য জয়ের পথ সুগম করে দিয়েছেন। এই অভিযোগ নিছক রাজনৈতিক আক্রমণ হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে থাকা বার্তা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি এবং তিপ্রা মথার মধ্যে সরাসরি বা পরোক্ষ সমঝোতার ফলেই এই ফলাফল সম্ভব হয়েছে, যার ফলে কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী শক্তি কার্যত প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর ছিল জনজাতি আবেগের রাজনৈতিক ব্যবহার। প্রবীর চক্রবর্তীও সেই বিষয়টিকেই সামনে এনে বলেন, প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জনজাতিদের আত্মপরিচয় ও অধিকার সংক্রান্ত আবেগকে কাজে লাগিয়েছেন। এর ফলে উন্নয়ন, দুর্নীতি বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। বিশেষ করে এডিসিতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তা নির্বাচনের কেন্দ্রীয় আলোচনায় স্থান পায়নি—এটিকে কংগ্রেস বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছে। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের বক্তব্য, নির্বাচনটি মূলত “পরিচয়ের রাজনীতি” বনাম “প্রশাসনিক জবাবদিহিতা”-র লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল, যেখানে প্রথমটি স্পষ্টভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশও মনে করছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে এই ধরণের পরিচয়ভিত্তিক সমীকরণ নতুন নয়, তবে এবারের এডিসি নির্বাচনে তা আরও তীব্রভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হল, কংগ্রেস এই ফলাফলকে ভবিষ্যৎ বিধানসভা নির্বাচনের একটি পূর্বাভাস হিসেবে দেখছে। প্রবীর চক্রবর্তী স্পষ্টভাবে বলেন, এই ফলাফল মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। তাঁর মতে, যদি বিজেপি একই কৌশল অবলম্বন করে চলে, তাহলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ, একদিকে তিপ্রা মথার মতো আঞ্চলিক শক্তি জনজাতি এলাকায় নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করছে, অন্যদিকে বিজেপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাঙ্কেও ভাঙন ধরার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি বা তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, কংগ্রেসের এই অভিযোগ মূলত নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকার একটি প্রচেষ্টা। কারণ, বাস্তবে কংগ্রেস এখনও পাহাড়ি এলাকায় শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পারেনি, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। সব মিলিয়ে, এডিসি নির্বাচন ২০২৬ শুধু একটি স্থানীয় নির্বাচন নয়, বরং ত্রিপুরার বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে। পরিচয় রাজনীতি, আঞ্চলিক শক্তির উত্থান এবং জাতীয় দলগুলির কৌশলগত অবস্থান—এই তিনটি উপাদান আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিকে কোন পথে নিয়ে যাবে, তা এখনই স্পষ্ট না হলেও এই নির্বাচনের ফলাফল যে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।