অপরাধ

রাজ্যে মাদকের ছোবল কম বয়সী তরুণদের ভবিষ্যৎও কেড়ে নিচ্ছে!

Admin আগস্ট ৭, ২০২৫ 0

 রাজ্য জুড়ে, বিশেষত আগরতলা শহরে, এখন শুধু প্রাপ্তবয়স্করাই নয় শূন্য থেকে আঠারো বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরাও ব্রাউন সুগার, ইয়াবা, গাঁজা এমনকি হেরোইনের মতো মারাত্মক নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। ইউটিউব এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ‘গাইড’ দেখে তারা শিখে নিচ্ছে কীভাবে সেবন করতে হয় এই সব নেশাদ্রব্য। অবাক করা বিষয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা স্কুলপড়ুয়া এবং বনেদী পরিবারের সন্তান।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, আগরতলার বেশ কিছু নামীদামী ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যম স্কুলের ছাত্ররাই বিকেল বেলা প্রাইভেট পড়ার নাম করে নির্জন স্থানে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নেশার আসর বসাচ্ছে। এমনকি এই কিশোররাই এখন বাইক, স্কুটি, এমনকি পারিবারিক গাড়িও চালিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর সন্ধ্যা নামতেই আশ্রয় নিচ্ছে এমবিবি কলেজ মাঠ, খয়েরপুর, আমতলী বাইপাস সড়ক, জিবি থেকে বনিক্য চৌমুহনী পর্যন্ত অঞ্চল, বিভিন্ন সরকারি শপিং মলের নির্জন প্রান্ত ও শহরের পার্কগুলোতে।

তথ্য বলছে, এই তরুণদের মধ্যে মেয়ের সংখ্যাও বাড়ছে, যদিও ছেলেরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ভয়ংকর বিষয় হলো, এই বয়সে মস্তিষ্কের বিকাশ চলছে এবং সেখানে নেশা ঢুকে পড়লে ভবিষ্যতের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কোনো সীমা থাকে না। শহরের বেশ কিছু মা-বাবা ইতিমধ্যেই সন্তানদের আচরণে পরিবর্তন দেখে নেশামুক্তি কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন, কাউন্সেলিংয়ের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছেন। কিন্তু সংখ্যাটা নেহাতই অল্প।পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা পাচার ও সেবনের বিষয়ে যখনই কোনো তথ্য পাচ্ছি, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা আসক্ত, তাদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে কড়া আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে, যাতে অনেকে ভয় পায়।”
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা সম্প্রতি স্কুলে নেশা বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষকদের ১০ মিনিট করে প্রতিদিন আলোচনা করার নির্দেশ দিলেও, বেশিরভাগ স্কুল সেই নির্দেশকে পাত্তাই দিচ্ছে না। হাতে গোনা কয়েকটি স্কুলে এই সচেতনতা কার্যক্রম দেখা গেলেও, অধিকাংশ স্কুলই গা-ছাড়া মনোভাব নিয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষানবিশ অভিভাবকদের।
সমাজতাত্ত্বিকদের মতে, এই ধরণের সমস্যা পরিবার, সমাজ এবং প্রশাসনের সম্মিলিত ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই নয়। শুধুমাত্র পুলিশি অভিযান বা নির্দেশ দিলেই সমাধান সম্ভব নয়—প্রয়োজন ধারাবাহিক সচেতনতা, খোলামেলা পারিবারিক আলোচনা এবং শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা। রাজ্যের সমাজ আজ এক কঠিন সংকটে দাঁড়িয়ে। যদি এখনই সম্মিলিতভাবে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে এই প্রজন্ম হারিয়ে যাবে নেশার অন্ধকারে। প্রশাসন, পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সবার সম্মিলিত চেষ্টায়ই কেবল রক্ষা করা সম্ভব আমাদের আগামী প্রজন্মকে।

Popular post
একটি অনুষ্ঠানের জন্য বলিউডের সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল কত টাকা নেন জানুন

স্টাফ রিপোর্টার।।বলিউডের জনপ্রিয় প্লেব্যাক সিঙ্গার জুবিন নটিয়াল অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বড় মাপের কনসার্ট, কর্পোরেট ইভেন্ট বা মেগা শোতে অংশ নিতে সাধারণত ৬০ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকার মধ্যে ফি দাবি করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। তবে অনুষ্ঠানের ধরণ, স্থান, সময় এবং দর্শকসংখ্যা অনুসারে তার পারিশ্রমিকে কিছুটা ওঠানামা দেখা যায়। ছোট বা মাঝারি আকারের ইভেন্টে জুবিন নটিয়ালের ফি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে, যা প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে সীমিত থাকে। গান পরিবেশনার পাশাপাশি তার যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা, ব্যাকিং ব্যান্ড ও মিউজিক সেটআপের অতিরিক্ত খরচও আয়োজকদের বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে জুবিন নটিয়াল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সফল লাইভ শো করেছেন, ফলে তার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে। আয়োজকদের মতে, জনপ্রিয়তা ও দর্শক টানার সক্ষমতার কারণে বড় কোনো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করলে জুবিন নটিয়াল এখন অন্যতম পছন্দের শিল্পী।

আগরতলায় দেহ ব্যবসা ও মাদকের বিস্তার: নীরব দর্শক কি প্রশাসন?

রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন–পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রকাশ্যেই এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব চললেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পূর্ব থানার আশপাশে কয়েকটি হোটেলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত যুবতীদের মাদক সেবনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি। মঠ চৌমুহনী ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন একটি হোটেলে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে হোটেল কর্তৃপক্ষের একাংশও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার এলাকায় ইয়াবা ও ব্রাউন সুগারের মতো মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির কথাও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। আইজিএম হাসপাতালের আশপাশ, বটতলা ব্রিজ, নাগেরজলা বাজারের মুখ—এই সব জায়গায় মাদক লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বটতলা ফ্লাইওভারের কাছাকাছি কয়েকটি হোটেল, মিলন চক্র এলাকার একটি স্পা সেন্টার, কৃষ্ণনগর ও জয়নগরের কিছু বিউটি পার্লার—এসব জায়গায় দেহ ব্যবসার বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, নাবালিকাদেরও এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন বহুতল শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অনলাইনের মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করে এই ব্যবসা চালানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। ত্রিপুরা ও কলকাতার কিছু চক্র নেটওয়ার্ক তৈরি করে মেয়েদের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পাঠাচ্ছে বলে দাবি। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী ভাড়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে আগরতলায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অতীতে পুলিশ প্রশাসনের কিছু উদ্যোগে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপে সাময়িক লাগাম পড়েছিল। কৃষ্ণনগর এলাকার কয়েকটি স্পা ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে একসময় একাধিক যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকদের নেতৃত্বে উদ্ধার হয়েছিল ব্রাউন সুগারের প্যাকেট, নেশার সিরিঞ্জসহ নানা সামগ্রী। সেই সময় কঠোর পদক্ষেপের ফলে কিছু এলাকায় এই ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় নেই বলে অভিযোগ উঠছে। নাগরিকদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কি কমে গেছে? নাকি অন্য কোনও কারণে এই চক্রগুলি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু নারী–যুবতী অর্থের প্রলোভনে এই কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহ ও অপরাধচক্রের প্রভাব মিলিয়ে বহু পরিবার ভাঙনের মুখে পড়ছে। শুধু আগরতলা নয়, বিশালগড়, সোনামুড়া, রানীরবাজার, জিরানিয়া, বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও মেয়েদের এনে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শহরবাসীর সরল প্রশ্ন—“এসব দেখবে কে?” পুলিশ কি কেবল অভিযোগ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি কঠোর অভিযান চালিয়ে অপরাধচক্র ভেঙে দেবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের সক্রিয়তা ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, তরুণ প্রজন্মের বিপথগামিতা এবং মাদকাসক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে আগরতলার সামনে বড় সামাজিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা দৃঢ়তার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।

“পাঁচ কোটির প্রতারণা! অভিযুক্তের স্বামী পুলিশ কনস্টেবল, তদন্তে উঠছে প্রশ্ন”

রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।

স্বামীর নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা ও মানহানির অভিযোগ—ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ গৃহবধূ সুস্মিতা

স্টাফ রিপোর্টার।। রাজধানীর পটুনগর এলাকার বাসিন্দা সুস্মিতা সাহা স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টা ও মানহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর  উদয়পুরের মাতা বাড়িতে  কালিবাজার নোয়াগাঁও এলাকার  বাসিন্দা সুমন বর্মন (যিনি পেশায় বন্ধন ব্যাংকের কর্মচারী )সঙ্গে তার  বিয়ে হয়। তার পর থেকেই তিনি নিয়মিত স্বামী, শাশুড়ি প্রতিমা বর্মন এবং দেওর সায়ন বর্মনের অত্যাচারের শিকার হন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তাকে গর্ভপাতেও বাধ্য করা হয়। বলেন, মাত্র তিন–চার মাসের গর্ভাবস্থায় তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অত্যাচারের জেরে তিনি লেফুঙ্গা থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পরে কাকড়াবন তার মামার বাড়িতে দু’পক্ষের মধ্যে আপাত সমঝোতা হয়। অভিযোগ, এরপর স্বামী তাকে ঘর ভাড়া নিয়ে আলাদাভাবে থাকার কথা বলে। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতেই পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। সুস্মিতার অভিযোগ, সেদিন স্বামী সুমন তাকে বাইকে তুলে নিয়ে যায় এবং উদয়পুর বেলতলীতে তার বোনের বাড়ির সামনে একটি নীরব স্থানে বাইক থেকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। সেখানে তার কানে, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য এই জায়গায় অভিযুক্ত স্বামী সহ তার বড় বোন পারুলি দাস বর্মন জড়িত ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিল স্বামীর ভাই সায়ন বর্মন। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্ল্যান সাজিয়ে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। ‌ রক্তাক্ত অবস্থায় টেপানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি পর নির্যাতিতা সুস্মিতার তরফে সোমা রানী সাহা আর কে পুর মহিলা থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযোগ ঘটনার পর থেকে থানায় উপস্থিত হলেও, পুলিশ কয়দিন ধরে জমাকৃত অভিযোগের রিসিভ কপি দিতে টালবাহানা করে, পরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরায় গোমতী পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের নজরে আসে বিষয়টি এবং এরপরই তিনি জমাকৃত অভিযোগ পত্রের রিসিভ কপি পান। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেছেন এমন একটা ভয়ংকর নির্যাতন কান্ডে যদি অভিযুক্তরা ছাড়া পায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাস্তবে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ যথাসময়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন সেখানে প্রথম থেকেই এই মামলায় পুলিশি তালবাহানা নিয়ে কিন্তু নানান প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে উদয়পুরের সাংবাদিক মহল এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। এছাড়া, বামুটিয়া এলাকার একটি ফেসবুক পেজ মারফত তাঁর ব্যক্তিগত অতীত ইতিহাস টেনে তাকে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুস্মিতা। এতে তাঁর মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি দাবী করেছেন শুধুমাত্র একতরফা অভিযোগগুলি আনা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের যোগ সাজস রয়েছে। তিনি বলেছেন যে কোন সংবাদ মাধ্যমের উচিত বাস্তব তথ্য এবং সত্য তুলে ধরা। এটাই হচ্ছে গণমাধ্যমের আসল কর্তব্য কিন্তু এখানে একতরফা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত কুৎসা রটানো হচ্ছে। সমস্ত ঘটনার ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা সুস্মিতা সাহা। যদিও তিনি চাইছেন যে তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে কিন্তু বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন গুণধর এই স্বামী ইতিমধ্যেই অন্য এক মহিলার  সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।গোটা বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত সহ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিতা এই গৃহবধূ।

সাইকেলের ঘণ্টা থেমে গেল: ‘পচা আচার’-এর জয়ন্ত রায় আর নেই

আগরতলার রাস্তায় এক পরিচিত মুখ আজ আর নেই। সাইকেলের ঘণ্টাধ্বনি আর সেই অনন্য ডাক—“পচা আচার”—চিরতরে থেমে গেল জয়ন্ত রায়ের মৃত্যুর সঙ্গে। শনিবার মোহনপুর বাইপাসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যার জীবনসংগ্রাম ছিল অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। বহু বছর ধরে আগরতলা শহর ও আশপাশ এলাকায় নিজের হাতে তৈরি “পচা আচার” বিক্রি করতেন জয়ন্ত রায়। নামটি যতই অদ্ভুত হোক, তার আচারের স্বাদ ছিল মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো। প্রতিদিন সাইকেলে চেপে তিনি শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াতেন, আর তার উপস্থিতি যেন এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল শহরের বুকে। জানা যায়, সিধাই মোহনপুরে মেয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও শেষরক্ষা হয়নি—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যু হয় তার। এই আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার-পরিজন ছাড়াও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অসংখ্য ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীরা। অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন জয়ন্ত রায়। নিজের পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ক্ষুদ্র ব্যবসাও হতে পারে সম্মানের পথ। তার সংগ্রামী জীবন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সততা আজও অনেকের কাছে পথ দেখাবে। পশ্চিম ভুবনবন এলাকার আকাশে আজ যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক সাধারণ মানুষ হয়েও অসাধারণ হয়ে ওঠা জয়ন্ত রায়ের এই বিদায় শহরের বুকে রেখে গেল এক অপূরণীয় শূন্যতা।

অপরাধ

View more
বাইপাস রোডের সাধনা হোটেলে পুলিশের হানা, বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উদ্ধার, আটক মালিক অজিত দাস

প্রভাবশালীর হোটেলে পুলিশের হানা, বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উদ্ধার, আটক মালিক অজিত দাস আগরতলার পূর্ব থানার অন্তর্গত রবীন্দ্রনগর সংলগ্ন বাইপাস সড়কের পাশে অবস্থিত সাধনা হোটেলে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ উদ্ধার এবং হোটেলের মালিক অজিত দাসকে আটক করার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানের পর এলাকাজুড়ে অবৈধ মদের কারবার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাধনা হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দেশি ও বিদেশি মদের ব্যবসা চলছিল বলে অভিযোগ ছিল। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ সেখানে আসতেন এবং মদ কেনাবেচা ও মদ্যপানের আসর বসত বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বাইপাস সড়ক সংলগ্ন হওয়ায় হোটেলটিতে সহজেই বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াত ছিল এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের মালিক অজিত দাস স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এলাকায় বিভিন্ন মহলে তার যোগাযোগ থাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্রের খবর, সম্প্রতি সাধনা হোটেলে অবৈধ মদের ব্যবসা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের কাছে পৌঁছায়। রবিবার বিষয়টি পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক এবং সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায়ের নজরে আসে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায়ের নির্দেশে পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ এবং টিএসআর বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। রবিবার দুপুরে পুলিশ বাহিনী হঠাৎ করেই সাধনা হোটেলে পৌঁছে চারদিক ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হোটেলে থাকা অনেকেই সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। অভিযানকারী দল হোটেলের প্রতিটি কক্ষ, গুদামঘর এবং অন্যান্য অংশে তল্লাশি চালায়। দীর্ঘক্ষণ অনুসন্ধানের পর হোটেলের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ এবং কয়েকটি বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মদের পরিমাণ সম্পর্কে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে সূত্রের দাবি, পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তল্লাশির এক পর্যায়ে হোটেলের একটি কোণে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় মালিক অজিত দাসকে আটক করা হয়। পরে তাকে পূর্ব আগরতলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, সে বিষয়েও তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, অবৈধ মদ ব্যবসার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শুধু সাধনা হোটেল নয়, ভবিষ্যতে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখে আইন প্রয়োগে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। এদিকে এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে অবৈধ মদের কারবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড সামাজিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পূর্ব আগরতলা থানা সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং হোটেল মালিক অজিত দাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

Admin মে ৩১, ২০২৬ 0
ইন্সপেক্টর রানা চ্যাটার্জী

পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার পরিচয়ে আলোচনায় পশ্চিম থানার ওসি রানা চ্যাটার্জী

প্রেম, ডি এম ম্যারেজ, তারপর নীরবতা: নতুন আইনে কী করতে পারেন প্রতারিত স্ত্রী?

“ডিগ্রির কালোবাজারে কোটি টাকার সাম্রাজ্য! প্রভাবের ছায়ায় বেঁচে যাচ্ছে কারা?”

শিলচরে প্রতারণার অভিযোগে বাড়ি সিল-মোহর, বাড়ী মালিক সত্যজিৎ শর্মা পলাতক

শিলচরের দাস কলোনির এক বাড়ির মালিক সত্যজিৎ শর্মার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে শিলচর  আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেলে ওই বাড়িটি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে সিল-মোহর করে তালাবদ্ধ করা হয়েছে। বায়নাকারী স্বপন ঘোষ অভিযোগ করেন ২০১৭–২০১৮ সালে অসুস্থতার অজুহাতে কয়েক দফায় নগদ গ্রহণ করে জমির আনুমানিক মূল্যের প্রায় তিন শতাংশ দাবি করেছিলেন; একই পদ্ধতিতে অন্যদের কাছেও অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুই বছরের বিচারপ্রক্রিয়ার পর আদালত নির্দেশ দিয়েছে সম্পত্তি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের হেফাজতে থাকবে। সত্যজিৎ বর্তমানে পলাতক; আদালত ও তদন্তকারী সংস্থা মালিকানা নির্ধারণে তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

Admin মে ২০, ২০২৬ 0

যারা কোটি কোটি টাকার মাদক কারবারি তারা এখনো অধরা !

জিবি হাসপাতালের ‘গোপন কক্ষ’-এ ধর্ষণের অভিযোগ: দেড় বছর পর মুখ খুললেন নির্যাতিতা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠল একাধিক প্রশ্ন

পৃথিবীর সবথেকে ভয়াবহ রেপ কেস আজমের রেপ কেসের(250 এর বেশি নাবালিকা ধর্ষিত )অবশেষে ফয়সালা শোনালেন বিচারক।

“পাঁচ কোটির প্রতারণা! অভিযুক্তের স্বামী পুলিশ কনস্টেবল, তদন্তে উঠছে প্রশ্ন”

রাজ্যে ফের সামনে এল কোটি কোটি টাকার প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমবাসার দুই মহিলা— সঞ্জনা দেববর্মা ও নন্দ রানী দেববর্মার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই রাজধানীর NCC থানায় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, প্রথমদিকে মোটা সুদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরে আচমকাই মোবাইল বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় অভিযুক্তরা। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কমপক্ষে কুড়ি প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে অভিযুক্তরা। তবে সূত্র জানাচ্ছে হাতিয়ার নেওয়ার টাকার অংকের পরিমান বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্র মারফত উঠে আসছে আরও বহু অভিযোগ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে শুধুই কি দুই মহিলা, নাকি রয়েছে আরও বড় কোনও চক্র? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে এনসিসি থানার তদন্তকারী পুলিশের ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্তরা উদ্বেগ তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমের সামনে। তারা অভিযোগ করেছেন ওই দুই মহিলাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং এক্ষেত্রে পুলিশ দায়সারা একটা মনোভাব বজায় রেখেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অভিযুক্ত নন্দ রানী দেববর্মার স্বামী পীযুষ দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের কর্মরত কনস্টেবল। যে পরিবারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববান হওয়ার কথা, সেই পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠায় বিস্ময় ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে জনমনে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রাজ্যে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ লুটে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ নয়, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন— এখন এটাই চাইছে সাধারণ মানুষ।

Admin মে ১৬, ২০২৬ 0
রাহুলের মা ও স্ত্রী

পুলিশি তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেন রাহুলের স্ত্রী এবং মা

মার্ক দেববর্মা

৩৬ লক্ষ টাকা ঘোটালা কাণ্ডে ধৃত ব্যাঙ্কের সহকারী ম্যানেজার, জোরদার জেরা পুলিশের

TSR কর্মী স্বামী ও সন্তানকে ফেলে যুবকের সঙ্গে উধাও গৃহবধূ, এক মাসেও খোঁজ নেই॥

0 Comments